Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ফুটপাত দখল রেখেই চলছে ট্রাফিক সচেতনতা মাস!

ফুটপাত দখল রেখেই চলছে ট্রাফিক সচেতনতা মাস!
ফুটপাত দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতায় চলাচল করতে হয় পথচারিদের-বার্তা২৪
তাসকিন আল আনাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রিজওয়ানা হোসেন, মগবাজারের বাসিন্দা। নগরীর যানজটে প্রতিদিন অফিসে যেতে তাকে পাড়ি দিতে হয় এক ‘বন্ধুর পথ’। ফুটপাতে দিয়ে হাঁটার পথটুকুতেও থাকে হকারদের উপদ্রপ। হাঁটতে গেলে দোকানের মালামালা ফুটপাতের উপর সাজিয়ে রাখার কারণে বারবার নেমে মূল সড়ক দিয়েই হেঁটে যেতে হয় তাকে। এতে পেছন থেকে গাড়ির হর্নে বারবারই চমকে উঠেন রিজওয়ানা হোসেন।

একদিকে খানাখন্দে ভরা ফুটপাতে অন্যদিকে চলছে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং ও গাড়ির ডেকোরেশন-এমন চিত্র বাংলামটোর মোর থেকে মগবাজার পর্যন্ত ফুটপাতের। শুধু কি বাংলামটোরে মিরপুর ১, মিরপুর ১০, ফার্মগেট, গুলিস্তানসহ প্রায় অনেক স্থানে ফুটপাতে এমন অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।  

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536908750759.jpg

ফলে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সড়কে চলা মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম যেন আদতে কোন কাজেই আসছে না।

এসব স্থানে নিয়মিত চলাচলকারী পথচারীদের অভিযোগ, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে বলছেন কিন্তু ব্রিজ থেকে নেমেই আমাদেরকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফুটপাতে বসা চায়ের দোকানের, হকারের অথবা কোন গাড়ির ডেকোরেশন এর দোকানের। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কি পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

পথচারিদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে বাংলামোটরে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট শামসুজ্জোহা বলেন, প্রতিনিয়তই এই ধরনের দোকানদারদের কাছে যারা সার্ভিস নিতে আসছেন বা গাড়ি ও মোটরবাইক পার্ক করে সার্ভিসিং করাচ্ছেন তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে। দোকান তুলে দেওয়া হচ্ছে –কিন্তু তারা আবার এসে বসছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536908699312.jpg

রাজধানীতে বিভিন্ন সময় ফুটপাত উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে থাকে সিটি কর্পোরেশন। তবে ভুক্তভুগীদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন হঠাৎ একদিন অভিযান চালিয়ে ক্ষান্ত হন, এরপর আর কোনো খবর থাকে না। তারা এ ব্যাপারে তাদের এক প্রকারে উদাসীন বলা চলে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা  মোঃ আমিনুল ইসলাম বার্তা২৪.কম বলেন, আমরা প্রায়ই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। এটা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া তবে আমরা ধরে রাখতে পারি না, সকালে উঠালে বিকেলে এসে বসে পড়ে। এক্ষেত্রে পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন, ট্রাফিক সচেতনতা মাস  চলছে কিন্তু পুলিশ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটপাত ক্লিয়ার রাখার জন্য কোনো সহযোগিতা চায়নি। তবে আমরা বসে নাই, অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি।

সরজমিনে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকদের বারবার অনুরোধেও নগরবাসী যেন বুঝেই উঠতে পারছেন না। কোনটা নিয়ম আর কোনটা অনিয়মের। ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক সচল থাকা অবস্থায় একজন পথচারীকে সিগন্যাল বন্ধের আগে  জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপারে বাধা দিতে গেলে রীতিমতো ঝগড়ার পর্যায়ে চলে যায়। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536908503207.jpg

এ সময় সেখানে কর্মরত রেড ক্রিসেন্ট  স্বেচ্ছাসেবক  আশিকুর রহমান জানান ‘অনেকে জানে এবং বুঝে কোনটা জেব্রা ক্রসিং , কোনটা ফুটওভার ব্রিজ- এরপরও সচেতন হয় না। নিজের থেকে সচেতন না হলে আমাদের পক্ষে সম্ভব না ধরে ধরে সচেতন করা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536908587698.jpg

এই স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ফুটপাথ তো অবশ্যই দখলমুক্ত করতে হবে। একদিকে ফুটপাত বন্ধ করে, অন্যদিকে ট্রাফিক রুলস ফলো করতে বলব এটা হয় না। তবে সম্প্রতি প্রশাসন ট্রাফিক সচেতনতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, আশা করি আস্তে আস্তে সবার সহযোগিতা সব ঠিক হয়ে যাবে।  

গত, ২০১৬ সালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মশিউর রহমান নেতৃত্বে নিউমার্কেট, বাংলামোটর, মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজার ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হলেও এরপরে তা আবার বেহাত হয়ে যায়। স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে আবারো রমরমা ব্যবসা জমিয়ে তোলে এই এলাকার হকাররা। তবে কোনো কোনো স্থানে সফলও হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বন্যার্তদের শুকনো খাবার বিতরণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এবছর সারাদেশে কাঁঠালের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তাই দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ ফল বিদেশে রফতানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে শস্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এ দেশে কেউ খাবার অভাবে মরবে না। আমরা শুধু কৃষিতে, খাদ্য শস্যে নয়, ফলমূলেও স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছি।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বন্যা কবলিত পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা প্রায় ছয় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ওষুধ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় কেউ না খেয়ে মারা যাবে না । প্রত্যেক মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্য দেওয়া হবে । কোনো অভাবী, দরিদ্র, অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র