Alexa

'ফালতু' মুক্ত করতে কাস্টমসে আইডি কার্ডে কড়াকড়ি

'ফালতু' মুক্ত করতে কাস্টমসে আইডি কার্ডে কড়াকড়ি

কাস্টমস হাউস, ছবি: বার্তা২৪

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ঘুষ কারবারের সাথে জড়িত ‘ফালতু’ মুক্ত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সিএনএফ এজেন্টদের আইডি কার্ড গলায় ঝোলানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইডি কার্ড ছাড়া বহিরাগত কেউই কাস্টমস হাউসে ঢুকতে পারবেন না। কাস্টমস হাউস থেকে এসব ফালতুদের তাড়ানোর জন্য সিএনএফ এজেন্টদেরও গলাতেও ঝোলাতে হবে আইডি কার্ড। নতুন কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর ‘ফালতু’ নিয়ে কর্মকর্তাদের সর্তক করেন তিনি। বহিরাগত লোকদের কাস্টমসের ভাষায় ফালতু বলা হয়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ‘২০০ ফালতু ঘুষের কারবারী’ শিরোনামে বার্তা২৪.কম এ সংবাদ প্রকাশের পর কাস্টমস হাউস থেকে ফালতুদের মুক্ত করতে আইডি কার্ড রীতির প্রচলন করতে যাচ্ছেন তিনি।

কাস্টমস হাউসে ফালতুরা সেকশন টু সেকশনে ঘোরাফেরা করেন। দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এসব কর্মী। ফালতুরা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। তারা দাপটের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে কাজ করে থাকে। কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ওপর নির্ভরশীল। ছোট-বড় সব অবৈধ লেনদেন এই বহিরাগতদের মাধ্যমেই হয়। তারা কাউকেই পাত্তা দেয় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'অবৈধ পণ্য পাচারে গোপন কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে রাখে এই ফালতুরা। একশ্রেণীর কাস্টমস কর্মকর্তা তাদের ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে এই কর্মীরাও পায় মোটা অঙ্কের টাকা। তবে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই বাড়ি-গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ।'

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বার্তা২৪কে বলেন, 'আমি নিজেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এসব ফালতুদের তাড়ানোর জন্য। তবে হঠাৎ করে তো সব সম্ভব না। ধীরে ধীরে ফালতুরা কাস্টমস হাউস ছেড়ে চলে যেতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ভালো কিছু করে দেখাতে চাই। কাস্টমস হাউসের দুর্নাম গুছাতে চাই।'

বহিরাগত এসব ফালতুরা আছেন বছরের পর বছর। তারাই সব আটঘাট জানে ও চেনে। কোথায় কী করতে হয়, সবই এদের নখদর্পণে। তাই কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ওপর নির্ভরশীল। বড় বড় চোরাচালানের সঙ্গে এসব ফালতুদের রয়েছে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। এদের কাছে থাকে কর্মকর্তাদের রাবার স্ট্যাম্প এবং গোপনীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বার্তা২৪কে বলেন, ‘কাস্টমস হাউসের শৃঙ্খলা আনার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সিএনএফ এজেন্টদের আইডি কার্ড গলায় ঝোলানো অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এতে অনেকাংশে ব্যবসায়ীরা সুফল পাবে বলে আমি মনে করি।’