Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রসঙ্গ রাজনীতি: সংবিধান, সংসদ ও আসন্ন নির্বাচন

প্রসঙ্গ রাজনীতি: সংবিধান, সংসদ ও আসন্ন নির্বাচন
ইকতেদার আহমেদ, ছবি: বার্তা২৪
ইকতেদার আহমেদ


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদের মেয়াদ হলো সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৫ বছর। যেদিন ৫ বছর অতিবাহিত হয় সেদিন আপনাআপনিই সংসদ ভেঙ্গে যায়, অবশ্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মেয়াদ অতিক্রান্তের পূর্বেই সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন। একজন সংসদ সদস্যকে তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হয় যদিও উক্ত মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বৃদ্ধি করতে পারেন।

সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী প্রবর্তন পরবর্তী মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা হয়েছে।

সংসদের সাধারণ নির্বাচন বিষয়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী যে বিধান ছিল তাতে মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান ছিল।

পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসান বা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো বিধায় নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন সংসদ সদস্যরা পদে বহাল থাকতেন না।
পঞ্চদশ সংশোধনীর দ্বারা নব প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী সংসদ মেয়াদ পূরণের ক্ষেত্রে তা ভেঙ্গে না দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে বিদ্যমান সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে ইচ্ছুক হলে তাদেরকে পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা প্রবর্তিত বিধানের ফলশ্রুতিতে সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ সংসদের মেয়াদ প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করতে পারেন না। একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া পরবর্তী সংবিধানে উল্লিখিত শপথ পাঠ ব্যতিরেকে সংসদ সদসরূপে কার্যভার গ্রহণের জন্য আইনানুগভাবে সিদ্ধ নন।

সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহবান করতে হয়। সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকার বিধান না থাকলেও মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠান পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠানের বিধান নেই। এ কারণে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তারা সংসদের কোনো কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

সংসদ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি রাষ্ট্রীয় তহবিলে রক্ষিত জনগণ প্রদত্ত কর হতে নির্বাহ করা হয়। সংসদ সদস্যদের কাজ হলো দেশ ও জনগণের কল্যাণে আইন প্রণয়ন এবং নিজ সংসদীয় এলাকা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করা। পঞ্চদশ সংশোধনী পরবর্তী একজন সংসদ সদস্যের বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি বহুলাংশে বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে তাঁরা পূর্বের তুলনায় বর্তমানে যে বর্ধিত বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি পাচ্ছেন তা হলো- বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার টাকা, বিমান দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে বীমার পরিমান ১০ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা ৩শ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৫০ টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫ লাখ টাকা, নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ মাসিক ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার টাকা এবং মাসিক পরিবহন ভাতা ৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭০ হাজার টাকা।

নবম সংসদ বহাল থাকাকালীন পঞ্চদশ সংশোধনী প্রবর্তিত হয়। পঞ্চদশ সংশোধনী প্রবর্তন পরবর্তী দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নবম সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। নবম সংসদের মেয়াদ ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ৫ বছর পূর্ণ হয়। সে নিরীখে দশম সংসদ নির্বাচনটি ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর হতে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানকালীন নবম সংসদে নির্বাচিত যে সকল সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তারা সকলে পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন। নবম সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বজর্ন করায় দলটির নবম সংসদে নির্বাচিত কোনো সদস্য দশম সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হননি। সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্জনের মুখে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের জন্য উন্মুক্ত ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিনশত সদস্য সমন্বয়ে এবং তাদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ৫০ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩৫০ সদস্য সমন্বয়ে সংসদ গঠিত হয়। কাজেই ২০১৪ সালে একটি প্রত্যক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন থেকে জাতি বঞ্চিত হয়েছে। সে বিবেচনায় সরকারও এবার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকেই হাঁটছে বলেই মনে হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন ৯০ দিন সময়ের মধ্যে নবম সংসদের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। নবম সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন সময়ে সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকলেও সে সময় নবম সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠান সাংবিধানিকভাবে বারিত থাকায় নির্বাচনটি অনুষ্ঠানকালীন কোনো অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি যদিও সে সময় সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকাবস্থায় যে সব সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তারা সবাই পূর্বের ন্যায় বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি নিয়েছেন।

দশম সংসদের ন্যায় একাদশ সংসদ নির্বাচন সংবিধানের বিদ্যমান বিধানাবলির আলোকে অনুষ্ঠিত হলে দশম সংসদে নির্বাচিত যে সকল সদস্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবেন তারা সকলে নবম সংসদের অনুরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ সদস্যদের ন্যায় পদে বহাল থাকাকালীন অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবেন। যে বিধানাবলির আলোকে নবম সংসদের যে সকল সদস্য দশম সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়াকালীন বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি আহরণ করেছিলেন দশম সংসদে নির্বাচিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ সদস্যগণও একই বিধানাবলির আলোকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণকালীন নির্ধারিত ৯০ দিন সময়কালে বেতন, ভাতা ও সুযোগসুবিধাদি আহরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী এরা সকলেই সংসদ সদস্য। এরা প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হলেও পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত মর্মে গণ্য হন না। উপরোক্ত পদধারীদের ন্যায় সংসদ সদস্যদের এরূপ ছাড় দেয়া হয়নি।

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ সকল প্রার্থীর জন্য সমসুযোগ সম্বলিত মাঠ অপরিহার্য। কিন্তু সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য নন (যেকোনো দলেরই হতে পারে) এমন দু’ধরণের ব্যক্তি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হলে সে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে। সরকার এ সুযোগ কেন দেবে?

বাংলাদেশ বা এর যে কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে বিপদের সম্মুখীন হলে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে জরুরি অবস্থান জারি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যুদ্ধাবস্থার বিদ্যমানতার জন্য ভেঙ্গে যাওয়া সংসদ পুনরাহবান করা প্রয়োজন সেক্ষেত্রে যে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল রাষ্ট্রপতি তা আহবান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শানুযায়ী কার্যটি সমাধা করতে হয়। সংবিধানের বিদ্যমান বিধানাবলি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী স্বীয় পদে বহাল থাকেন।

দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বল্প সংখ্যক মন্ত্রী সমন্বয়ে গঠিত সরকারের মন্ত্রীসভার সদস্যগণ সংসদ সদস্যদের ন্যায় পদে বহাল ছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের এক-দশমাংশ ব্যতীত অপর সবাই সংসদ সদস্য হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যগণ পদে বহাল থাকা অবস্থায় একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূল নির্বাচনের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায় সরকারের। সবদলের আস্থা অর্জন করতে হবে। এটি নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদের আকার-প্রকার নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে। সরকার হয়তো এটি ভাবছেও। তাই সরকার সংবিধান তথা রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এটাই কাম্য।


লেখক: সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

আপনার মতামত লিখুন :

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

জিএম কাদের কি পারবেন?

জিএম কাদের কি পারবেন?
এরশাদুল আলম প্রিন্স, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান থেকে দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের। দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জিএম কাদেরের উপস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ ঘোষণা দেন। এখন অপেক্ষা, জাপা জিএম কাদেরের নেতৃত্বকে কতটা সহজভাবে মেনে নেয়, সেটি দেখার।

জিএম কাদের প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারলে সেটা তার নিজের ও দলের পক্ষে একটি ইতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আসবে বলেই মনে হয়। তবে জিএম কাদের আপাতত সফল হোন বা না হোন, জাপার জন্য আগামী দিনের রাজনীতিতে একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বহাল থাকার লড়াইটা খুব সহজ হবে না। নিশ্চিতভাবেই দলের ভেতর ও বাইরে থেকে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আসবেই। তবে, সামগ্রীকভাবে দেশের রাজনীতির চালচিত্র কেমন যাবে, তার ওপর এটি অনেকটাই নির্ভর করে।

জাপায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়েই দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন দেখা গেছে। এমন টানাপোড়েন শুধু জাপায় নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতেও ছিল, এখনও আছে। যেকোনো বড় দলেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ‘পন্থী’রা শক্তিশালী থাকে। শক্তিহীনরা হয় টিকে থাকার চেষ্টা করেন, ধৈর্য ধরেন, না হয় এক সময় ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে ধীরে ধীরে ঝড়ে পড়েন। আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতা আজ দলে নেই। অনেকে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। কেউ পেরেছেন, কেউ পারেননি। বের হয়ে নতুন দল বা জোটে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিতেও এমন নজিরের অভাব নেই। বড় দলে নেতৃত্ব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে দলের ঐক্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। এতে দল ও নেতা উভয়ই লাভবান হয়। তা না হলে দলতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, দলের নেতারাও একসময় হারিয়ে যান। ১/১১ এর বিরাজনীতিকরণের রাজনীতিতে অনেকেই তথাকথিত সংস্কারপন্থী হয়েছেন। এতে না দলের, না নিজের লাভ হয়েছে। দুঃসময়ে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়াই রাজনীতিকের আসল পরীক্ষা। সুসময়ে সবাই মিছিলের সামনেই থাকে।

স্বাধীনতার পরে দেশের বড় তিনটি দলের ভাঙা-গড়াই আমরা দেখেছি। এর মধ্যে বিএনপি, ও জাপার জন্মই স্বাধীনতার পরে। তবে স্বাধীনতার পরে দলের ভাঙা-গড়ার সবচেয়ে বড় নজির জাসদের। এক সময় দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের একটি শ্রেণী বিশেষ করে ছাত্র সমাজের একটি অংশের কাছে কয়েকটি শব্দ খুব পরিচিত ছিল-পুঁজিবাদ, বিপ্লব, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, সর্বহারা, বিচ্যুতি, বুর্জোয়া, পেটি বুর্জোয়া, হঠকারিতা, বস্তুবাদ, লুটেরা, দ্বন্দ্ব, ধনিক-শ্রেণি, কায়েমী-স্বার্থবাদ ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলেতো কথাই নেই। মুখে মুখে এসব বুলি। বিশেষ করে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে এ শব্দগুলো জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই দেশের মেধাবী ছাত্রদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বামপন্থী হয়ে যায়। এরা রাজনৈতিক দল হিসেবে জাসদের ছাতার নীচে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে আবার মস্কো, পিকিং আরো নানা পন্থী ছিল। জাসদ শুরুর সে ইতিহাসও অর্ন্তদ্বন্দ্বেরই ইতিহাস, ছাত্রলীগের মধ্যে মেরুকরণের ইতিহাস। এরই মধ্যে নতুন আরেকটি শব্দ চালু হলো রাজনীতিতে। সেটি হলো বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্বপ্নেই ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ জাসদ গঠন করে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নানা ঘটনার পরম্পরায় জাসদ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর জিয়া ও এরশাদ আমলে জাসদের ভাঙ্গনের খতিয়ান আরও দীর্ঘ। মেজর জলীল, কাজী আরেফ আহমদ, মনিরুল ইসলাম, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ইনু, রব হয়ে জাসদ এখন বর্তমান সুরতে বহাল আছে। বর্তমানে এক দল এক নেতার দল জাসদ। এর মাঝে আছে একাধিক পন্থী। দলের মাঝে ঐক্য ধরে রাখার জন্য জাসদ নেতারা কম চেষ্টা করেননি। কিন্তু পারেননি। কারণ তারা নিজেরাই স্বার্থের দ্বন্দ্বে মরিয়া ছিলেন।

ছোট দলের জন্য দলের ঐক্য ধরে রাখা সব সময়ই কঠিন। সেটা জাসদ হোক বা জাপা। কারণ, রাজনীতিতে ঐক্যের মূল শক্তি ক্ষমতা অথবা আদর্শ। কিন্তু আমাদের এখানে আদর্শের ভীত বড় নড়বড়ে। আর নিজ শক্তিবলে এসব দলের ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটও রচনা হয়নি। ফলে, দলের নেতারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার জন্য ক্ষমতায় দৌড়ে অধিকতর কাছাকাকাছি থাকা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য করেছেন। এখানেই ছোট দলের ভাঙনের মূল কারণ নিহিত। এছাড়া অপরের নেতৃত্ব মেনে না নেয়ার সহজাত প্রবণতা মানুষের থাকেই। সেই সাথে আরেকটি বিষয় হলো এসব দলের বড় নেতা ও পরবর্তী ধাপের নেতাদের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারের মাঝে দৃশ্যমান তেমন বড় কোনো পার্থক্য নেই। ফলের ঐক্যের মূল ভিত্তি খুবই দূর্বল থাকে। রাজনৈতিক আদর্শ বাদ দিলেও, আওয়ামীর লীগের ঐক্যের ভিত্তি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার একথা অস্বীকার করা যাবে না। এখানে ঐক্যের একটি ‘পারিবারিক’ ভিত্তিও আছে।

জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের
জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের

 

বিএনপির ক্ষেত্রেও নেতাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি কখনো ক্ষমতায়া যাওয়ার আশা, সেই সাথে জিয়া পরিবার। এর বাইরে একটি রাজনৈতিক আদর্শতো কাজ করেই। এটি শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপির ক্ষেত্রে নয়, নয় শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। ভারতের কংগ্রেসের বর্তমান হাল হকিকত দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করেছেন দুই সপ্তাহ, কিন্তু দল এখনও নতুন নেতা নির্ধারণ করতে পারেনি। ব্যক্তি ও পারিবারিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে দলে পরবর্তী নেতৃত্বের পথ রচনা করার কাজটি এখনও শুরু হয়নি।

জাতীয় পার্টিতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যারা বের হয়ে গেছেন তারা নিজেরাই নেতা হয়ে একনেতা নির্ভর দল গঠন করেছেন। জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) (জেপি) ইত্যাদি নানা উপদলে ভাগ হয়েছে। আসলে এসব বিভক্তি ও ভাঙনের পেছনে কোনো আদর্শ কাজ করেনি। কাজ করেছে ক্ষমতা ও নগদ প্রাপ্তি।

গত এক দশকে জাপা বহুবার ভাঙনের মুখে পড়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে জাপায় কোন্দল চরমে পৌঁছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে বিরাজ করে তীব্র ক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব। একপক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছে আরেক পক্ষ চায়নি। এ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ডও হয়ে গেছে বহুবার। এর পেছনে শুধু দলের অর্ন্তকোন্দলই ছিল নাকি এর পেছনে আরও কারণ ছিল তা নিয়ে কথা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব বাইরে আসেনি, মানে দলে ভাঙন হয়নি।

তারপরও দলে আপাতত দুইটি গ্রুপ আছে। রওশন ও জিএম কাদেরপন্থী এ দু’টো গ্রুপ দলে বহুদিন ধরেই দৃশ্যমান। এনিয়ে এরশাদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও আদেশ জারি করেছেন। পরে আবার সেই আদেশ প্রত্যাখ্যানও করেছেন, করতে বাধ্য হয়েছেন।

গত নির্বাচনের আগে থেকেই এরশাদ অসুস্থ। বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। দলের ঐক্য বজায় রাখতে বা তার অবর্তমানে দল টিকিয়ে রাখতে কে হবেন জাপার পরবর্তী কর্ণধার, তা নিয়েও তার শঙ্কা ছিল। দলের একটি পক্ষ চেয়েছে রওশনকে সামনে নিয়ে আসতে, আরেক পক্ষ চেয়েছে জিএম কাদেরকে। এছাড়া আগে পরে অন্য পক্ষও সক্রিয় ছিল। তবে সর্বশেষ এই দুটি গ্রপই দৃশ্যমান ছিল। এরশাদ জানতেন হয়তো এ বিরোধ সহজে মিটবে না। তাই তিনি নিজের সম্পত্তি ওসিয়ত করে যাওয়ার পাশাপাশি দলের নেতৃত্বের বিষয়টিও ওসিয়তও করে গেছেন। এরশাদ জাপার গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে তার অবর্তমানে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে থাকাকালে ছোট ভাই দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

এর আগে তিনি কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করেছেন আবার সে আদেশ বাতিলও করেছেন। গত ১৪ জুন তার মৃত্যুর পাঁচদিনের মাথায় তার সেই ওসিয়তই পুরণ হলো। কারণ এরশাদ আজ অবর্তমান। তার অবর্তমানে আপাতত জিএম কাদের বর্তমান। দেখা যাক, এই বর্তমানকে জিএম কাদের ভবিষ্যতের কাছে নিয়ে যেতে পারেন কি-না। এই দিনকে তিনি সেই দিনের কাছে তিনি নিয়ে যেতে পারেন কিনা এটাই তার জন্য বড় পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় তিনি পাস করলে ফেল করার হাত থেকে হয়তো বেঁচে যেতে পারে জাপা।

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

আরও পড়ুন: রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র