Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলোনি, না বাড়িবর্তী শিল্প?

কলোনি, না বাড়িবর্তী শিল্প?
নাহিদ হাসান, ছবি: বার্তা২৪
নাহিদ হাসান


  • Font increase
  • Font Decrease

১.

গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কে এন্ড কো ব্রিক ফিল্ডের একটি ঘরে কয়লা ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে ১৩ জন ঘুমন্ত শ্রমিক মারা যান ও বাকি ৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহকর্মী সুজন চন্দ্র বলেন, 'ভোরে যখন কয়লা ভর্তি ট্রাকটি ইটভাটায় ঢোঁকে সে মুহূর্তে একটি ইট আমার গায়ে পড়লে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি দাঁড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকটি উল্টে ঘরের ওপর পড়ে। আমিও পড়ে যাই। তখন অন্য সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে।'

এ প্রসঙ্গে ইট ভাটার মালিক হাজী আব্দুল রেজ্জাক বলেছেন, ইট ভাটায় শ্রমিকের প্রয়োজন হলে আমরা সর্দারের সঙ্গে কথা বলি। সে আমাদের শ্রমিক সংগ্রহ করে দেয়। কিন্তু তারা কোথায় কীভাবে থাকত সে বিষয়ে আমি জানি না।' আর সর্দার সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা ইট ভাটার কর্তৃপক্ষ করে থাকে। আমরা শ্রমিক হওয়ায় মালিকরা দায়সাড়াভাবে একটা ব্যবস্থা করে দেন।'

নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই ছাত্র। জলঢাকা মীরগঞ্জ হাট বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে ৫ জন তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। আর দুই জন শিমুলবাড়ি এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আর বাকী ৩ জন এই বছর এসএসসি পাশ করেছেন। তারা কেন ইট ভাটায় কাজ করতে গেছেন, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে সরকার বাহাদুর নিহতদের জন্য জনপ্রতি ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। বিমান দুর্ঘটনায় মরলে না হয় কথা ছিল! গ্রামের সেই গল্পের ৩ জন মানুষ আর ৫ জন জালুয়া মরার মত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549695806343.jpg

তার আগে ২৩ তারিখ সকাল ৬টায় গাজীপুরের হোতাপাড়ায় ফুয়াং মোড়ে আলিফ পরিবহণ ও শ্যামলী পরিবহণের প্রতিযোগিতার বলি হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর হাবিবুর রহমান ফেরদৌস শ্যামলীর ধাক্কায় নিহত হলেন, সে খবর তো কোনও পত্রিকাতেও আসেনি। উল্লেখ্য যে, ফেরদৌস সরকারের ২টি ছেলেও স্কুলে ছাত্র হয়েও মিস্ত্রি কাজ করেন।

মনে আছে লিমনের কথা? র‌্যাবের গুলিতে পা হারিয়েছিল যে। সেও কাজ করত ইট ভাটায়। সে যেমন গুলি না খেলে জানতাম না, তেমনি ১৩ জন শ্রমিক কয়লার ট্রাকে চাপা না পড়লে আমরা জানতামই না-মধ্য আয়ের দেশে কত শিক্ষার্থী শ্রমিকের জীবন যাপন করে!

বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে গত ৫ বছরে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে শুধু আনজুমান মফিদুল ইসলাম ৬হাজার ৭০০ জনের লাশ দাফন করেছে।

২.

এক সময় স্কুল-কলেজে খাতা-কলমের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলন হত, মধ্য আয়ের দেশে এখন এই আন্দোলনকে ফকিন্নির আন্দোলন মনে করা হয়। ফলে কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্য অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়ে গিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ক্লাসই হয় না। ফলে মহৎ উদাহরণ (!) এর শিক্ষায় গরীবের বাচ্চারা ইটভাটায়, রিক্সা চালিয়ে টিউশনি-কোচিং এর খরচ যোগাড় করে। শিক্ষা যে সুযোগ নয় অধিকার, অন্যান্য অধিকারের মত এই অধিকারও উধাও হয়ে গেছে। ভিসিগণ এখন ১০ টাকায় চা-সিঙ্গারা পাওয়ার গর্ব করেন।

আমরা এখন বাস করছি সামাজিক ব্যবসার যুগে। আর বেকারির দেশে শিল্পের উচ্চপদগুলো দখল করে আছে। এখন শ্রমিকের সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব শুধুমাত্র শ্রমিকেরই। না রাষ্ট্র, না কারখানা মালিকের। স্বায়ত্বশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খরচের দিক দিয়ে একেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই। নেংটিপরা কৃষকেরা যখন একটি দেশ স্বাধীন করে ফেলে তখন তাদের একটা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার কায়েম হওয়ার মতো একটা দেশ দরকার ছিল হয়ত। আজ আর তার দরকার মনে করা হচ্ছে না।

৩.

কলোনি মানে উপনিবেশ। মানে উপনিবাস। উপ অর্থ নব রূপে উন্নয়ন বা বৈপ্লবিক পরিবর্তন পালন করে যে, মানে- যে নিবাস নবরূপে উন্নীত। রেল কলোনি, আদমজী কলোনি ছিল এমনি ধরনের নিবাস। ইউরোপে যন্ত্র প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুটির শিল্প শ্রমিকেরা যে নিরাপত্তা ভোগ করত, তার সব কিছুই বদলে গেল। বাজার দর নির্ধারিত হতে লাগল যন্ত্রের পণ্যের দ্বারা। আর এই দাম কমার সাথে কুটির শিল্পের শ্রমিকদেরও মজুরি কমতে লাগল। হয় শ্রমিকদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়, নয়ত নতুন কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। আর এই নতুন কাজের সন্ধানে বের হতে গেলে তাকে পুরোদস্তুর প্রলেতারিয়েতে পরিণত হতে হয়। আর তা হতে গেলে নিজের হোক বা ধার নেওয়া হোক -নিজের ঘর, উঠোন ও ছোট্ট ক্ষেতটুকু ছাড়তে হয়।

জার্মানিতে কলের তাঁতের বিরুদ্ধে হাতের তাঁতের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনের কারণ গ্রামীণ তাঁতিদের এই উঠোন ও ছোট্ট ক্ষেত। আর এই লড়াইয়ের মধ্যদিয়েই ইউরোপে এই সত্য জানা গেল- উৎপাদনের উপায়ের ওপর শ্রমিকের নিজের মালিকানা; যা ছিল অতীতের স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তি তাই এখন শেকল।https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549696012771.jpg

শিল্পক্ষেত্রে কলের তাঁতের কাছে হাতের তাঁত আর কৃষিতে বড় খামাড়ের কাছে ছোট্ট জোত পরাজিত হল। তবুও ভাঙা ঘরটি, উঠোনের বাগান ও হাতের তাঁতটি ব্যক্তিগত উৎপাদন-পদ্ধতিও। কায়িক শ্রমের সঙ্গে জুড়ে থাকছিল। চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতার তুলনায় বাড়ি-বাগানের মালিকানা অধিক অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে। তবে বিশ্বজোড়া লুটের মাল প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে ইংল্যান্ড ও ফরাসি দেশে যে বিপুল ও অকল্পনীশ পুঁজি ও বাজার চলে আসে, তার জন্যও শ্রমিকদের নিকট থেকে সর্বোচ্চ শ্রম ঘন্টা শোষণ জরুরি হয়ে পড়ে। আর এর ফলে সৃষ্টি হয় শ্রমিক কলোনী। যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় শ্রম বিক্রি শেষে ঘরে উঠোনের সব্জি ক্ষেতেও শ্রম নিয়োগ করার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এতে একজন শ্রমিকের আবাসন ও তরকারির জন্য যে মজুরিটুকু শ্রমিককে প্রদান করতে হত, তা থেকে কারখানা মালিক রেহাই পান, তেমনিভাবে তাকে একই কারখানায় বেঁধে রাখা সহজ হয়।

৪.

মহানগর কলকাতার মধ্যে যেমন প্রশাসনিক দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা, বেশ্যালয়, শিল্পকারখানাসহ তাবৎ কিছু ঢু্ঁকিয়ে ফেলা হয়েছিল, তেমনিভাবে ঢাকা-চট্টগ্রামও গড়ে তোলা হয়। ফলে কর্মসংস্থানের জন্য এই শহরগুলিই ঠিকানা হয়ে ওঠে। কিন্তু সুলতানি আমলে বাংলা যে পৃথিবীর তাঁতঘর হয়ে উঠেছিল, আর বর্তমানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস যে বিশ্ববাজারে উন্নত পণ্যের বদলে শরীর বেঁচে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে পেছনের তরফের হয়ে, সেটাও ভালভাবে করতে গেলে উন্নত জনশক্তি ও আবাসন সমস্যার সমাধান করেই করতে হবে।

ইউরোপে যেখানে কুটির শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একটির পর একটি কৃষক এলাকা আধুনিক শিল্প এলাকার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো কুটির শিল্প বিকাশ নয় ধ্বংসের মধ্যদিয়ে তা হয়েছে। ফলে জ্ঞানের ধারাবাহিকতাও লুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমান শিল্পপতিদের মুনাফার সবটাই হল মজুরি কেটে নেওয়া অংশ আর উদ্বৃত্ত মূল্যের সবটাই ক্রেতাকে উপঢৌকন দেওয়া হয়। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর গবেষণা অনুযায়ী রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আমদানী বাবদ দেয় কর অব্যাহতি পায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার, গার্মেন্ট খাতই এর মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার অব্যাহতি সুবিধা পায়। গত বছর ‘চাহিবামাত্র’ উৎসে কর কমানো হয়েছে যাতে রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযাযী তাঁরা আরও ৩ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়াও কমানো হয়েছে কর্পোরেট কর। গার্মেন্টসসহ সকল রপ্তানি পণ্যের অসাধারণ সুলভ মূল্যের এই হল গূঢ় কারণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549695988418.JPG

ইউরোপে, যেখানে একজন শ্রমিকের শ্রম ছাড়া বেচবার কিছুই নাই, তাদের যখন কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে আবাসন ব্যবস্থা করা হয়, তখন তা শ্রমিকের বার্গেনিং ও স্বাধীনতার সামর্থকে কমিয়ে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে, কারিগর-কৃষকের দেশে ব্যাপারটা উল্টো। এখানে ভূমি থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ইওরোপের ধরনে হয়নি, ফলে শ্রমিকরা যদি বর্তমানের বাড়িটিতে অবস্থান করেই কারখানায় কাজ করতে পান, তাহলে এই বাসস্থানের নিশ্চয়তা তাকে বার্গেনিং ও স্বাধীনতার শক্তিকে বৃদ্ধিই করবে। এর ফলে, শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। কে না জানে, দেশীয় বাজার হচ্ছে শিল্পায়ণের পূর্ব শর্ত।

পরাধীন পূর্ব আমলে জ্ঞান ছিল পরম্পরা ভিত্তিক। তাই বাংলাদেশের শিল্পকেন্দ্রগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে আবদ্ধ না রেখে, সুলতানি আমলের মত একেকটি শহরে একেক ধরনের শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে ওইসব অঞ্চলের অধিবাসীরা বংশ পরাম্পরার সূত্রে দক্ষ হয়ে উঠবেন। কর্মক্ষেত্র নিয়ে, মজুরি নিয়ে বার্গেনিংএ সমাজ মুখ্য ভূমিকায় চলে আসত, স্থানান্তর সীমিত হয়ে আসায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হত। তখনই কেবল কর্মক্ষেত্রের মৃত্যুস্রোত রোধ করা সম্ভব হবে। অধিক কথার কি দরকার, উত্তরবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর হারই তো সাবুদ হিসেবে যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে শিল্প মালিকরা দানব হয়ে ওঠার বদলে আত্মীয় হয়ে, সমাজের একজন হয়ে ওঠার পরিস্থিতি গড়ে উঠত। এই ভূখণ্ডের শিল্প গড়ে উঠেছে জমির আলের পাশে, এখনও তার ভবিষ্যত বাড়িবর্তী শিল্পের মাঝেই।

নাহিদ হাসান: সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র