Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিএনপি এক নির্বাচন কইরাই বইট মারছে...

বিএনপি এক নির্বাচন কইরাই বইট মারছে...
মোকাম্মেল হোসেন, ছবি: বার্তা২৪
মোকাম্মেল হোসেন


  • Font increase
  • Font Decrease

তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা। অনেক দায়িত্ব তার। এ দায়িত্ববোধ থেকেই বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার জন্য তিনি জোর চেষ্টা-তদবির চালালেন এবং সফল হলেন। তবে সময় মাত্র পাঁচ মিনিট। পাঁচ মিনিট অবশ্যই খুব বেশি সময় নয়; কিন্তু যিনি সময় দিলেন তিনি যদি হন বিশ্বপতি আর সময় যিনি পেলেন তিনি যদি হন দারিদ্র্য নিপীড়িত ছোট্ট একটা দেশের অধিবাসী, তাহলে মিনিটকে ঘণ্টার ফ্রেমে বন্দি করা ঠিক হবে না। দুই নেতার মধ্যে কথা শুরু হল। সালাম নিবেদনের পর বিশ্বনেতার উদ্দেশে বঙ্গনেতা বললেন-

: সুন্দর সকাল স্যার; আছেন কেমন!

: বেশি ভালা না; সব মিলাইয়া ছেড়াবেড়া অবস্থার মধ্যে আছি। বলেন, আপনের বক্তব্য বলেন।

: আপনে আমার জন্য পাঁচ মিনিট সময় বরাদ্দ করায় আমি নিজে এবং সেইসঙ্গে আমার দেশের জনগণ ধন্য হইয়া গেছি। পাঁচ মিনিট আমার কাছে পাঁচশ’ মিনিটের সমান মনে হইতেছে।

: দুঃখিত! আপনে এইরকমভাবে কথা বলতেছেন কেন! আপনের মুখে কি চুইংগাম?

: না-না স্যার! মুখের মধ্যে কিছু নাই; মুখ ফকফকা। এইটা হইল আমার নিজস্ব বাচনভঙ্গি। এই বাচনভঙ্গি আমি কই পাইছি জানেন? ইশকুলে পড়ার সময় আমাদের পাঠ্যবইয়ে একটা কবিতা ছিল-নাম ‘সফদার ডাক্তার’; সফদার ডাক্তার মাথা ভরা টাক তার, খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে। এই কবিতা মুখস্ত করার পর আমিও স্যার পানি চিবাইয়া খাওয়ার অভ্যাস রপ্ত কইরা ফেললাম। এরপর একদিন দেখলাম আচানক কারবার-পানি চিবাইয়া খাইতে খাইতে আমি চিবাইয়া চিবাইয়া কথা বলার শিল্পটাও আয়ত্ত্ব কইরা ফেলছি। বিষয়টা অতি চমৎকার না স্যার?

: হ, চমৎকার। এইবার বলেন...

জোরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বঙ্গনেতা বললেন:

: বলার বিষয় তো একটাই। আপনে যদি আমাদের গরীবখানায় একবার ঠ্যাং ছোঁয়াইতেন! আপনের জুতার ধূলি পড়লে আমাদের ইজ্জত যে কী পরিমাণ বাড়ত, তা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। আমি জানি, আপনে সময়ের পেছনে ছুটেন না; সময়ই আপনের পেছনে ছোটে। তারপরও বলতেছি স্যার, বাংলাদেশে আইসা এক কাপ কফি যদি খাইতেন; আল্লারে আল্লা! কী যে খুশি হইতাম! স্যার, অনুমতি না লইয়াই আপনেরে একটা কথা স্মরণ করাইয়া দিতে চাই-আপনের পূর্বসূরী ক্লিনটন সাব কিন্ত গরীব বইলা আমাদের অবহেলা করেন নাই। তিনি ঠিকই আমাদের দরিদ্রনিবাসে তশরিফ রাখছিলেন।

বঙ্গনেতার কথা শুনে বিশ্বনেতা হাসলেন। তারপর বললেন-

: আপনে কী এই কথার বলার জন্যই ফোন করছেন?

জিহ্বায় কামড় দিয়ে বঙ্গনেতা বললেন

: না, না; শুধু এই কথা না। অনেক কথা আছে। তার আগে বলেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার ব্যাপারে কতদূর অগ্রসর হইলেন?

: এইটা লইয়াই তো বিসকাউস লাগছে!

: যতই বিসকাউস লাগুক স্যার; পিছু হটবেন না। ব্যাটারা কোনোমতেই যেন সীমানা পার হইতে না পারে। বলা তো যায় না, বাংলাদেশ যে গতিতে উন্নয়ন করতেছে-শেষে এরা কাঁথা-বালিশ লইয়া গোষ্ঠীশুদ্ধা বাংলাদেশে আইসা হুমড়ি খাইয়া না পড়ে!

বঙ্গনেতার কথা শুনে বিশ্বনেতা অবাক হয়ে বললেন-

: এতদূর থেইকা বাংলাদেশে যাবে কীভাবে!

: এইটা আপনে কী বললেন স্যার! সূদুর সাইবেরিয়া থেইকা আণ্ডা-বাচ্চা লইয়া বাংলাদেশের মাটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আইসা হাজির হইয়া যায়; আর তো মানুষ। ঘটিবাটি বেইচ্যা মেক্সিকানরা যদি কোনোমতে একবার টিকিট কাইট্যা বিমানে উইঠ্যা বসে, তাইলে সাড়ে-সর্বনাশ। গরীব হইলে কী হবে, এইসব ব্যাপারে আমরা খুবই মানবিক স্যার। যে কারণে দশ লাখ রোহিঙ্গারে ফেরত দিতে পারি নাই; সেই একই কারণে তো মেক্সিকানদেরও ফেরত পাঠাইতে পারব না, তাই না?

: হু।

: স্যার, অনেকদিন আগে একটা জরিপ ফলাফলে দেখছিলাম, আমেরিকানরা অংক ভালো পারে না। ঘটনা সত্য নাকি?

: জরিপে যখন জানা গেছে, তখন সত্য হইলেও হইতে পারে।

: আপনেরা অংকে কি জন্য দুর্বল, তার একটা কারণ আমি বলি?

: বলেন।

: কারণ হইল আপনাদের সাহসের অভাব।

: সাহসের অভাব!

: হ। একাত্তর সালে আপনেরা ভয় না পাইয়া যদি সপ্তম নৌবহর লইয়া বাপের বেটার মতো বাংলাদেশে ঢুকতেন; তাহলে বাঙালির ছেঁচা খাইয়া অংকটা ঠিকই শিইখ্যা ফেলতেন। কিন্তু আপনেরা তো ভয় পাইয়া আর কাছেই ভিড়লেন না।

যাক, বেশি কথা বলবার চাই না...

: বেশি কথা বলবার চান না মানে? আপনে তো অনেক কথা বলেন!

উচ্চস্বরে হেসে বঙ্গনেতা বললেন-

: বেশি কথা বলি, না? কী করব বলুন! সারাক্ষণ কথার উপরেই থাকতে হয়।

: আপনের দলে আর লোকজন নাই?

: আছে। কিন্তু তারা কী বলতে যাইয়া কী বইলা ফেলে-সেইজন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যে না যাইয়া কথা যা বলার আমিই বলি।

নির্ধারিত সময় সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বিশ্বনেতা এবার বললেন-

: আপনের সময় কিন্তু আর বেশি নাই।

: হায় আল্লাহ! এত তাড়াতাড়ি সময় যায় কেমনে? যাক, যে কারণে আপনারে ফোন করছি- বিএনপি তো এক নির্বাচন কইরাই বইট মারছে! তারা এখন উপজেলা, সিটি কর্পোরেশনসহ সব ধরনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিছে!

: আমি কী করব?

: কী করবেন মানে! আপনে তাদের বোঝান। বুঝ না মানলে ধমক দেন।

: আমার ধমকে কি তারা তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাইয়া ফেলবে?

: একশ’বার পাল্টাবে। আপনে মুরুব্বি না?

: ঠিক আছে, বলব।

: শুধু বলা না; উদাহরণ সহযোগে বলবেন- নির্বাচন হইল গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা। একটা নির্বাচন কইরাই যদি তারা এইভাবে বইট মারে; তাইলে বাংলাদেশে কি গণতন্ত্র টিকবে? কিছুতেই টিকবে না; হাঁটু ভাঙ্গা ‘দ’ হইয়া কাতরাইতে থাকবে।

সবচাইতে বড় কথা স্যার, যে দেশের গণতন্ত্রই হোক, তা উষ্টা খাওয়া মানে আমেরিকার উষ্টা খাওয়া। এইটা আমেরিকার জন্য কতবড় অপমানের বিষয়, একবার ভাইবা দেখেন।

হঠাৎ এসময় টেলিফোন পুঁউ, পুঁউ শব্দ করে উঠল। বঙ্গনেতা কী হইল-কী হইল বলে চেঁচিয়ে উঠতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো

: টাইম ইজ ওভার।

মোকাম্মেল হোসেন: রম্য লেখক ও সাংবাদিক।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র