Alexa

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!

এম. এম. কায়সার, ছবি: বার্তা২৪.কম

এম. এম. কায়সার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম

অথচ আজ হওয়ার কথা ছিলো ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিন। কিন্তু এই টেস্টের প্রথমদিন আসার আগেই যে সিরিজের শেষদিন চলে এলো!

অথচ আজ সকালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে টস করতে নামার কথা ছিলো মাহমুদল্লাহ রিয়াদের। কিন্তু টস করতে মাঠে নামার বদলে তিনি যে বিমানবন্দরে ছুটছেন, দেশে ফেরার পথে! অথচ এই ম্যাচটা হতে পারতো নিউজিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টিম সাউদির প্রথম টেস্ট। কিন্তু এদিনে যে সাউদিকে ক্রাইস্টচার্চে ৪৯ জনের মৃত্যুতে শোক বইয়ে সমবেদনা জানিয়ে কিছু লিখতে হচ্ছে, চোখে জল নিয়ে!

অথচ টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেদিনের এই সময়ে ক্রিকেট রিপোর্টারদের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রিভিউ লেখার কথা ছিলো। কিন্তু লিখতে হলো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ক্রিকেটারদের আতঙ্ক-উদ্বেগের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বয়ান!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/16/1552713677266.jpg

অথচ এইদিনে দুপুর বা মাঝ বিকালের এই সময়টায় তামিমের আরেকটি সেঞ্চুরি উৎসবের কীর্তি নিয়েই পক্তিমালা সাজানোর কথা ছিলো। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কের মসজিদে প্রবেশ পথের সেই রক্তাক্ত স্তম্ভের পাশে একরাশ ফুল রেখে আসতে হলো নিহতের স্মরণে!

১৫ মার্চের ক্রাইস্টচার্চের দুপুর শুধু ক্রিকেট ইতিহাস নয়, বদলে দিয়েছে একসঙ্গে অনেক অনেক কিছুকে। টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিয়েছে অনেক দিনের জমিয়ে রাখা বিশ্বাসকে। যে বিশ্বাসের নাম ছিলো নিউজিল্যান্ডের মাটি নিরাপদ।

সেই বিশ্বাস এখন নষ্ট।

পুরো নিউজিল্যান্ডকে প্রকৃতি দু’হাত ভরে যেন উজাড় করে দিয়েছে। চারধারের সবুজ প্রকৃতি ও বিশাল পাহাড়ের আঙ্গিক বৈশিষ্ঠ্যর সৌন্দর্যকে অক্ষুণ রেখেই আধুনিকতার বসবাস এখানে। নিউজিল্যান্ডে পা রেখে এই শান্ত-সুবজের সৌন্দর্য্য বিমোহিত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিবারই ক্রিকেটাররা এখানে পৌঁছে এবং এখান থেকে ফেরার সময় সেই সৌন্দর্য্যরে সঙ্গী হয়ে ছবি তুলতেন। সেগুলো ছিলো সুন্দর স্মৃতির ফ্রেম।

কিন্তু এবার ফেরার সময় যে ছবি তুললেন ক্রিকেটাররা সেই ছবির অলিখিত ক্যাপশন একটাই-‘নিউজিল্যান্ড ছাড়ছি, কি শান্তি!’ শনিবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চের বিমানবন্দরে পৌছানোর পর পুরো ক্রিকেট দলের স্বস্তির নিঃশ্বাস; জীবন ফিরে পাওয়ার স্বস্তি!

টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠার আগে লিখলেন- ‘সুন্দর নিউজিল্যান্ডে এখন সন্ত্রাসের কালো ছোঁয়া! দুঃখ হচ্ছে। আশায় আছি সবকিছু দ্রুত বদলে যাবে।’

এতদিন নিউজিল্যান্ড ছিলো সব সুন্দরের দেশ। কিন্তু সেই সুন্দরের আয়নায় এখন অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের নখর! পাহাড়, পার্ক, ঝর্না, লেকের নিউজিল্যান্ডে হঠাৎ এসে হাজির হলো উন্মত্ত খুনি, উগ্র জাতীয়তাবোধের জিঘাংসা!

হ্যাগলি পার্কের কাছে আল নূর মসজিদে নিহতদের স্মরণে নিজের ফার্ন বাগানের একগোছা ফুল রেখে চলে যাওয়ার সময় ধরা গলায় একজন বললেন-‘আমাদের সুন্দর শহরে অশুভ এক দৈত্য এসেছিলো!'

যে কোন বিপদ মানুষকে একজোট হতে শেখায়। ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ এই খুনি হামলায় পুরো নিউজিল্যান্ড এখন সেই ঐক্যের শক্তিতে বলীয়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রায় সব শহরেই মুসলমানদের বিভিন্ন স্থাপনা বা মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টারের সামনে সারি সারি ফুলের সারি। শোক-সমবেদনা-সহমর্মিতার এই উদাহরণই জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ড আবার হাসবে ঝলমলে হাসিতে। যে হাসিতে ঝরে মুক্তো দানা। যে হাসি গান গায় মনুষত্ব্যের!

খুনি ব্রেন্টট ট্যারান্ট শুক্রবার দুপুরে বন্দুক হাতে নিয়ে উন্মত্ত হাসি হাসছিলো। শনিবার দুপুরেই হাতে হাতকড়া, কাঠগড়ায় দাড়ানো তার ছবিটা চিরসত্য সেই কথাটা আরেকবার জানিয়ে গেল; মানুষ জিতবেই। অশুভ দৈত্য হারবেই!

যুক্তিতর্ক এর আরও খবর

ঊন মানুষ!

ঊন মানুষ!

আমরা কে শ্বেত পূজারী নই? নিত্য প্রাত্যহিক জীবনে ফর্সার পেছনে আমাদের ছুটে চলা। সাদা’র প্রতি যে শুধু রঙ হিসেবেই আমা...