Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

'ফালতু' মুক্ত করতে কাস্টমসে আইডি কার্ডে কড়াকড়ি

'ফালতু' মুক্ত করতে কাস্টমসে আইডি কার্ডে কড়াকড়ি
কাস্টমস হাউস, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
চট্টগ্রাম
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ঘুষ কারবারের সাথে জড়িত ‘ফালতু’ মুক্ত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সিএনএফ এজেন্টদের আইডি কার্ড গলায় ঝোলানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইডি কার্ড ছাড়া বহিরাগত কেউই কাস্টমস হাউসে ঢুকতে পারবেন না। কাস্টমস হাউস থেকে এসব ফালতুদের তাড়ানোর জন্য সিএনএফ এজেন্টদেরও গলাতেও ঝোলাতে হবে আইডি কার্ড। নতুন কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর ‘ফালতু’ নিয়ে কর্মকর্তাদের সর্তক করেন তিনি। বহিরাগত লোকদের কাস্টমসের ভাষায় ফালতু বলা হয়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ‘২০০ ফালতু ঘুষের কারবারী’ শিরোনামে বার্তা২৪.কম এ সংবাদ প্রকাশের পর কাস্টমস হাউস থেকে ফালতুদের মুক্ত করতে আইডি কার্ড রীতির প্রচলন করতে যাচ্ছেন তিনি।

কাস্টমস হাউসে ফালতুরা সেকশন টু সেকশনে ঘোরাফেরা করেন। দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এসব কর্মী। ফালতুরা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। তারা দাপটের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে কাজ করে থাকে। কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ওপর নির্ভরশীল। ছোট-বড় সব অবৈধ লেনদেন এই বহিরাগতদের মাধ্যমেই হয়। তারা কাউকেই পাত্তা দেয় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'অবৈধ পণ্য পাচারে গোপন কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে রাখে এই ফালতুরা। একশ্রেণীর কাস্টমস কর্মকর্তা তাদের ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে এই কর্মীরাও পায় মোটা অঙ্কের টাকা। তবে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই বাড়ি-গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ।'

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বার্তা২৪কে বলেন, 'আমি নিজেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এসব ফালতুদের তাড়ানোর জন্য। তবে হঠাৎ করে তো সব সম্ভব না। ধীরে ধীরে ফালতুরা কাস্টমস হাউস ছেড়ে চলে যেতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ভালো কিছু করে দেখাতে চাই। কাস্টমস হাউসের দুর্নাম গুছাতে চাই।'

বহিরাগত এসব ফালতুরা আছেন বছরের পর বছর। তারাই সব আটঘাট জানে ও চেনে। কোথায় কী করতে হয়, সবই এদের নখদর্পণে। তাই কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ওপর নির্ভরশীল। বড় বড় চোরাচালানের সঙ্গে এসব ফালতুদের রয়েছে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। এদের কাছে থাকে কর্মকর্তাদের রাবার স্ট্যাম্প এবং গোপনীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বার্তা২৪কে বলেন, ‘কাস্টমস হাউসের শৃঙ্খলা আনার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সিএনএফ এজেন্টদের আইডি কার্ড গলায় ঝোলানো অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এতে অনেকাংশে ব্যবসায়ীরা সুফল পাবে বলে আমি মনে করি।’

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র