মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান প্রশংসার দাবিদার, ছবি: সংগৃহীত

কণা ইসলাম, অতিথি লেখক, বার্তা২৪.কম

প্রবাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে আমরা সব সময় আলাপ-আলোচনা করি, তা হলো মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হলো- কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার সরকারি স্বীকৃতি। স্বীকৃতি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার যথাযথ মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ লক্ষে কাজও শুরু হয়েছে।

কওমি মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষা মনোভাবাপন্ন সব মানুষ এতে ভীষণভাবে প্রীত হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত ও অনন্য মহত উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টিকে সবাই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বিদেশের অনেকের মুখেই বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর এই মহত উদ্যোগের ভুল ব্যাখ্যা দিতে শুনেছি।

এমনিতেই আমরা ভালো কিছুকে বাঁকা চোখে দেখতে ওস্তাদ। ধারণা ও কল্পনা করে কাউকে নানা কথা বলে ফেলতেও আমাদের আটকায় না। অথচ ভালো একটি সিদ্ধান্তের ভুল ধারণা পোষণ করা বা ব্যাখ্যা দেওয়া কি ঠিক? এই প্রশ্নটি তাদের বিবেকের কাছে করা দরকার।

অনেকের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র জনসমর্থন বাড়াতে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কতটা উপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের বিরাট একটি অংশ মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাসী এবং নির্ভরশীল। এদেরকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা যায় না।

কারণ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিভাবে বলা চলে এ যাবৎকাল অবহেলিতই ছিল। এ পর্যন্ত কোনো সরকারকেই কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। ফলে কওমি শিক্ষাধারর সংশ্লিষ্টরা বলতে গেলে ছিলেন অনেকেটাই অবহেলিত, সামাজিকভাবে বঞ্চিত।

সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার সিদ্ধান্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য কতটা মঙ্গলময় এবং গুরুত্বপূর্ণ তা যে কোনো সচেতন মানুষ একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। একজন উদার ও বড় মনের নেতা হওয়ার কারণে তিনি সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন উপেক্ষা করে কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে এসেছেন। এসব সম্ভব হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী ছিলেন বলেই।

এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়া অসম্ভব নয়। দেশের জনসাধারণের একটি বড় অংশ সঠিক ও সুশিক্ষার সুযোগ সুবিধা না পেলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনটি কোনো দায়িত্বশীল, যোগ্য, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা মেনে নিতে পারেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনাও মেনে নেননি। তাই কওমি সনদের স্বীকৃতির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অতএব একে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। বরং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের সার্বিক মনোযোগ কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথা দেশের জন্য সার্বিক মঙ্গলে দিকে থাকা দরকার।

কারণ, ইসলাম শান্তি ও পবিত্রতার ধর্ম। কোনো রকম অন্যায় কাজ ইসলাম পরিপন্থী। কিছু মানুষের খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ইসলামকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্থানে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে পবিত্র ধর্মের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা অবহেলিত হলে সমাজের মানুষ ধর্মের অপব্যবহারকারীদের প্ররোচণায় পড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে হতেও দেখা যাচ্ছে। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলস্রোতে এনে বাংলাদেশে শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রকে আলোকিত ও বিকশিত করাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের মূলকথা।

কণা ইসলাম: জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেত্রী

যুক্তিতর্ক এর আরও খবর

রাজনীতির দুর্দিন

আমার ধারণা ছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়কে সামনে নিয়ে পরাজিত শক্তি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট তা...