Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!
এম. এম. কায়সার, ছবি: বার্তা২৪.কম
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অথচ আজ হওয়ার কথা ছিলো ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিন। কিন্তু এই টেস্টের প্রথমদিন আসার আগেই যে সিরিজের শেষদিন চলে এলো!

অথচ আজ সকালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে টস করতে নামার কথা ছিলো মাহমুদল্লাহ রিয়াদের। কিন্তু টস করতে মাঠে নামার বদলে তিনি যে বিমানবন্দরে ছুটছেন, দেশে ফেরার পথে! অথচ এই ম্যাচটা হতে পারতো নিউজিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টিম সাউদির প্রথম টেস্ট। কিন্তু এদিনে যে সাউদিকে ক্রাইস্টচার্চে ৪৯ জনের মৃত্যুতে শোক বইয়ে সমবেদনা জানিয়ে কিছু লিখতে হচ্ছে, চোখে জল নিয়ে!

অথচ টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেদিনের এই সময়ে ক্রিকেট রিপোর্টারদের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রিভিউ লেখার কথা ছিলো। কিন্তু লিখতে হলো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ক্রিকেটারদের আতঙ্ক-উদ্বেগের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বয়ান!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/16/1552713677266.jpg

অথচ এইদিনে দুপুর বা মাঝ বিকালের এই সময়টায় তামিমের আরেকটি সেঞ্চুরি উৎসবের কীর্তি নিয়েই পক্তিমালা সাজানোর কথা ছিলো। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কের মসজিদে প্রবেশ পথের সেই রক্তাক্ত স্তম্ভের পাশে একরাশ ফুল রেখে আসতে হলো নিহতের স্মরণে!

১৫ মার্চের ক্রাইস্টচার্চের দুপুর শুধু ক্রিকেট ইতিহাস নয়, বদলে দিয়েছে একসঙ্গে অনেক অনেক কিছুকে। টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিয়েছে অনেক দিনের জমিয়ে রাখা বিশ্বাসকে। যে বিশ্বাসের নাম ছিলো নিউজিল্যান্ডের মাটি নিরাপদ।

সেই বিশ্বাস এখন নষ্ট।

পুরো নিউজিল্যান্ডকে প্রকৃতি দু’হাত ভরে যেন উজাড় করে দিয়েছে। চারধারের সবুজ প্রকৃতি ও বিশাল পাহাড়ের আঙ্গিক বৈশিষ্ঠ্যর সৌন্দর্যকে অক্ষুণ রেখেই আধুনিকতার বসবাস এখানে। নিউজিল্যান্ডে পা রেখে এই শান্ত-সুবজের সৌন্দর্য্য বিমোহিত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিবারই ক্রিকেটাররা এখানে পৌঁছে এবং এখান থেকে ফেরার সময় সেই সৌন্দর্য্যরে সঙ্গী হয়ে ছবি তুলতেন। সেগুলো ছিলো সুন্দর স্মৃতির ফ্রেম।

কিন্তু এবার ফেরার সময় যে ছবি তুললেন ক্রিকেটাররা সেই ছবির অলিখিত ক্যাপশন একটাই-‘নিউজিল্যান্ড ছাড়ছি, কি শান্তি!’ শনিবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চের বিমানবন্দরে পৌছানোর পর পুরো ক্রিকেট দলের স্বস্তির নিঃশ্বাস; জীবন ফিরে পাওয়ার স্বস্তি!

টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠার আগে লিখলেন- ‘সুন্দর নিউজিল্যান্ডে এখন সন্ত্রাসের কালো ছোঁয়া! দুঃখ হচ্ছে। আশায় আছি সবকিছু দ্রুত বদলে যাবে।’

এতদিন নিউজিল্যান্ড ছিলো সব সুন্দরের দেশ। কিন্তু সেই সুন্দরের আয়নায় এখন অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের নখর! পাহাড়, পার্ক, ঝর্না, লেকের নিউজিল্যান্ডে হঠাৎ এসে হাজির হলো উন্মত্ত খুনি, উগ্র জাতীয়তাবোধের জিঘাংসা!

হ্যাগলি পার্কের কাছে আল নূর মসজিদে নিহতদের স্মরণে নিজের ফার্ন বাগানের একগোছা ফুল রেখে চলে যাওয়ার সময় ধরা গলায় একজন বললেন-‘আমাদের সুন্দর শহরে অশুভ এক দৈত্য এসেছিলো!'

যে কোন বিপদ মানুষকে একজোট হতে শেখায়। ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ এই খুনি হামলায় পুরো নিউজিল্যান্ড এখন সেই ঐক্যের শক্তিতে বলীয়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রায় সব শহরেই মুসলমানদের বিভিন্ন স্থাপনা বা মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টারের সামনে সারি সারি ফুলের সারি। শোক-সমবেদনা-সহমর্মিতার এই উদাহরণই জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ড আবার হাসবে ঝলমলে হাসিতে। যে হাসিতে ঝরে মুক্তো দানা। যে হাসি গান গায় মনুষত্ব্যের!

খুনি ব্রেন্টট ট্যারান্ট শুক্রবার দুপুরে বন্দুক হাতে নিয়ে উন্মত্ত হাসি হাসছিলো। শনিবার দুপুরেই হাতে হাতকড়া, কাঠগড়ায় দাড়ানো তার ছবিটা চিরসত্য সেই কথাটা আরেকবার জানিয়ে গেল; মানুষ জিতবেই। অশুভ দৈত্য হারবেই!

আপনার মতামত লিখুন :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা কোথায়?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা কোথায়?
ফরিদুল আলম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

টানা দ্বিতীয়বারের মতো হোঁচট খেল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। গত বছর ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মত প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রত্যাবাসনের দিন বেঁকে বসেন রোহিঙ্গারা। সে দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে গেলে আবার মিয়ানমার সরকারের সম্মতিতে ২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ফলাফল একই, কারণ প্রত্যাবাসনের এই প্রক্রিয়াটি নেওয়া হয় অনেকটা বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকারেরে মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন মোতাবেক শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়া কাউকে যে তার সম্মতি ব্যতিরেকে প্রত্যাবাসন করা যায় না সে কথা বোধ হয় আমরা বারবার ভুলে যাচ্ছি। আরেকটি কথা, শরণার্থী জীবন অভিশাপের শামিল জানা সত্ত্বেও এদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কেন নিজ দেশে ফিরতে চান না সেটা রহস্যে ঘেরা। এখানে একটি যৌক্তিক বিষয় হচ্ছে, নিজ দেশে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ফেরত যাবার ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর আমরা এটাও জানি যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নাগরিকত্ব বাতিল করলেও বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক চাপ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার বিষয়েই আশ্বস্ত করে এসেছে। কিন্তু এই প্রত্যাবাসনের পথে বড় সমস্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে সেখানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সম্পত্তি, বসতভিটে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবার বিষয়টি।

তাদের বরাবরের আশ্বাসের পর দুবার এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যাবার পেছনে আরেকটি বড় কারণ এদেশে কর্মরত বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো। গত ২২ জুন দ্বিতীয়বারের মত এই প্রক্রিয়া ভণ্ডুল হবার পর জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত সব সাহায্য সংস্থার কার্যক্রম মনিটর করার সুপারিশ জানানো হয়।

কথিত রয়েছে যে এদেশে কর্মরত এনজিওগুলো বারবার এই প্রত্যাবাসনের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এর আগেরবারও যখন এই প্রত্যাবাসন বাঁধাগ্রস্ত হয়েছিল সেদিনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু এর পরও এসব এনজিওর কার্যক্রমের যথাযথ মনিটরিং সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, এনজিওগুলো ‘ইল মোটিভ’ নিয়ে কাজ করছে।

পরপর দ্বিতীয়বারের মত এই প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হবার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবারও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশাবাদ জানানো হলেও পরিস্থিতি এখন কিন্তু আসলে জটিল আকার ধারণ করছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্রের ডালপালা বিস্তৃত হচ্ছে। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। আর এক্ষেত্রে যতটুকু না আন্তর্জাতিক মহল যুক্ত তার চেয়ে বেশি যুক্ত আভ্যন্তরীণ কর্মকগুলো। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে এক সমূহ দুর্যোগের সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ।

কিছুদিন আগে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মিয়ানমার সরকার যদি প্রতিদিন ৩০০ জন করে রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়, তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে ৭ বছর, আর এই সময়ে খরচ হবে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প তৈরি করতে ৬ হাজার একর বনভূমি উজাড় করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৭৪১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে বনভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েই চলছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশি এবং বিদেশি এনজিওগুলো কর্তৃক রোহিঙ্গাদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করার কারণে। এক কথায় সরকারের বর্তমান তৎপরতায় এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে, যা আমাদেরও দারুণভাবে চিন্তিত করে তুলছে।

অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে তা থেকে মনে হচ্ছে, এই সমস্যা সহজে মেটার নয়। আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা দিলেও এই সহায়তা দীর্ঘকালীন সময় ধরে চলবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইতোমধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের কাজটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থা করে থাকে এবং এই খাতে তাদের প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার।

এই অবস্থায় আমরা যদি নিকট ভবিষ্যতে এসব দাতাগোষ্ঠীকে পিছু হটে যেতে দেখি তবে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তাই দ্রুত এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এখানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে হচ্ছে না, কারণ মিয়ানমার নামমাত্র সংখ্যক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি হলেও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। দরকার তাই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেইফ হোম’ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে যৌথ নজরদারি এবং সেই সঙ্গে এনজিওগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে প্রত্যাবাসনের স্বার্থে জাতিসংঘ ব্যতীত অপরাপর এনজিওগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাব বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যক্তিত্ববানরা শ্রদ্ধার পাত্র হবেন-এটাই স্বাভাবিক 

ব্যক্তিত্ববানরা শ্রদ্ধার পাত্র হবেন-এটাই স্বাভাবিক 
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা ভাবি না বিধায় পরিবার থেকে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়। নিজের কাজগুলোকে ভালোভাবে উপভোগ করাটাকেই আমি মুখ্যভাবে দেখি। পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটে বলে আমি মনে করি।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসেবে অনেকের সাথে মেলামেশা করতে হয়।মানুষের সাথে মেলামেশা করতে ভালোই লাগে। যদিও মানুষের সঙ্গে মেশা ও মানুষকে জানার আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। খুব সহজেই পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গেই মিশতে পারি, সেজন্য বন্ধুর সংখ্যাও কম নয়।

পারিবারিক হোক আর পেশাগত হোক আমরা মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে দেখতে পাই যাদের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যে আমরা আটকে যাই-বিমোহিত হই। মানুষের চলাফেরা, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি এবং তার চিন্তাধারায় ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। আচরণই যেহেতু ব্যক্তিত্ব, তাই আমরা চাইলেই আমাদের ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারি। বেহুদা যুক্তিতর্ক না করে ব্যক্তিত্ব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিজের কথার সাথে কাজের মিল রাখা। সময় ও অবস্থান বুঝে আচরণ করা। উদাহরণ স্বরূপ-পরিবারের মানুষের সঙ্গে একরকম আচরণ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে একরকম, বয়সভেদে একরকম এবং পরিচিতদের সঙ্গে একরকম ও অপরিচিতদের সঙ্গে একরকমের আচরণ হওয়া উচিত।

কোন সমস্যার সন্মুখীন হলে অভিযোগ করার পরিবর্তে কীভাবে সমাধান করা যায় তার চেষ্টা করা দরকার। যিনি নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারেন, তিনি শুধু নিয়োগকর্তা কর্তৃক নয় পারিবারিকভাবেও প্রশংসিত হোন। সমস্যার সন্মুখীন হয়ে যদি কেউ তা কোন অভিযোগ ছাড়াই উতরানোর চেষ্টা করেছেন-যদি তিনি সমাধান করতে ব্যর্থও হোন তবুও তাতে তার জানার আগ্রহ প্রকাশ পায়।

প্রখর বাস্তব বুদ্ধি, চতুরতা ও সহিষ্ণুতা থাকলে পুঁথিগত বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া যায়।

তাই কারো করুণার পাত্র না হয়ে নিরপেক্ষভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। ব্যক্তিত্ব বিকাশের মূল উৎস হচ্ছে মানসিকতা আর বিবেক ও আবেগ দ্বারাই মানসিকতা গড়ে ওঠে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বেরিয়েছে পৃথিবীর ৮৭% লোক তাদের অ্যাটিচুডের কারণে সফল হয়। আর এই অ্যাটিচুড দুই প্রকার। যথা:- ১.রি-অ্যাক্টিভ Vs ২.প্রো-অ্যাক্টিভ।

দেয়াশলাই এর একটি কাঠি দিয়ে যেমন ঘর পোড়া যায় আবার আলোকিত হয় তেমনি একটি গ্লাস দিয়ে মদ খাওয়া যায় আবার দুধ খাওয়া যায়। একইভাবে একটি সেলফোন দিয়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায় আবার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়। তাই প্রো-অ্যাক্টিভ হওয়ার জন্য পাঁচটি জিনিস অন্যকে দিতে হবে। যথা:- ১.Respect (সম্মান) ২.Influence (উৎসাহ) ৩.Help (সহযোগিতা) ৪.Gratitude (কৃতজ্ঞতা) ৫.Experience (অভিজ্ঞতা)।

ব্যক্তিত্বের অনুভূতি অন্য রকম। আমরা বলে থাকি-তিনি চমৎকার কথা বলেন, তার চমৎকার ধৈর্য, মানুষকে সহজেই মেনে নিতে পারে। আহা! তার মতো যদি হতে পারতাম...।  

ব্যক্তিত্ববানরা সকল ভয়, হীনম্যনতা ও অসুখীর মায়াজাল থেকে মুক্ত থাকতে পারে বিধায় তারা সফল এবং সন্মানের যোগ্য। জীবনে সফল হওয়া সহজতর না হলেও ব্যক্তিত্ববানরা এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। কেবল সুন্দর পোশাক আর বিলাসিতায় মজে থাকলে ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে না, প্রয়োজন শুধু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

ব্যক্তিত্ববানরা অনেক সাধারণ পোশাক যেমন সুন্দরভাবে পরিধান করে, আবার অনেক সাধারণ কথাও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। তাদের তাকালেই শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে। ব্যক্তিত্ববান মানুষ ধনী-গরীব, জাত-কুল নির্বিশেষে মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র হয়। তাই ব্যক্তিত্ববানরা আমাদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেন। যে মানুষগুলো এত সংযম রেখে চলেন-তারা আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবেন এবং শ্রদ্ধার পাত্র হবেন এটাই স্বাভাবিক। 

মুত্তাকিন হাসান: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানব সম্পদ পেশাজীবী   

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র