Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

শিশুদের পরীক্ষা নিয়ে নিরীক্ষা করবেন না

শিশুদের পরীক্ষা নিয়ে নিরীক্ষা করবেন না
ছবি: বার্তা২৪
প্রভাষ আমিন


  • Font increase
  • Font Decrease

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমার টক শো ছিল। লাইভ অনুষ্ঠানে বারবার বাসা থেকে ফোন আসছিল। জরুরি কিছু ভেবে বিরতিতে গিয়েই ফোন দিলাম। ছেলে প্রসূনের উদ্বিগ্ন কণ্ঠের জিজ্ঞাসা, বাবা পরীক্ষা নাকি পিছিয়েছে? আমি তখনও কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে জানলাম এবং প্রসূনকে জানালাম, তিনদিনের পরীক্ষা পিছিয়েছে। মনোযোগ দিয়ে পরের দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে আমি আবার টক শো'তে ঢুকে গেলাম এবং রুটিনের কথা ভুলে গেলাম।

রাতে বাসায় ফিরে দেখি প্রসূনের মুখ থমথমে। ভাবলাম, মায়ের সাথে লেগেছে (ঝগড়া) বুঝি। জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘কিরে বেটা, শরীর খারাপ?’’

মাথা নিচু করে জবাব দিলো, না।
: তাহলে মন খারাপ?
: না।

আমি বললাম, মাথা উঁচু কর, আমার দিকে তাকা এবং বল, কী হয়েছে।

এবার প্রসূন বললো, মন ও শরীর ভালো। কিন্তু মেজাজ খারাপ, প্রচণ্ড খারাপ। তার কণ্ঠে তীব্র ঝাঁঝ, চোখ ছলছল। ‘‘এটা কোনো কথা হলো। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই প্র্যাকটিক্যালসহ পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে এখন ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এটা স্রেফ ফাজলামো।’’ প্রসূন এতই ক্ষুব্ধ, ঠিকমত বলতে পারছিল না। আমি জানি, এটা প্রসূনের একার ক্ষোভ না, এটা প্রসূনদের ক্ষোভ। ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীর ক্ষোভ।

পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারির এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। পিছিয়ে দেয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৭ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষাটি হবে ২ মার্চ।

পরীক্ষা পেছানোর কারণ হিসেবে 'অনিবার্য' কারণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সবাই জানে সেই অনিবার্য কারণটা হলো বিশ্ব ইজতেমা। গত কয়েকবছর দুই পর্বে ইজতেমা হলেও, এবার এক পর্বেই হবে টানা চারদিন। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বসবে বিশ্বের মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মিলন- বিশ্ব ইজতেমা। এক পর্বে হলেও দুই ভাগে হবে দ্বিধাবিভক্ত তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের ইজতেমা। প্রথম দু’দিন একপক্ষ, দ্বিতীয় দু’দিন আরেকপক্ষ।

সাধারণত বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে হয়। কিন্তু এবার দুই পক্ষের ঝগড়ার কারণে ইজতেমা হওয়া নিয়েই সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতায় হচ্ছে ইজতেমা। হজের পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ বাংলাদেশে হচ্ছে, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু তাবলিগের দুই পক্ষের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে আমরা ২১ লাখ বাচ্চার মনের ওপর কত বড় চাপ দিয়েছি, সেটা কি কেউ ভেবেছি?

অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশে পরীক্ষার রুটিন, ফলাফল প্রকাশ, বই বিতরণের তারিখ নির্ধারিত। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায় নতুন বই। এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি। এবার ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থাকায় ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঠিক করার সময় কি নীতি নির্ধারকদের মাথায় ছিল না? পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষার সময় কেন বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দিতে হবে। এটা কি সমন্বয়হীনতা নয়?

এসএসসি পরীক্ষার সময় শিশুরা কী ভয়ঙ্কর চাপে থাকে, সেটা কি নীতি নির্ধারকরা জানেন না? তারা কি কেউ এসএসসি পরীক্ষা দেননি? আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ৩৪ বছর আগে। কিন্তু এখনও সেই টেনশনের কথা মনে হলে তলপেটে মোচড় দেয়। পরীক্ষার্থীরা রুটিন দেখে মনে মনে অনেক পরিকল্পনা করে। রুটিনে একটু ওলটপালট হলে, সেই পরিকল্পনা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আর এবার তো রুটিনই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পরিকল্পনার পরিটা উড়ে গেছে, আছে শুধু কল্পনা। অথচ আমাদের নীতি নির্ধারকরা একটা ছোট্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়েই খালাস। পত্রিকার ভেতরের পাতায় সিঙ্গেল কলাম নিউজ হয়, পরীক্ষা পিছিয়েছে। এই ছোট্ট নিউজটা যে শিশুদের মনোজগতে কী তোলপাড় তোলে, সেটা যদি আমরা একবার বুঝতাম!

শুধু এবার নয়, শিশুদের পরীক্ষাটা বরাবরই আমাদের প্রায়োরিটির পেছনে থাকে। ২০১৪-১৫ সালে আন্দোলনের নামে বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় শিকার ছিল বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা। দিনের পর দিন পরীক্ষা পিছিয়েছে। গত বছর নভেম্বরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের শোকরানা মাহফিলের কারণে একদিনের জেএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছিল।

তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের বিষমুক্ত ছিল। এর জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অবশ্যই বিশাল ধন্যবাদ পাবেন পান। এটা এত বড় সাফল্য, অনেক ছোটখাটো ত্রুটি উপেক্ষা করা যায়। তবে ত্রুটিগুলো মাথায় রাখা ভালো, যাতে ভবিষ্যতে সব পাবলিক পরীক্ষা ত্রুটিমুক্ত করা যায়। এবার পরীক্ষার প্রথম দিনেই বেশ কয়েক জায়গায় গত বছরের প্রশ্ন বিলি করা হয়েছে। প্রসূন যে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে, সেই লালমাটিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে অংক পরীক্ষার দিন ইংলিশ ভার্সনের প্রশ্নের এক পৃষ্ঠা সাদা ছিল! তাদের সেই পৃষ্ঠার পরীক্ষা বাংলা প্রশ্ন দেখে দিতে হয়েছে। ফেসবুকে দেখলাম, ইংলিশ ভার্সনের প্রশ্ন কম পড়ায় অনেককে বাংলা প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সারাবছর ইংলিশ ভার্সনে পড়ে এখন বাংলা প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়াটা সত্যিই কঠিন।

রোববার রাতভর রুটিন নিয়ে টেনশন করে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনেকেরই ধর্ম পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে পেলাম আরো মজার চিত্র। বিভিন্ন বিষয়ে এমসিকিউর চারটি উত্তরের মধ্যে অন্তত দু’টি সঠিক বলা যায়। কিন্তু এমসিকিউর খাতা তো যন্ত্র দেখে। সেখানে যেটা সঠিক দেয়া থাকে, সেটাতেই নম্বর পাবে। তাই সঠিক উত্তর দিয়েও শূন্য নম্বর পাওয়ার ঝুঁকি আছে। এ তো গেল এমসিকিউ।

সমস্যা আছে বর্ণনামূলক প্রশ্নেও। যেমন ধর্ম পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন আছে, একটি ছেলে এক বয়ষ্ক মহিলাকে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে লোকাল বাসে লম্বা পথ দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু একটু পর বাসে একটা মোটা মহিলা উঠলে সেই ছেলেটিই তাকে বললেন, কোন দোকানের চাল খান। বয়স্ক মহিলাকে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে ছেলেটি যেমন ভালো মনের পরিচয় দিয়েছে, তেমনি আবার সে ইভটিজিংও করেছে! এখন আপনি তাকে খারাপ বলবেন না ভালো? এখন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা কোন উত্তরটি দিলে নম্বর পাবে?

যেমন আরেকটি প্রশ্ন, এক লোক সুদের কারবার করে, আবার গরীব মানুষকে সাহায্যও করে। এখন সে ভালো না খারাপ? যিনি খাতা দেখবেন, তিনি যদি কট্টর মুসলমান হন, তাহলে লোকটি খুব খারাপ। কারণ ইসলামে সুদ হারাম। কিন্তু একটু লিবারেল হলে তিনি ভাবতে পারেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই তো কোনো না কোনোভাবে সুদ দেয়া-নেয়ার সাথে জড়িত। কারণ বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুদ নিষিদ্ধ নয়। তাই লিবারেল শিক্ষক, তার গরীবকে সাহায্য করার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে তাকে ভালোও বলতে পারেন। মানে এসব ক্ষেত্রে ভালোমন্দের বিবোচনাটা আপেক্ষিক। সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজের নীতি-নৈতিকতার মান যেখানে তলানিতে, সেখানে শিশুদের কাছ থেকে নৈতিকতার এ সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ চাওয়াটা অন্যায় নয় কি?

নীতিনির্ধারকদের কাছে আমাদের খালি একটাই চাওয়া- প্লিজ, শিশুদের পরীক্ষা, রুটিন, প্রশ্ন নিয়ে কোনো নিরীক্ষা করবেন না। আমাদের সন্তানদের গিনিপিগ বানাবেন না। আপনাদের যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা তা আপনাদের অফিসরুমে করুন, বাচ্চাদের ক্লাসরুম বা পরীক্ষার হলে নয়। শিশুরাই থাকুক আপনাদের প্রায়োরিটি লিস্টের টপে। কারণ তারাই জাতির সত্যিকারের ভবিষ্যৎ।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র