কেন আওয়ামী লীগেই তরুণদের আস্থা?

ছবি: বার্তা২৪

সফিউল আযম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। এই জয়ে নবীন ভোটারদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নির্বাচনের আগেই অনুমান করা গিয়েছিল এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই হবে জয়ের ফ্যাক্টর। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল তরুণদের নিজেদের পক্ষে নিতে সমর্থ হয়।

আমরা দেখেছি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে দিনবদলের সনদ। যেখানে তরুণদের বিষয়টি অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। মূলত আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যে নতুনত্ব আনা হয়, দিন বদলের সনদের মতো ভিন্ন ধারণা তরুণদের সামনে উপস্থাপন হয়, সেটা পাল্টে দেয় সবকিছু।

নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তরুণদের আকর্ষণ করে। দেশের তরুণ ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে সফটওয়্যার শিল্প ও আইটি সার্ভিসের বিকাশ সাধন করা, ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও বেশ আলোচিত হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভও করে সরকার গঠন করে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নতুন ভোটার ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ। কিন্তু অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত সেসব আসনে নতুনদের একটা অংশ ভোট দিতে পারেনি। ফলে এবারের সংসদ নির্বাচনে এই তরুণরাও প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে নতুন ভোটারের সংখ্যাও বেশ বেড়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন এবং ২০০৮ সালে ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৩ হাজার ৪৭৭ জন।

এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখেছি তরুণদের স্বতস্ফূর্ততা। নৌকা প্রতীকের প্রতি তাদের আগ্রহ আমাকে আরো কৌতুহলী করে তোলে। খুব আগ্রহী হয়ে তরুণদের কাছ থেকে এই স্বত:স্ফূর্ততার কারণ জানতে চেয়েছি। অকপটে সবাই স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের তারুণ্যবান্ধব কার্যক্রমের বিষয়টি। বিশেষত: দেশকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা পদক্ষেপ এই প্রজন্মকে আলোড়িত করে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমটি তরুণ প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাবার প্রেরণা যুগিয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্ধাসেতু করার দু:সাহস দেখানোয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা দেখে আপ্লুত হয়েছি।

আরেকটি বিষয় কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা, যারা নতুন ভোটার, তারা যখন বুঝতে শিখেছে, অর্থ্যাৎ ২০১৪, ২০১৫ সালে তারা দেখেছে জীবিত মানুষ চোখের সামনে মরে যাবার ভয়াল দৃশ্য। সেই বিভৎস কার্যক্রম তরুণদের ভীত করে তোলে।

একথা অনস্বীকার্য যে, তরুণদের একটি বড় অংশ তরুণ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়, অনেকের কাছে রাজনীতি হয়তো পছন্দের বিষয়ও নয়, কিন্তু তাদের বড় অংশই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে আপোষহীণ, উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনের জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। দেশের তরুণদের আইকন ক্রিকেটার, শিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যিকদের ইতিবাচক আহবানে তরুণরা উজ্জ্বীবিত হয়। তাই এবারের নির্বাচন নিয়ে তরুণদের আগ্রহের কমতি ছিল না।

আমরা দেখেছি, নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণদেরই টার্গেট করেছিল আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা চেতনার বার্তা দিয়েছিল। টেলিভিশন, সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে জানানো হয়েছিল তরুণ সমাজ নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনার কথা। যা জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।

এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু তরুণ প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়, এটাও তরুণদের আকৃষ্ট করে। তরুণ ভোটাররা তরুণদের খোঁজেন, আদর্শিক মানুষ খোঁজেন। এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক প্রগতিশীল শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গণের আইডলরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফর্ম ক্রয় করেন, যা তরুণরা ইতিবাচকভাবে দেখে। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বোর্ড এই বিষয়টি মাথায় রেখে কিছু চমকও দেয়, যা তরুণদের মনস্থির করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এটাও আওয়ামী লীগের জয়ের অন্যতম কারণ।

তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যেখানে উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ প্রায় ১৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভিন্নধর্মী এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের অনুপ্রেরণা দিতে নিজের কৈশোর ও তারুণ্যের নানা বিষয় উপস্থাপন করেন, যা এই প্রজন্মের তরুণদের ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ শ্লোগান নিয়ে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তারুণ্যের জোয়ার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ বছর নেতৃত্ব দেবে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই যুব সমাজ। নেতৃত্বেও মসনদে থাকবে এই যুবসমাজ। সেই যুবসমাজকে আন্দোলিত করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। এর ধারাবাহিকতা রক্ষাও করবে আওয়ামী লীগ। জয় হোক তারুণ্যের।

সফিউল আযম: এডিটর ইন চিফ, ইয়ুথ জার্নাল।

যুক্তিতর্ক এর আরও খবর

রাজনীতির দুর্দিন

আমার ধারণা ছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়কে সামনে নিয়ে পরাজিত শক্তি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট তা...