Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

একুশে বইমেলা: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী গ্রন্থপ্রীতি উৎসব!

একুশে বইমেলা: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী গ্রন্থপ্রীতি উৎসব!
প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম, বার্তা২৪.কম
প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

যতদূর জানা যায়, এ পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে যতগুলো বইমেলা আয়োজিত হয়েছে তার মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হলো- ফ্রাঙ্কফ্রুট বইমেলা। এটা জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে বিশ্বের ৭৭টি দেশের ৬ হাজার ১৬৯টি প্রকাশক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল। সেটা ছিল ২০১৭ সালের ১০-১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু ফ্রাঙ্কফ্রুট বইমেলা মাত্র পাঁচদিন ব্যাপী স্থায়ী হয়।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত একুশে বই মেলাও অনেক বড়। গত বছর থেকে মেলার আকার বেড়ে বাংলা একাডেমি চত্বর পেরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইয়ের স্টল তৈরির অনুমতি দিতে হয়েছে। তবুও আকারে অনেক দেশের বইমেলার চেয়ে একুশে মেলা এখনও ছোট। কিন্তু সময়ের বিচারে আমাদের একুশে মেলা পৃথিবীর কোন দেশের বইমেলার থেকে বড়।  মাতৃভাষার ওপর লেখা বই নিয়ে মাসব্যাপী বা এত দীর্ঘ সময়ব্যাপী ঘটা বইমেলা পৃথিবীর আর কোন দেশে হতে দেখা যায় না! এই দীর্ঘমেয়াদী বইমেলা আমাদের একান্ত অর্জন।  এই বইমেলা আমাদের সবার গৌরবের বিষয়!

আসুন, সারা পৃথিবীতে প্রতিবছর যতগুলো বইমেলা আয়োজিত হয়ে থাকে সেগুলোর প্রধান কয়েকটি থেকে অনুষ্ঠানের দিন-সময়ের কিছু তথ্য জেনে নেই।

বইমেলার নাম

দেশের নাম

প্রতিবছর অনুষ্ঠানের তারিখ

মোট দিনের সংখ্যা

আস্তানা বুক ফেয়ার

কাজাখাস্তান

২৫ এপ্রিল- ০১ মে

০৭ দিন

আলেকজান্দ্রিয়া বুক ফেয়ার

 মিশর

মার্চ ২২- এপ্রিল ০৪

১৪ দিন

ইস্তাম্বুল বুক ফেয়ার

 তুরস্ক

নভেম্বর ১০- নভেম্বর ১৮

০৯ দিন

একুশে বই মেলা

বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারি ০১-ফেব্রুয়ারি ২৯+

এক মাস + ৪/৭ দিন

কোলকাতা বই মেলা

ভারত

জানুয়ারি ৩০- ফেব্রুয়ারি ১৩

১৪ দিন

ক্যাসাব্লাঙ্কা বুক ফেয়ার

মরক্কো

ফেব্রুয়ারি ০৮- ফেব্রুয়ারি ১৮

১০ দিন

ব্রাসেলস বুক ফেয়ার

বেলজিয়াম 

ফেব্রুয়ারি ২২- ফেব্রুয়ারি ২৫

০৪ দিন

বোলোগনা বুক ফেয়ার

ইটালি

মার্চ ২৬- মার্চ ২৯

০৪ দিন

ব্যাঙ্কক বুক ফেয়ার

থাইল্যান্ড

মার্চ ২৬- এপ্রিল ০৯

১৫ দিন

ব্লাডি স্কটল্যান্ড  বুক ফেয়ার 

ইউ.কে.

সেপ্টেম্বর ২১- সেপ্টেম্বর ২৩

০৩ দিন

পার্থ বুক ফেয়ার

অস্ট্রেলিয়া

ফেব্রুয়ারি ০৯- মার্চ ০৪

২০ দিন

ভিয়েনা বুক ফেয়ার বুক ফেয়ার

অস্ট্রিয়া

নভেম্বর ০৭- নভেম্বর ১১

০৫ দিন

ডি লা বান্দে ডেসিনে এঙ্গোলিম

ফ্রান্স

জানুয়ারি ২৫- জানুয়ারি ২৮

০৪ দিন

নয়া দিল্লী বুক ফেয়ার

ভারত

জানুয়ারি ০৬- জানুয়ারি ১৪

০৯ দিন

জেনেভা বুক এন্ড প্রেস ফেয়ার         

সুইজারল্যান্ড

এপ্রিল ২৫- এপ্রিল ২৯

০৫ দিন

টোকিও বুক ফেয়ার

জাপান

জানুয়ারি ২৪- জানুয়ারি ২৯

০৬ দিন

হংকং বুক ফেয়ার

হংকং (চীন)

জুলাই ১৮- জুলাই ২৪

০৭ দিন

 

তাইপে বুক ফেয়ার

তাইওয়ান

ফেব্রুয়ারি ০৬- ফেব্রুয়ারি ১১

০৬ দিন

লাহোর বুক ফেয়ার

পাকিস্তান

ফেব্রুয়ারি ২২- ফেব্রুয়ারি ২৫

০৪ দিন

লাটভিয়া বুক ফেয়ার

লাটভিয়া

ফেব্রুয়ারি ২৩- ফেব্রুয়ারি ২৫

০৩ দিন

                                        সূত্র:  ইন্টারনেট।

উল্লিখিত সারা বিশ্বের প্রধান কয়েকটি বইমেলা অনুষ্ঠানের দিন-সময়ের কিছু তথ্য থেকে জানা যায় কেউই কুড়ি দিনের বেশি বইমেলা চালাতে পারেননি। অথচ, বংলাদেশ একমাসের অধিক সময়ব্যাপী বইমেলার আয়োজন করে সেটা দেখাতে পেরেছে।

বাংলাদেশে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একুশে বইমেলা দীর্ঘদিনব্যাপী জনপ্রিয়তার মধ্যে চলতে থাকার কারণ নানামুখী। আমাদের ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বইমেলার উদ্বোধনী দিয়ে। বাংলা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, তাঁদের অমূল্য ত্যাগ-তিতিক্ষার স্মরণ ও বাংলা ভাষার প্রতি ভালবাসার চিরন্তন বহি:প্রকাশ ঘটে একুশে বই মেলার মাধ্যমে। বাঙালির বইয়ের প্রতি প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসা থেকে ফিবছর দিন গুনতে থাকে- কবে শুরু হবে একুশে বইমেলা। বইমেলায় সবাই শুধু একদিন ঢুঁ মেরেই ক্ষান্ত দেন না বরং এই এক মাসের মধ্যে একই ব্যক্তি বহুবার মেলায় যান। বইমেলায় যাওয়া নেশায় পরিণত হয়। বইমেলায় সবাই শুধু নিজের জন্যে বই কেনেন না। কেউ তাকিয়ে তাকিয়ে সাজানো বই দেখেন, কেউ বক্তৃতা শোনেন, লেখক কুঞ্জে আড্ডা দেন, রক্ত দান করেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শোনেন, পাঠক-দর্শকদের সাথে মত বিনিময় করেন, কেউ বই কিনে প্রিয়জনদের উপহার দেন। বইমেলায় সব বয়সী মানুষের চাহিদা উপযোগী বই কিনতে পাওয়া যায়।

এছাড়া বই মেলা সবার অজান্তেই মানুষের মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষার্থী সবাই একত্রে ভিড় জমান বইমেলায়। কচি-কাঁচারা বায়না ধরে- মেলা থেকে বই কিনে তাকে উপহার দিতে হবে। এতে বই মেলার পারিবারিক ও সামাজিক মূল্য বহুগুনে বেড়ে চলেছে।

বই কেনা হলো সবচে’ভাল কেনাকাটা। এর জন্য রাখা বাজেট-বরাদ্দ সবচে’ দামী বাজেট। কারণ, গুণীজন বলে গেছেন, বই কিনে কেউ কখনও দেউলিয়া হয়না! তাইতো স্বল্প আয়ের দেশের মানুষ হয়েও আমরা একুশে বই মেলায় প্রায় প্রতিদিন যাই, ভিড় করি, বইয়ের দোকানে তাকিয়ে দেখি, বই কিনি, নিজে পড়ি বা কিনে অন্যকে উপহার দিই। আজ পর্যন্ত সব সমাজেই বই উপহার দেয়াটাই সর্বোত্তম উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বই যে কোন রুচিশীল মানুষের গৃহের সবচেয়ে দামি আসবাব হিসেবে বিবেচিত। অনেকে বই পড়তে পছন্দ না করলেও দামি বই কিনে ঘরের শেলফে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। কারণ বই থাকাটা তার কাছে মর্যাদা ও রুচি বোধের পরিচায়ক।

একুশে বইমেলাকে উপলক্ষ্য করে একজন লেখক মনযোগ দিয়ে নিয়মিত বই লিখেন, অনেক প্রুফ সংশোধনীর পর প্রকাশক যত্ন করে প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। লেখকের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, দক্ষতা, মননশীলতা ও লেখনীর সৌকর্য শেষে প্রচ্ছদকারীর নকশা পেরিয়ে ছাপানো হয় কাঙ্ক্ষিত বই। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হলেই শুরু হয় আমাদের প্রাণের বই মেলা- যা একুশে বই মেলা নামে পরিচিত। আজ এই বই মেলা পৃথিবীর সবচে’ দীর্ঘদিনব্যাপী ঘটা মহা বই উৎসব।

বর্তমানে নোটকেন্দ্রিক পড়াশোনা ও এম.সি.কিউ পরীক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি জাগায় না। বই পড়া মানুষের কল্পনাশক্তি শাণিত করে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তা করে সুপথে চলতে পারে। প্রযুক্তি বিকাশের এ যুগে মানুষ পড়তে ভুলে যাচ্ছে- শুধু মনিটরে একনজর দেখেই ক্ষান্ত দেয়। অধুনা- টিভি, কম্পিউটার, বিলবোর্ড, সেলফোন, ট্যাব, আইপ্যাড, ক্লাশরুমের পাওয়ার পয়েন্টের ঢাউস স্ক্রিন সব জায়গায় শুধু দেখার সুবিধা তৈরি করে দেয়া হয়েছে। বর্তমান যুগ- শুধু চেয়ে চেয়ে দেখার যুগ। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে এত বেশি দেখার জিনিষ আমাদের সামনে ভেসে ওঠে যে আমরা সবসময় দেখার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বই মেলা আমাদের জন্য প্রতিবছর দেখার একঘেয়েমি থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বিরাট সুযোগ  এনে দেয়- যা আমাদের কল্পনাজগতকে প্রসারিত করে ভবিষ্যতে ভালভাবে বেঁচে থাকতে শেখায়।

বইমেলার ফলে ছাপানো বই বেড়েছে। কিন্তু প্রতিবছর পাঠকরা বলেন- বইগুলোর মান বাড়েনি। বইগুলোর অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু কী? ছাপার কাগজ কেমন? শেষের দিকে এসে বইমেলায় নোট বই ও বিদেশি নকল ও ফটোকপিকৃত বই ভরে সয়লাব হয়ে যায়। দেশের প্রকাশকদের কল্যাণে এ দিকটাতে কঠোরভাবে নজর দেয়া উচিত। অন্যদিকে একুশে বইমেলা উপলক্ষে শুধু ব্যবসা নয়- পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি করা চাই। প্রকাশকদের কল্যাণে তাঁদের নিজেদেরকে বইয়ের পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয়া জরুরি।

কাগজের বইয়ের প্রয়োজন সব সময় থাকবে। যতই ডিজিটাল সামগ্রীর শিক্ষা উপকরণ চালু করা হোক না কেন কাগজে ছাপার অক্ষরের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, দিনের বেলায় কাগজের বই পড়তে আলাদা এনার্জি বা জ্বালানির দরকার হয় না। পৃথিবীতে কোনদিন জ্বালানির অভাব হলেও মানুষ কাগজে ছাপানো এনালগ বই পড়বে।

আজকাল সব জায়গা থেকে আসল বাংলা হারিয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশন তথা অনেক গণমাধ্যমে বিকৃত বাংলা বলা হয়। অনেকে ভালোভাবে বাংলা উচ্চারণ করতে না পেরে তা ঢাকতে গিয়ে ভুল ইংরেজি দিয়ে ধাপ্পা দিয়ে বিকৃত ও উদ্ভটভাবে বাংলা কথা বলার চেষ্টা করেন। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষগুলোকে এ ব্যাপারে দ্রুত সচতেন হওয়া বেশ জরুরি। আসলে যারা মাতৃভাষা ভালোভাবে জানেন ও বলতে পারেন তারা সহজেই যে কোনো বিদেশি ভাষাতেও কথা বলা শিখে ফেলতে পারেন। যার মাতৃভাষায় দুর্বলতা ও ভুল আছে তিনি বিদেশি ভাষাতেও লিখতে পড়তে গিয়ে ভুল করবেন- এটাই স্বাভাবিক। তাই প্রতিটি মানুষের ভাষার ভিত্তি হওয়া উচিত তার মাতৃভাষা।

লেখক: প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র