Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

দুর্নীতির দর্শন ও উপলব্ধি

দুর্নীতির দর্শন ও উপলব্ধি
ফরিদুল আলম, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার দুর্নীতি এবং মাদক নির্মূলে তার অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। দেশে দুর্নীতি বেড়েছে- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনকে যথেষ্ট তথ্যনির্ভর নয় বিবেচনায় প্রত্যাখ্যান করলেও দুর্নীতি যে আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রের এগিয়ে যাবার পথে এই মূহূর্তে বড় হুমকি, সেটা নিশ্চয়ই সরকার অস্বীকার করছে না। আর সেজন্য বোধহয় সরকার প্রধান তার ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে এটিকে বড় বাঁধা হিসেবে বিবেচনা করছেন। একইসঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মতো বিষয়গুলোও একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে সম্পৃক্ত।

আমরা নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতেই মুগ্ধ হয়ে কিছু বিষয় লক্ষ্য করেছি। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই এবং জনবিচ্ছিন্ন এমন কাউকে এবারের সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। আগের মন্ত্রিসভার চেয়ে এবারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরকারি কাজে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও তাদের ক্লিন ইমেজকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। শপথ নেওয়ার পর তাই মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরকারি সম্পদের ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে দেখা গেছে। জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা, টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাজে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের একক গাড়ীর পরিবর্তে বাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রসংসনীয়।

এর বাইরে কিছু মন্ত্রী এককভাবে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যেমন একজনকে দেখা গেছে সরকারি গাড়ীর পরিবর্তে মোটরসাইকেলে করে অফিসে যেতে, আরেকজন জানিয়েছেন তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের বাইরে এবং সরকারি ছুটির দিন সরকারি গাড়ীর পরিবর্তে নিজের গাড়ী ব্যবহার করেন। এই সব বিষয় একদিকে যেমন একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন আমাদের চোখে তুলে ধরে, আবার কিছু শঙ্কারও জন্ম দেয় যে এসব কি শুধু লোক দেখানো সস্তা প্রচারের জন্য নাকি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত একটি সুখীসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তাদের আন্তরিকতার প্রকাশ। এসব কিছুর পরও আমরা ইতিবাচক থাকতে চাই এবং বিশ্বাস করতে চাই যে, একটি সুন্দর সূচনা অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্রন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণাসূচক প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে এবং ৩ ধাপ অবনমন হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১৩ তম শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্থ দেশে পরিণত হয়েছে। সরকার অস্বীকার করলেও এবং এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও তারা দুর্নীতির যে দু’টি মূল কারণ উল্লেখ করেছে সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই কারও মধ্যে সন্দেহ থাকার কথা নয়। কারণ দু’টি হচ্ছে, এক, সরকারি কাজে আর্থিক দুর্নীতি এবং দুই, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি। আমরা দুর্নীতির আরও অনেক ছোটখাট নজির দেখলেও উল্লিখিত কারণগুলো নিয়ে সবাই কমবেশি ভুক্তভোগী এটা বলার অপেক্ষে রাখে না।

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন এবং প্রতিরোধে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে। তবে এই স্বাধীনতা কেবলমাত্র ‘কাগুজে স্বাধীনতা’ নাকি বাস্তবে কমিশন তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে স্বাধীনভাবে তাদের স্বাধীনতার চর্চা করতে পেরেছে সেটা নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। একজন সাবেক এসিসি চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব পালনকালে ক্ষোভ থেকে একে ‘দন্তবিহীন বাঘ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত কমিশন তাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠলেও এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সরকারি কাজে দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কমিশন অফিসে তলব করা হলেও সরকারি দলের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের ক্ষেত্রে এবং বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে আচরণের ভিন্নতা। এই ধরণের অসন্তোষ আমাদের সমাজে কম নয়। এর উর্ধ্বে উঠে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হলে দুদকের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি আর দুদকের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করতে হলে সরকারকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে দুদকসহ অপরাপর স্বাধীন কমিশনের কর্মকাণ্ডে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।

টিআইবি প্রতিবেদন এবং দুদকের কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে আমরা যদি দুর্নীতিকে আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশ্লেষণ করতে যাই তবে আমাদের সামনে সমাজের এক করুণ চিত্র উঠে আসবে। আমাদের সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরে আমরা দুর্নীতিকে এক অনিবার্য বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের প্রতিদিনের জীবন নির্বাহ করে যাচ্ছি। আমাদের সন্তানরা যেসব বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণ করছে, সেখান থেকে তারা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের যেভাবে দেখছে, তাদের কোমল মেজাজে তখন থেকেই বাসা বেঁধে বসে যে এটাই সমাজের বাস্তবতা। শিক্ষাজীবনের শেষ স্তর বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা ভিন্ন আঙ্গিকে একই চিত্র দেখে যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করে ততদিনে এটা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে শিখে যায় যে কেবল মেধার বিচারে সরকারি চাকুরিপ্রাপ্তি সহজ বিষয় নয়, চাই অন্যকিছু, অর্থবিত্ত কিংবা প্রভাবের জোর।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানতে চেয়েছেন যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করার পরও কেন দুর্নীতি হবে? আমার বিশ্বাস তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানতে চাইলেও তিনি বেশ ভালোভাবেই জানেন যে পুরো বিষয়টিই এখন এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ভেঙে দেওয়া সহসা সম্ভব নয়। সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একমাত্র এর প্রতিকার হতে পারে। আর সেজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সরকার প্রধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিকতার ক্রমাগত বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা যদি ব্যাখ্যা করতে হয় তাহলে অপ্রিয় যে সত্যটি আমাদের উচ্চারণ করতে হয় তা হচ্ছে রাজনীতি এখন আর জনসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি ব্যবসাভিত্তিক পেশসায় পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে আমাদের সমাজে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। যেকোনো সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি আমাদের বিশেষভাবে আহ্লাদিত করে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে তাদের প্রভাব আজ এমনভাবে স্বীকৃত যে এটিকে এখন আর খুব একটা নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না।

দুর্নীতির যে মূল দু’টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা নির্মূল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় যদি আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রতিহত না করি। আমরা প্রতিটি নির্বাচনী রাজনীতিতে যেভাবে টাকার দাপট লক্ষ্য করছি তা রীতিমত আমাদের ভাবিয়ে তোলে এই অর্থের উৎস কোথায়? আবার যারা এত অর্থের বিনিয়োগ করে তাদেরই বা স্বার্থ কি? এই সবকিছু আমাদের সামনে নির্মম সত্য হয়ে ধরা পড়ে যখন আমরা সরকারি চাকরি বা সেবা নিতে যাই। তাহলে কি এই দাঁড়ায় না যে রাজনীতিকে আমরা পেলেপুষে একে নিজেদের পায়ে কুঠারাঘাত করছি? যে রাজনীতির জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার কথা, সেই রাজিনীতির কাছে উল্টো জনগণকে সমর্পিত হতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা হচ্ছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধে একমাত্র কার্যকর ঔষধ আর সেটার জন্য ক্ষমতাসীন দলসহ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। রাজনীতিকে ‘পেশা’র খোলস থেকে মুক্তি দিয়ে একে এর মুল চেতনায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

একটি সমাজে দুর্নীতি সহসা তার ভিত গড়ে না, একথা যেমন সত্য, এর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা এবং একে মেনে নেবার প্রবণতা এর ডালপালা বিস্তারে প্রণোদনা যোগায়- এটা আরও বড় সত্য। তাহলে যা দাঁড়াচ্ছে তা হলো- শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টা নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলের যার যার নিজস্ব জায়গা থেকে সম্মিলিত প্রয়াস ব্যতীত একে রোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের এটাও মানতে হবে যে দুর্নীতি সহসারোধ করাও সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র