Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

খুলনার পথে পথে আলোর ফেরিওয়ালা

খুলনার পথে পথে আলোর ফেরিওয়ালা
খুলনার পথে পথে আলোর ফেরিওয়ালা। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
খুলনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ ও দালালমুক্তভাবে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘আলোর ফেরিওয়ালা’। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন সংযোগও পাচ্ছে গ্রাহকরা। এতে একদিকে গ্রাহক হয়রানি কমে আসছে, অন্যদিকে প্রত্যেকটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত হচ্ছে।

জানা যায়, স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে এ কার্যক্রমটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি অনন্য উদ্ভাবন। ইতোমধ্যে খুলনায় শতাধিক গ্রাহক ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ সেবা গ্রহণ করেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় খুলনা জেলার ৮টি উপজেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দিতে পল্লী বিদ্যুতের এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ অফিস আশা প্রকাশ করছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার শহীদুজ্জামান বার্তা২৪.কমকে জানান, আগে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পেতে গ্রাহকদের বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। গ্রাহক হয়রানি দূর করতে এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ সহজেই নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ প্রকল্পটি চালু করেছে। প্রকল্পটি শুরুর পর থেকেই গ্রাহকদের যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। একটি ভ্যানে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের নির্ধারিত টিম প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারাই সংযোগ চাচ্ছে তাদের কাগজপত্র ঠিক করে তাৎক্ষণিক সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা থাকা পর্যন্ত এ প্রকল্প চলবে বলেও জানান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547271364609.jpg

আলোর ফেরিওয়ালার লাইনম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, ‘মোবাইলে কল দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বললেই আমরা ভ্যানগাড়িতে করে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নিয়ে ২ জন লাইনম্যান, একজন প্রকৌশলী, একজন এজিএম (অর্থ) ও একজন ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আসি। আমরা একটি সংযোগের সার্ভিসের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে জামানতের ৮০০ টাকা, আবেদন ও ভ্যাটের ১১৫ টাকা, সদস্য ফি’র ৫০ টাকা নিচ্ছি।’

বটিয়াঘাটার আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে ছিলাম। মাত্র একটি কল দিয়েই আলোর ফেরিওয়ালার এ সেবা পেয়ে আমরা অনেক খুশি। এ কাজটি চলমান থাকলে আমাদের মতো অনেকে উপকৃত হবে।’

উল্লেখ্য, খুলনা জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ৮৬৬টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪১টি গ্রামের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি গ্রামগুলিতে এ প্রকল্পের আওতায় ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র