Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উদ্বোধনের আগেই তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

উদ্বোধনের আগেই তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস
শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাট ও রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতু ‘শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু’। গঙ্গাচড়ার মহিপুর ও কালিগঞ্জের কাকিনা প্রান্তে নির্মিত এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বাকি মাত্র দুইদিন। এরই মধ্যে আবারো ধসে গেছে উত্তরপ্রান্তের কাকিনা রুদ্রেশ্বর সীমান্তের সংযোগ সড়কের সেতু ও কালভার্টের ব্লক পিচিং। এতে বহুল প্রত্যাশিত শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুটি এখন লালমনিরহাটের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি।

স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নজিরবিহীন গাফিলতির কারণেই এঘটনা ঘটেছে। মূল সেতুর সাথে ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের ভয়াবহ নড়েবড়ে অবস্থা দেখে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিলো সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536924210116.jpg

অন্যদিকে কালিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগস্থলে তীব্র বেগে আঘাত হানায় সংযোগ সেতু ও নতুন ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। সংযোগ সড়কের ভাঙন ঠেকাতে সেতুর সামনে জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হচ্ছে।

নদীতে আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়া পানি মূল তিস্তায় না গিয়ে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা নামক স্থান দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে আর একটি চ্যানেল তৈরি করেছে। এই চ্যানেলের পানির স্রোত ও তীব্রতা মূল তিস্তার চেয়ে অনেক বেশি। গত বছরও পানির আঘাতে সংযোগ সেতুর এই অংশে ভাঙন ধরেছিলো।

স্থানীয়রা জানান, সেরাজুল মার্কেট এলাকায় নির্মিত ব্রিজের দুই কোনায় পানি তীব্র বেগে এসে আঘাত করছে। ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সংযোগস্থলে সাম্প্রতিককালের ব্লক-পিচিং ধসে গেছে। তাছাড়া ইচলি এলাকায় একটি কালভার্টের দুই পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। লোকজন ভাঙন ঠেকাতে বালির বস্তা দিচ্ছে। উজানে বাঁধ না দিলে এই ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষা করা যাবে না। সেই সাথে রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে ধসে যাওয়ার এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536924228482.jpg

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি বার্তা২৪.কমকে জানান, আগামী রোববার আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের এই শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এরআগে সংযোগ সড়কের ব্রীজের মোকা ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দু:খজনক। আমি এলজিইডি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি শনিবার বিকেল ৫ টার মধ্যেই ধসে যাওয়া অংশ সংস্কার করে পুরোপুরি যোগাযোগ উপযোগি করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, এই সংযোগ সড়ক নির্মানে অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গঙ্গাচড়ার মহিপুর-কাকিনা ঘাটে নির্মিত শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁঠাল রফতানির চিন্তা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বন্যার্তদের শুকনো খাবার বিতরণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এবছর সারাদেশে কাঁঠালের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তাই দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ ফল বিদেশে রফতানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে শস্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এ দেশে কেউ খাবার অভাবে মরবে না। আমরা শুধু কৃষিতে, খাদ্য শস্যে নয়, ফলমূলেও স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছি।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বন্যা কবলিত পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা প্রায় ছয় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ওষুধ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় কেউ না খেয়ে মারা যাবে না । প্রত্যেক মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্য দেওয়া হবে । কোনো অভাবী, দরিদ্র, অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুল হক লিটন, ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে পীরগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র