মাউশি দুর্নীতি: ৯ বছর ধরে নিয়োগ বঞ্চিত ১০০০ কর্মচারী

প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে নিয়োগ প্রার্থীরা, ছবি: বার্তা২৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই কারণে মাউশি'র প্রায় ১০০০ জন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া ৯ বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি।

২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান-উর- রশীদ সারাদেশের স্কুল-কলেজের শূন্য পদ পূরণের জন্য এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু মাউশির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ নেয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এ নিয়োগ কার্য ব্যাহত হয়।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাউশির প্রায় ১০০০ জন অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশের দাবিতে প্রতীকী অনশন অবস্থান, ধর্মঘট ও মানববন্ধন করে। এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নিয়োগ প্রার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।

মাউশির এমএলএসএস পদে নিয়োগ প্রার্থী মো. রনি আমিন বলেন, 'মাউশির এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৬৫ টি পদের মধ্যে ৯৬৫ টি এমএলএসএস পদের নিয়োগ হয়নি। কিন্তু অন্যান্যগুলোর নিয়োগ হয়েছে। মামলার শুনানির সময় কোর্টে দেখা যায় বেশিরভাগ সময় মাউশির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকে না। এর জন্য দিনের পর দিন শুনানির তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে। এভাবে নয় বছর পার হয়ে গেল।'

মাউশির বুক মাস্টার পদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'যে সব পদে নিয়োগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে বুক মাস্টার পদটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বুক মাস্টার পদে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মাউশি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে গালি দিয়ে হুমকি দিয়ে বের করে দিয়েছে।'

কর্মসূচিতে নিয়োগ প্রার্থীরা বলেন, 'এই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল পাওয়ার জন্য ২০১৮ সালেও প্রেসক্লাবের সামনে বারংবার মানববন্ধন ও বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মহাপরিচালক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।'

তারা বলেন, '২০১৭ সালে আমরা ৩৮০০ জন নিয়োগ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমাদের দুর্ভাগ্য মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার ১৪ মাস পরেও আমাদের নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হয়নি। অনেকের চাকরির বয়স হয়ে শেষ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে বেকার অবস্থায় বৃদ্ধ হয়ে নাতি নাতনীদের নিয়েও এই নিয়োগের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।'

জাতীয় এর আরও খবর

ঢামেক মর্গে ড.কামাল

রাজধানীর চাকবাজার চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পোড়া মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়েছেন ঐক্যফ্...