Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

ঝুঁকিহীন কেমিক্যাল কারখানাকে তাৎক্ষণিক ট্রেড লাইসেন্স

ঝুঁকিহীন কেমিক্যাল কারখানাকে তাৎক্ষণিক ট্রেড লাইসেন্স
ছবি: বার্তা২৪
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পাশাপাশি যে সব কেমিক্যাল কারাখানা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয় বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, সেসব কারখানাকে ‘অন দ্যা স্পটে’ ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে ‘ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও কেমিক্যাল পল্লীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সাঈদ খোকন বলেন, আমরা ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চাই না। সেই সাথে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা কোনোক্রমেই যেন হুমকিতে না পড়ে, সেই সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নগর কর্তৃপক্ষের।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, আপনারাই বলেছেন ২০টি কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ। এসব কেমিক্যালের উপর নজরদারি করার দাবি আপনাদের। এজন্য আগামী সপ্তাহে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ডিএসসিসি’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএসসিসি’র রাজস্ব কর্মকর্তা, এফবিসিসিআই’র প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

খোকন বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পুরান ঢাকায় এই কমিটি অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযানে যদি কোনো কেমিক্যাল গোডাউন পাওয়া যায়, যেগুলোতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আছে, সেসব কারখানার বিরুদ্ধে যাথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, যে সব কারখানা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং অভিযানের সময় যদি ওই টিম মনে করে কারখানাটির ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা যায়, তাহলে অন দ্যা স্পটে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে। আরা যারা ব্যবসা করছেন তারা ‍যদি পণ্য পরিবহন নিরাপদ দূরত্ব থেকে করেন, তাহলে উইন উইন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আগামী দুই সপ্তাহব্যাপী এই অভিযান চলবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/12/1549966910279.jpg

মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, যতদিন পর্যন্ত পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা কেমিক্যাল পল্লীতে স্থানান্তর না হয়, ততদিন ব্যবসা করার সুযোগ দিন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করার সুযোগ দিন। ব্যবসায়ীরা যেন পুলিশি হয়রানির শিকার না হয় সেদিকটা খেয়াল রাখুন।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নিমতলীর ঘটনার পর আমরা ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে পারছি না। ট্রেড লাইসেন্সই আমাদের রুটি রুজি, এটা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউন ছাড়া অন্যদের ব্যবসা করার সুযোগ দিন। তা নাহলে আমাদের পুরান ঢাকার ব্যবসা অন্যত্রে চলে যাচ্ছে।

ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ডিএসসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র