Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মুখের ত্বকে যা ব্যবহার করা অনুচিত

মুখের ত্বকে যা ব্যবহার করা অনুচিত
লেবু ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে দেয়। ছবি: আসিফ
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

মুখের ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের জন্য ব্যবহার করা হয় ত্বকের জন্য উপকারি বেশ অনেকগুলো উপাদান।

যার মাঝে কিছু থাকে প্রাকৃতিক উপাদান ও কিছু প্রসাধনী সামগ্রী। তবে মুখের ত্বকে ব্যবহারের জন্য কোন জিনিসগুলো এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন সেটা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। ফলে উপকারের বদলে দেখা দেয় নানান ধরণের ত্বকের সমস্যা।

আপনি হয়তো ভাবছেন, এই উপকরণটি ব্যবহার ত্বকের জন্য ভালো হতে পারে। আদতে তা ত্বকের জন্য বেশ ক্ষতিকর একটি উপকরণ! ত্বক সুস্থ রাখতে জেনে নিন মুখের ত্বকে কোন জিনিসগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলবেন।

সাবান

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজির মুখপাত্র এবং শিকাগো কসমেটিক সার্জারির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ওমর ইব্রাহিম জানান, মুখ পরিষ্কার করা খুবই স্পর্শকাতর ব্যাপার। মুখ পরিষ্কার ও মুখ থেকে বাড়তি তেল দূর করার জন্য কোন বিশেষ সামগ্রী দিয়ে মুখ ধোয়া প্রয়োজন। কিন্তু সাবান দিয়ে মুখ ধোয়ার ফলে মুখের বাড়তি তেলের সাথে প্রয়োজনীয় তেলও দূর হয়ে যায়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ওঠে। যা পক্ষান্তরে ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে মুখ ধোয়ার জন্য সাবান ব্যবহার করতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বিরত থাকতে বলেন।

আরো পড়ুন: মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলা প্রয়োজন!

লেবু

শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য লেবু উপকারি হলেও মুখের ত্বকের জন্য নয়। ডাঃ ধাভাল বানশালী জানান, লেবু কিংবা অন্য যেকোন সাইট্রাস ফল মুখের ত্বকে ব্যবহারে এক ধরণের কেমিক্যাল বার্ণ হয়। যাকে বলা হয় ফাইটোফটোডার্মাটাইটিস (Phytophotodermatities). মুখের ত্বকে কোনভাবেই লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার করা যাবে না। অনেকেই অন্য কোন উপাদানের সাথে মিশিয়ে লেবুর রস ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

নারিকেল তেল

মুখে নারিকেল তেল ব্যবহার করা একেবারেই বারণ। নারিকেল তেলে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ থাকলেও, এই উপাদানের অতিরিক্ত উপকারিতাগুলোই মুখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডাঃ ইব্রাহিম জানান, নারিকেল তেল অতিরিক্ত ঘন। ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। ফলে মুখের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ও ইষ্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা থেকে ব্রণ ও ইনফেকশন দেখা দেয়। এই কারণে মুখের ত্বক হালকা ঘরানার তেল যেমন অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হয়। তাও পরিমাণে খুব কম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/13/1536822086760.jpeg

মেয়াদোত্তীর্ণ সানস্ক্রিন

বাইরে প্রচন্ড রোদ দেখে গত বছরের সানস্ক্রিন ক্লজেট থেকে বের করে ব্যবহার করলেন। এতে ভালোর বদলে ক্ষতি হবার সম্ভবনাই বেশি। কেনো? ব্যাখ্যা করেছে ডাঃ ইব্রাহিম। তিনি জানান মেয়াদোত্তীর্ণ সানস্ক্রিনের কার্যকারতা নষ্ট হয়ে যায় একেবারেই। বরং তার কেমিক্যাল প্রভাব ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। যে কারণে অবশ্যই সানস্ক্রিনের মেয়াদ দেখে ব্যবহার করতে হবে।

বডি লোশন ও ক্রিম

বলুন তো, মুখের ত্বকে কতবার বডি লোশন ও ক্রিম ব্যবহার করেছেন? এ যাবতকাল পর্যন্ত যতবারই ব্যবহার করুন না কেন, এখন থেকে মুখের ত্বকে বডি লোশন ও ক্রিম ব্যবহার এড়িয়ে যেতে হবে। নারিকেল তেলের মতোই মুখের ত্বকে বডি লোশন ও ক্রিম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। কারণ বডি লোশন ও ক্রিম খুব ঘন ও ভারী হয়ে থাকে। যা একইভাবে মুখের ত্বকে ব্রণ ও ইনফেকশনের প্রাদুর্ভাব এনে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র