Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান
মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান প্রশংসার দাবিদার, ছবি: সংগৃহীত
কণা ইসলাম
অতিথি লেখক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে আমরা সব সময় আলাপ-আলোচনা করি, তা হলো মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হলো- কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার সরকারি স্বীকৃতি। স্বীকৃতি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার যথাযথ মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ লক্ষে কাজও শুরু হয়েছে।

কওমি মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষা মনোভাবাপন্ন সব মানুষ এতে ভীষণভাবে প্রীত হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত ও অনন্য মহত উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টিকে সবাই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বিদেশের অনেকের মুখেই বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর এই মহত উদ্যোগের ভুল ব্যাখ্যা দিতে শুনেছি।

এমনিতেই আমরা ভালো কিছুকে বাঁকা চোখে দেখতে ওস্তাদ। ধারণা ও কল্পনা করে কাউকে নানা কথা বলে ফেলতেও আমাদের আটকায় না। অথচ ভালো একটি সিদ্ধান্তের ভুল ধারণা পোষণ করা বা ব্যাখ্যা দেওয়া কি ঠিক? এই প্রশ্নটি তাদের বিবেকের কাছে করা দরকার।

অনেকের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র জনসমর্থন বাড়াতে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কতটা উপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের বিরাট একটি অংশ মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাসী এবং নির্ভরশীল। এদেরকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা যায় না।

কারণ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিভাবে বলা চলে এ যাবৎকাল অবহেলিতই ছিল। এ পর্যন্ত কোনো সরকারকেই কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। ফলে কওমি শিক্ষাধারর সংশ্লিষ্টরা বলতে গেলে ছিলেন অনেকেটাই অবহেলিত, সামাজিকভাবে বঞ্চিত।

সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার সিদ্ধান্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য কতটা মঙ্গলময় এবং গুরুত্বপূর্ণ তা যে কোনো সচেতন মানুষ একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। একজন উদার ও বড় মনের নেতা হওয়ার কারণে তিনি সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন উপেক্ষা করে কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে এসেছেন। এসব সম্ভব হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী ছিলেন বলেই।

এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়া অসম্ভব নয়। দেশের জনসাধারণের একটি বড় অংশ সঠিক ও সুশিক্ষার সুযোগ সুবিধা না পেলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনটি কোনো দায়িত্বশীল, যোগ্য, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা মেনে নিতে পারেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনাও মেনে নেননি। তাই কওমি সনদের স্বীকৃতির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অতএব একে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। বরং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের সার্বিক মনোযোগ কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথা দেশের জন্য সার্বিক মঙ্গলে দিকে থাকা দরকার।

কারণ, ইসলাম শান্তি ও পবিত্রতার ধর্ম। কোনো রকম অন্যায় কাজ ইসলাম পরিপন্থী। কিছু মানুষের খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ইসলামকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্থানে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে পবিত্র ধর্মের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা অবহেলিত হলে সমাজের মানুষ ধর্মের অপব্যবহারকারীদের প্ররোচণায় পড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে হতেও দেখা যাচ্ছে। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলস্রোতে এনে বাংলাদেশে শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রকে আলোকিত ও বিকশিত করাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের মূলকথা।

কণা ইসলাম: জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেত্রী

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র