Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস

কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস
কোচিংয়ের বাইরে তালা, ভেতরে চলছে পুরোদমে ক্লাস/ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট
রাজশাহী
বার্তা২৪.কম 


  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা। নগরীর মালোপাড়া ‘বায়োচি’ কোচিং সেন্টার ভবনের সামনে জটলা করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। তবে তারা কেনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তা কেউ-ই বলতে চাইছিলেন না।

সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের খবর দেন। গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে কোচিং সেন্টারে গেলে দেখা যায়, বাইরে থেকে তালা ঝুলানো। বাইরে থেকে নক করে কোনো সাড়া-শব্দ মেলেনি।

পরে সাংবাদিকরা কিছু দূরে গেলেই দেখা যায়, তালাবদ্ধ থাকা ভবন থেকে একে একে বের হচ্ছেন কোচিংয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ছাত্র-ছাত্রীরা।

তবে অভিভাবকরা জানান, বেলা ৩টা থেকে কোচিং শুরু হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন কোচিং সেন্টারের মালিক পলাশ হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। সন্ধ্যা ৭টায় কোচিং শেষ হওয়ার সময় অভিভাবকদের আসতে বলা হয়।

জানতে চাইলে কোচিং মালিক পলাশের স্ত্রী আয়েশা বলেন, আমরা ক্লাসের জন্য নয়, কিছু টিপস দেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ডেকেছিলাম। টিপস দেয়া শেষে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি দাবি করেন, কোনোভাবেই তারা সরকারের নীতিমালা ভঙ্গ করেন নি। নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনিও ক্লাস নিচ্ছেন না, মাঝেমধ্যে শুধু টিপস দিচ্ছেন। কোচিংয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের টিপস দেয়া চালিয়ে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু বায়োচি কোচিং সেন্টার নয়, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন একমাস দেশজুড়ে কোচিং সেন্টারগুলোতে ক্লাস বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজশাহীর আরও অনেক কোচিং সেন্টার অভিনব কায়দায় ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মহানগরী ঘুরে দেখা যায়, মাসুদ ম্যাথ, দিকদর্শন, পিকাসো, জিনিয়াস স্টুডেন্ট কেয়ার, এডুকেয়ার, ল্যাটেন্ট ট্যালেন্টসহ অন্তত ২০/২৫টি কোচিং সেন্টার এ পদ্ধতি অবলম্বন করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহানগরীর সমবায় মার্কটের দ্বিতীয় তলায় ‘মাসুদ ম্যাথ’ এর পরিচালক মাসুদকেও ক্লাস নিতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তবে সেখানে থাকা শিক্ষার্থী তৃষ্ণা, সৌমিক ও লুনা জানান, আমাদের কোচিং তো বন্ধ হয়নি। আমরা প্রতিদিন পড়তে আসি। তবে পুলিশ যাতে টের না পায় সেজন্য স্যার, লুকিয়ে লুকিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন আমাদের।

পরে কোচিংয়ে পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, আমার ভুল হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ক্লাস চালু রাখা উচিত হয়নি। এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর ক্লাস নেওয়া হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোচিং সেন্টারের কয়েকজন মালিক জানান, গ্যাপ গেলে ছাত্র-ছাত্রী কমে যেতে পারে ভেবে তারা কমবেশি ক্লাস নিচ্ছেন। তবে প্রতিদিন ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ফেসবুক গ্রুপে বা মোবাইলে ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেসময় তারা এলে ক্লাসে ঢুকিয়ে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ক্লাস শেষ হলে অভিভাবকরা এসে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যান বলে স্বীকার করেন তারা।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘কেউ যদি সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোচিং চালায় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে ক্লাস নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তারা কৌশল করে করতে পারে। তবে এখন থেকে সব কোচিং সেন্টারে সিভিল পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হবে। যাতে কোনো কোচিং সেন্টারে পরীক্ষার মধ্যে অপকর্মে জড়িয়ে না পড়ে।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি হচ্ছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কাফরুল এলাকার একটি বাসার ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। এ ঘটনায় মো. ইউনুস নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566664805904.jpg

সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, 'আজ বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। ফ্ল্যাটটিতে অভিযানের এক পর্যায়ে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে আটক করা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ইউসুফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকে।'

আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র