Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাল্যবিবাহ জরায়ু ক্যান্সারের অন্যতম কারণ

বাল্যবিবাহ জরায়ু ক্যান্সারের অন্যতম কারণ
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাল্যবিবাহ জরায়ু মুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এনজিওর পাশাপাশি সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে ক্যান্সার দূরীভূত করা সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, স্ক্রিনিং করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ বেশকিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জরায়ু মুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে মার্চ ফর মাদার আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা এসব পরামর্শ দেন। 

’বাল্যবিবাহকে জোর না’ প্রতিপাদ্যে এবারের জরায়ু মুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস-২০১৯ পালিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়নী অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, তিন ধাপে আমরা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি। প্রথমত, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল মেয়েদের টিকা দিতে হবে। একই সঙ্গে ছেলে মেয়ে, নারী পুরুষ সকল বয়স-শ্রেণী-পেশার লোকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে। এটি প্রতি ৩ বছর পর পর করাতে হবে। এবং সর্বশেষ ৬০ বছরের উপরে বা ৪০ বছরের উপরে যারা প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার আক্রান্ত তাদেরকে নানা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করতে পারি। 

হিসটোপ্যাথোলজিস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৬ বছর বয়সের আগে শারীরিক সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ। অথবা প্রথম মাসিকের পরবর্তী ১ বছরের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার ঝুঁকিপূর্ণ।  তাই বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মার্চ ফর মাদার এর প্রধান সমন্বয়ক ও জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনাল গভর্নর রোটারিয়ান এএফএম আলমগীর, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ হেলথ ইকোনমিক্স বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ডিএমসিএইচ এর রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক স্বপন বন্দোপাধ্যায়, অপরাজিত সোসাইটি অ্যাগেইনিস্ট ক্যান্সার এর চেয়ারপারসন তাহমিনা গাফফার প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

হাঁটুর ব্যথা নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

হাঁটুর ব্যথা নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
হাঁটু মানুষের ভার বহন করে

হাঁটু মানুষের শরীরের সমস্ত ওজন বহন করে এবং আমাদের দাঁড়াতে, হাঁটতে, দৌড়াতে সাহায্য করে। হাঁটু মূলত একটি জটিল অস্থিসন্ধি, যা ফিমার, প্যাটেলা এবং টিবিয়া নামক ৩টি হাঁড়ের সমন্বয়ে গঠিত। এছাড়াও এই জয়েন্ট অনেক মাংশপেশি ও সন্ধিবন্ধনীর সাহায্যে সংযুক্ত। হাঁটুর জয়েন্টের ভেতরটা সায়নোভিয়াল মেমব্রেন বা ঝিল্লি দিয়ে ঢাকা থাকে। এই সায়নোভিয়াল মেমব্রেন সায়নোভিয়াল ফ্লাইড তৈরি করে, যা হাঁটুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয় রোধ করে। হাঁটুর জয়েন্টের চারপাশে থাকে সূক্ষ্ম নার্ভের জালিকা যা হাঁটুতে তৈরি হওয়া ব্যথার অনুভূতি ব্রেইনে পাঠিয়ে দেয় এবং আমরা হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562756490919.jpg

হাঁটু ব্যথা কেন হয়?
বিভিন্ন কারণে হাঁটু ব্যথা হতে পারে। তবে অন্যতম কারণ—হাড়ক্ষয় বাত বা অস্টিওআথ্রাইটিস। এর ফলে হাঁটুতে ব্যথা হয়, কখনো কখনো হাঁটু ফুলে যেতে পারে। হাঁটাচলা করতে, নামাজ পড়তে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে অনেক কষ্ট হয়।
আঘাত হাঁটুর ব্যথার একটি বড় কারণ। আঘাতের কারণে মাংশপেশি বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। কখনো কখনো হাঁড় সরে বা ভেঙে যায়। অনেক সময় ভারী জিনিস ওঠানামা করার কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের কারণেও হাঁটু ব্যথা হতে পারে।

কাদের বেশি হয়?
গবেষণা বলছে, হাঁটুর ক্ষয় বাত সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর শুরু হয়। বিভিন্ন হরমোনজনিত কারণে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের হাঁটুর ব্যথা বেশি হয়। এছাড়া পুরনো আঘাতের কারণেও বিভিন্ন বয়সে হাঁটু ব্যথা হতে পারে।

কী করা উচিত?
১. হাঁটু যেহেতু আমাদের শরীরের সমস্ত ওজন বহন করে তাই হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

২. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এছাড়াও কিছু আরোবিক ব্যায়াম যেমন—দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানোর অভ্যাস হাঁটু ভালো রাখবে।

৩. আমাদের হাঁড় গঠনে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের ভূমিকা অনেক। শরীরে এই ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে সূর্যের আলোর ভূমিকা অপরিসীম। তাই সুস্থ সবল হাঁড় গঠনে আমাদের কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা উচিত।
গবেষণা বলছে, মধ্য দুপুরের সূর্য অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সময়ের সূর্যের আলো ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

৪. কিছু সহজ ব্যায়াম হাঁটুকে শক্তিশালী করে এবং ব্যথামুক্ত রাখতে সাহায্য করে

ক. একটি নরম তোয়ালে ভাঁজ করে হাঁটুর নিচে রেখে হাঁটু দিয়ে তোয়ালের উপর চাপ দিয়ে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে ১০ বার করে দিনে ২-৩ বার করতে হবে।
খ. একটি চেয়ারে বসে পায়ের গোড়ালিতে ১-২ কেজি ওজন বেঁধে পা সোজা করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং পরে ভাঁজ করুন। আবার সোজা করুন। এভাবে ১০-১৫ বার করে দিনে ২-৩ বার করতে হবে।

৫. ফিজিওথেরাপি : হাঁটু ব্যথার চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি খুবই কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা। শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি হাঁটু ব্যথা নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। বিভিন্ন ধরনের ম্যানুয়াল থেরাপি, যেমন—জয়েন্ট মবিলাইজেশন, ম্যানিপুলেশন, স্ট্রেচিং, টেপিং ইত্যাদি খুবই কার্যকরী। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের হিট কম্প্রেশন হাঁটু ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562756385645.jpg

৬. খাদ্যাভাস : একটি পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস হাঁটুর ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন—ভিটামিন এ, সি, ই জয়েন্টের ক্ষয়রোধ করে।
ছোট মাছ, ডিম, দুধ, মাখন, দই, পনির ইত্যাদি ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার হাঁড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে।

তেলসমৃদ্ধ মাছে আছে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ যা এন্টি ইনফ্লামেটরি সমৃদ্ধ এবং হাঁড়ক্ষয় রোধে খুবই উপকারী। এছাড়া কিছু তেল যেমন—অলিভ অয়েল, এভোকোডা, সেফ-ফ্লাওয়ার তেল শরীরের কোলেস্টোরল কমাতে সাহায্য করে। পালংশাক, রসুন, বাদাম, ব্রকলি, গ্রিন-টি ইত্যাদি খাবার হাঁড়ের ক্ষয় রোধে খুবই উপকারী।

হাঁটু সুস্থ রাখতে, ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করতে নিয়মিত ব্যয়াম করুন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন এবং সুস্থ থাকুন।

অ্যাপোলো হাসপাতাল হতাশ করল

অ্যাপোলো হাসপাতাল হতাশ করল
অ্যাপোলো হাসপাতাল / ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপোলো হাসপাতালে (ঢাকা) রোগীর সঙ্গে সারাদিন অবস্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার এই লেখা। আগে কখনো এত লম্বা সময় ধরে এই হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়নি। সম্প্রতি অ্যাপোলো হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে ভিন্ন রকমের এক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশি দেশ ভারতের বেশ কিছু হাসপাতাল পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। কখনো রোগীর স্বজন হিসেবেও গিয়েছি। সেসব হাসপাতালের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করে শুধু হতাশাই বেড়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্বনামধন্য এই হাসপাতালটির ব্যাপারে। বিশেষ করে অন্দরের ব্যবস্থাপনা খুব একটা সুখকর হলো না। বলা চলে প্রত্যাশার সিকি ভাগ পূরণেও ব্যর্থ

হাসপাতালটির ব্যয়বহুল ভিভিআইপি সুইট রুমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। অপারেশন পরবর্তী এই রুমে অবস্থানের সময়টা জুড়ে কখনো মনে হয়েছে গ্রামীণ কোনো রেস্টুরেন্টে আছি, কখনোবা মনে হয়েছে মাছ বাজারে আছি। টিনের চালা মেরামত করার সময় যেমন গ্রামের অপর প্রান্ত থেকে শব্দ পাওয়া যায়। এখানেও তেমনি শব্দ কানে এসে বাজতে থাকে।

অবাক করা ব্যাপার এসব শব্দ বাইরের গাড়ির হর্ন কিংবা অন্য কিছুর নয়। বরং খোদ হাসপাতালের বয়, ক্লিনার ও স্টাফদের সৃষ্ট। তাদের চলনে বলনে কোনো সাবধানতা নেই, ক্ষিপ্ত গৃহিণী যেমন কাজের সময় হাড়ি-বাসন আছড়ে আছড়ে কাজ করে অনেকটা তেমনই চিত্র এখানকার। সাইলেন্স জোন হওয়ায় সেই শব্দ কানে বিঁধছিল শুলের মতো। রোগীর কাতরতা আরো উদ্বিগ্ন করে তুলছিল।

খাবার পরিবেশন করতে আসা বয়রা তো যেন কয়েকধাপ বেশি। ধড়াশ ধড়াশ শব্দে প্লেট গ্লাস রাখছিলেন খাবারবাহী স্টিল শিটের ট্রলিতে। এত বিদঘুটে শব্দ হচ্ছিল, যেটা যে কারো বিরক্তির কারণ হতে বাধ্য। আবার নার্সদের উচ্চস্বরে হাঁকডাক রুমে বসেও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। গ্রামীণ হাটবাজারে হাঁক ছেড়ে যেভাবে একে অন্যকে ডাকাডাকি করেন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আবার টিফিন আওয়ারে স্কুলের কমন রুম থেকে যেমন গমগম শব্দ আসে এখানেও সারাক্ষণ তা বিদ্যমান।

অথচ তখন কেবিনে কেবিনে অনেক রোগী ঘুমাতে না পারায় ঘুমের ওষুধ প্রদান অব্যহত। জেগে উঠলেই যন্ত্রণা কাতর, স্বজনদের উদ্বিগ্ন অবস্থান। রোগী ও স্বজনদের সেই যন্ত্রণার বিষয়ে না আছে বয় বেয়ারাদের দৃষ্টি, না আছে নার্সদের কোনো ভাবান্তর। ভাবছিলাম ডাক্তার ও ম্যানেজমেন্ট বোধহয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। কিন্তু সেই ভুল ভাঙতেও বেশি সময় লাগল না। বিকেলে সার্জারি ডাক্তার এসে বন্ধ দরজায় যেভাবে নক করছিলেন মনে হলো ডাকাত পড়েছে, দরজা না খুললে ভেঙে ফেলতে পারে।

অথচ ঘণ্টা তিনেক আগে সেই রোগীর অপারেশন হয়েছে। তার যে তখন পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন সেদিকে যেন কারোরই কোনো মনোযোগ নেই। বেশি হতাশ লাগল যখন দেখা গেল ডাক্তার পরিদর্শনের সময়েও নার্সদের আচরণে কোনো রকম ভাবান্তর হলো না।

রাত সাড়ে ৯টায় রোগীর স্যালাইন চলছে। রোগী যেতে চাইলেন টয়লেটে, বয়কে ডাকা হলো। নার্স জানালেন নিচে গেছে ফোন করা হয়েছে এলেই পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে দফায় দফায় খবর দিলে নার্স বারবার একই উত্তর দিচ্ছিলেন।

এভাবে ৩০ মিনিট অতিবাহিত হয়, নার্স জানালেন বয়ের ডিউটি ১১টা থেকে। রোগীর ত্রাহি অবস্থা দেখে ডিউটি অফিসারকে অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দিলে আরো কয়েক মিনিট পর দেখা দিলেন বয়।
দেয়ালে দেয়ালে টানানো ডিউটি ম্যানেজারের নম্বর, আবার সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে মাঝে মাঝেই ভেসে আসছিলে মহীরূহ মুশকিল আসান ডিউটি ম্যানেজারের নম্বর। যে কোনো সমস্যায় তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ। কিন্তু সেই ডিউটি ম্যানেজারকেও পাওয়া গেল কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর।

তাকে জানানো হলো বয়ের সংক্ষিপ্ত সার। প্রথমে বললেন অভিযোগ দেন ব্যবস্থা নিচ্ছি। জানতে চাইলেন নার্সের নামও। সাক্ষাতে বিস্তারিত জানানোর আগ্রহ দেখিয়ে বলা হলো আপনি কোথায় আছেন দেখা করতে চাই। তখন বললেন, আমিই আসছি। রাত পৌনে ১০টায় কথা হয়, আর ডিউটি ম্যানেজার এলেন রাত ১টার দিকে। যখন রোগী, স্বজন সবাই ঘুমাচ্ছে।

আমাদের রোগীরা গণহারে বিদেশগামী হচ্ছে। এ বিষয়ে ডাক্তারদের বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অন্যদেশের বেসরকারি হাসপাতালের তুলনা করা হয়। যে কারণে হতাশ হয় রোগীরা। ডাক্তারের এই বক্তব্যের যুক্তি খুঁজে মনকে সান্ত্বনা দেওয়া যেত এতদিন। কিন্তু দেশের একমাত্র জেএমআই সার্টিফায়েড হাসপাতালের এমন করুণ হাল মনকে বড়ই হতাশাগ্রস্ত করল।

বাইরে বেরিয়ে দেখি পার্কিংয়ে রাখা বাইকের ওপর থেকে হেলমেট উধাও। সিকিউরটিকে জানালে তিনি বললেন, পরদিন দেখা করতে। কথা অনুযায়ী পরদিন দেখা হলে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রুহুল আমিন প্রথম চোটেই বলে দিলেন, সামান্য কয়টা টাকা দাম, এটার খোঁজ করে আর কী করবেন। আপনি হাসপাতালে ছিলেন প্রায় ১২ ঘণ্টা, সিসি ক্যামেরার রেকর্ড দেখতে হলে ১২ ঘণ্টা লাগবে। এতক্ষণ সময় দেওয়া কঠিন। টেনে টেনে দেখলেও অনেক সময় লাগবে।

পাশে দাঁড়ানো সহকারী মুবিন বললেন, আপনি কি মনে করতে পারবেন কখন চুরি হয়ে থাকতে পারে। সবিনয়ে তাকে জানালাম, এইটা যদি জানতাম তাহলে তো চোরকেই পাকড়াও করতে পারতাম। এবার সিকিউরিটি অফিসার বললেন, দেখে কী করবেন, আপনার মতো কোনো বাইকার হয়ে নিয়ে গেছে। তাকে জানালাম, হ্যাঁ সেই বাইকারের নম্বর হলেই তাকে পাওয়া সম্ভব।

প্রায় ২০ মিনিট ধরে বোঝাতে চাইলেন, এটা জটিল বিষয়, আর দেখেই বা লাভ কী। আপনি তো আর হেলমেট ফিরে পাচ্ছেন না। আমিও নাছোড়বান্দা, তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখবই। পরে জানালেন, এই ফুটেজ থাকে বড় অফিসারের রুমে। সেখানে যখন তখন যাওয়া যাবে না। আমি দেখছি কী করা হয়। বিকেলে ফোন দিয়ে জানালেন, ভাই, যেখানে বাইক ছিল সেই জায়গায় লাইট কম ছিল, সিসি ক্যামেরায় বোঝা যায় না। বললেন, ছয় জনের একটি গ্রুপ আপনার হেলমেট চুরি করেছে। এবার জবাব দিলাম তাহলে তো বিষয়টি সহজ। ওরা যখন মেইন গেট দিয়ে বের হয়েছে সে সময়ের ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন।

এবার যেন আগ্রহ কমে গেল রুহুল আমিনের। আবোল তাবোল বলা শুরু করলেন, সাদা কালো দেখলেও চেনা যায় না। আপনার হেলমেট চুরি হয়েছে রাত সাড়ে ১১টায়। একটু আগে যে সন্ধ্যা ৭টার কথা বললেন। এরপর বললেন, আমরাতো হেলমেটের দায়িত্ব নিই না। নোটিশ দেওয়া আছে।

তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু এ রকম একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় চুরির ঘটনা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। উল্টো জানালেন, মাঝেমধ্যেই নাকি এমন হেলমেট চুরি হয়। তাদের এই নীরবতা চরম হতাশ করল। অনেকে মনে করেন নিরাপত্তা কর্মীরাও কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। সে কারণে এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখান না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র