Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

অপার সম্ভাবনাময় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম

অপার সম্ভাবনাময় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম
ছবি: প্রতীকী
রায়হানা তসলিম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিদিনই বিশ্বব্যাপী উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে দুনিয়া। সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত ও প্রথাগত অনেক কিছুই। সর্বত্র কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের হাত ধরে নিত্যদিন ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।

একটি কম্পিউটার কিংবা স্মার্ট ফোন আর তার সাথে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় বসেই যে কোনো বিষয়ের উপরে দক্ষতা অর্জন করা আজ মামুলি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাই দেশীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে ই-লার্নিং এখন বহুল আলোচিত বিষয়।

ধরাবাধা শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে হওয়ায় ক্রমশ এবং দ্রুত ই-লার্নিং এখন একটি জনপ্রিয় শিক্ষা ব্যবস্থা। দুনিয়াব্যাপী এর জয়জয়কার।

প্রথাগত বা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ক্লাস করা কিংবা কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার পদ্ধতিই হলো ইলেকট্রনিক লার্নিং বা ই-লার্নিং। ঘরে বসে সুবিধাজনক সময়ে, পছন্দজনক বিষয়ে ই-লার্নিং এর মাধ্যমে সহজেই নিজেকে গড়ে তোলা সম্ভব। গতানুগতিক ক্লাসের ব্যাপার না থাকায় নিজের সুবিধামত সময়ে ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শেখার কাজটি সহজেই এখন সুসম্পন্ন করা যায়। বলা চলে আমাদের সনাতন বা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে একেবারেই আলাদা এই ই-শিক্ষা ব্যবস্থা।

সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো একটি বিষয়ের ওপর অধ্যয়ন করেন তখন একই সময়ে অন্য বিষয়ে তার শেখার সুযোগ থাকে খুব কম। অথচ অপরাপর অভ্যাস ও অধ্যয়নের পাশাপাশি কিংবা পেশাগত কাজের ফাঁকেও ই-শিক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের অপার সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হলো এই যে, নিজের ঘরে বসেই ক্লাস করা, অভীক্ষার মুখোমুখি হওয়া এবং সনদপত্র অর্জন করা খুব সহজেই সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে এখন লিন্ডা, কোর্সেরা, ইউডেমি, ইউডাসিটির মত ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম-এর সুখ্যাতির কথা মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মুক্তপাঠ’ নামক প্রথম জাতীয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করে বাংলাদেশে যুগান্তকারী ই-শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভিযাত্রা শুরু করেন। অল্পকাল পরেই বাংলাদেশ অর্জন করে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘ওয়ালর্ড সামিট অন ইনফরম্যাশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস)’।

মুক্তপাঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, বিদেশগামী কর্মী, প্রবাসী কর্মী, গৃহিণী, যুব সমাজ বা নবতিপর বৃদ্ধ তথা সবাই ই-লার্নিং এর সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে শিক্ষকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সংশ্লিষ্ট কোর্স, বিদেশগামীদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন কোর্সসহ মোট ১৯টি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

মুক্তপাঠ ছাড়াও বাংলাদেশে এখন ই-লানিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে শিক্ষক ডটকম, জাগো অনলাইন স্কুল, ব্র্যাক, ইস্টওয়েস্ট এবং এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বেপটো ডটকম, ইএটিএল’র এডুটিউববিডি ডটকম, স্টাডি ডটকমসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়োজনীয় বিষয়ে ই-লানিং কোর্স চালু করেছে। বলা চলে ওয়েব বেজড লার্নিংও এখন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে আমাদের দেশে।

অন্যদিকে ২০০২ সালে ম্যাসচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) প্রথমবারের মতো ৫০টি ই-লার্নিং কোর্স চালু করেছিল। এমআইটি’র উদাহরণ খুব দ্রুতই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দুনিয়াব্যাপী শুরু হয় (ওপেন কোরসওয়ার কনসরটিউম)। অনলাইন জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম এর নাম ‘খান একাডেমি’। ২০০৬ সালে বিনামূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষা পৃথিবীর সকল প্রান্তে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে খান একাডেমির ওয়েবসাইট চালু করা হয়। এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চামূলক অনুশীলন, নির্দেশনামূলক ভিডিও, ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড এবং শিক্ষক সহায়িকা। খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান ইতোমধ্যে ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলো বাংলায় অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য খুবই জনপ্রিয় ই-লার্নিং ওয়েব সাইটের নাম শিক্ষক ডটকম। প্রায় সকল বিষয়ের কোর্স থাকলেও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সংশ্লিষ্ট প্রচুর কোর্স রয়েছে এখানে। ফলে ঘরে বসে যেকোনো বয়সের, যে কেউ নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন। তবে ‘টেন মিনিটস’ স্কুল বিনামূল্যে সহজে দশ মিনিটের মধ্যেই ই-লার্নিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে ।

এখানে দশ মিনিটের ছোট ছোট কুইজের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাথে সাথে এটির প্রাপ্ত নম্বর প্রদান করে। ফলে একজন শিক্ষার্থীর মুহূর্তের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর কতটুকু দক্ষতা আছে বা কোথায় তার দুর্বলতা আছে তা জানতে পারেন এবং উপযুক্ত নির্দেশনাও এখান থেকে পেতে পারেন। পাশাপাশি অন্য বন্ধুদের সাথে তুলনা ও প্রতিতুলনা করে নিজে কতটুকু ই-শিক্ষার্থী হিসেবে এগিয়ে বা পিছিয়ে আছেন তা জানতে পারেন।

ই-লার্নিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়ধীন টিচিং কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট (TQI-II) ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্টের মাধ্যমে নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়গুলোর অপেক্ষাকৃত জটিল অধ্যায়গুলোকে ই-লানিং ম্যাটেরিয়ালসে রূপান্তর করা হয়েছে।

উল্লিখিত ম্যাটেরিয়ালসসমূহ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েব সাইটে সংরক্ষিত রয়েছে যা ব্যবহার করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষার যেকোনো অংশীজন নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। এছাড়াও (TQI-II) প্রকল্পের মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৬টি বইকে ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেকস্টবুকে (আইডিটি) রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে ৫১টি ক্লাস্টার সেন্টার স্কুল স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি হচ্ছে ই-লার্নিং সেন্টার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সেসিপ প্রকল্পের মাধ্যমেও ই-লানিং কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে ৬৪০টি ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন এবং বিপুল পরিমাণ ই-লানিং ম্যাটেরিয়ালস তৈরি করেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও ই-বুক প্রবর্তিত করেছে।

ই-লার্নিং ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে কখনই শিক্ষকের মুখোমুখি না হলেও চলে। তবে শিক্ষার্থী তার কৌতুহল নিবারণের জন্য কখনো ইমেইল-এর মাধ্যমে বা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তার জানা বা অজানার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করতে পারেন। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে তার সহপাঠীর সাথে উদ্ভূত সমস্যা শেয়ার করতে পারেন। তবে কখনো কখনো ই-লার্নিং ম্যাটেরিয়ালস পাওয়ার জন্য এবং ই-লার্নিং কোর্স সম্পন্ন করার জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

ফলত ই-লার্নিং এর মাধ্যমে এখন দুনিয়াব্যাপী সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত সাক্ষরতাকে শাণিত করার অপার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেকে সমাজের যোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গড়ে তোলা যায়। তবে ই-লার্নিং যেহেতু শতভাগ প্রযুক্তিগত শিক্ষা ব্যবস্থা সে কারণে বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশের সামগ্রিক তথ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি দেশের সর্বত্র ভাল ব্যান্ডউইথ, সহজলভ্য ও কমমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা গেলে গ্লোবাল শিক্ষা ব্যবস্থায় ই-লার্নিং নতুন এক সংস্কৃতি ও চর্চার জায়গায় উপনীত হবে।

মূলত বাংলাদেশের ই-লার্নিং ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজলভ্য ও জনবান্ধব করে একে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মূল অংশে পরিগণিত করতে হবে। আর ই-লার্নিং পদ্ধতির মধ্যে যে বিপুল সোনালি সম্ভাবনার প্রযুক্তিগত সংশ্লেষ রয়েছে তাকে যথাযথ বাস্তবায়ন, রূপায়ন ও রসায়নের আশ্লেষে জারিত করা গেলে লেখাপড়ায়, পড়াশোনায়, জ্ঞান ও দক্ষতায় খুব সহজেই সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ২০৪১ সালের উন্নত দেশের রূপকল্পখচিত আগামীর বাংলাদেশ।

রায়হানা তসলিম: উপ-প্রকল্প পরিচালক, টিকিউআই-২ প্রকল্প, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর

 

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র