Alexa

কুষ্টিয়ায় অবাধে চলছে কোচিং বাণিজ্য

কুষ্টিয়ায় অবাধে চলছে কোচিং বাণিজ্য

মেরিট কোচিং সেন্টার, ছবি: বার্তা২৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া, বার্তা২৪

কুষ্টিয়ায় চলছে কোচিং বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। ছাত্রত্ব রক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে নামমাত্র ভর্তি হয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসব কোচিং সেন্টারে ঝুঁকে পড়ছে।

চটকদার বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকৃষ্ট করে শিক্ষার পরিবেশ ও মানহীন এসব কোচিং সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ও কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ শহরের নামকরা বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে এবং পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফলের আশায় বছরের শুরু থেকে বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলা কমপক্ষে অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার শিক্ষার নামে বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে বহু কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে মেরিট কোচিং সেন্টার, এডুকেয়ার, অনুশীলন ক্যাডেট স্কুল, স্কুল অব লবিয়েটস, অনুশীলন, কোর কেয়ার, আশিক বায়োলজি কেয়ার, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কোচিং, ক্রিয়েটিভ কোচিংসহ নামে-বেনামে রয়েছে শতাধিক কোচিং সেন্টার। এসব কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে তিন থেকে চারটি গাইড বই চড়ামূল্যে কিনতে বাধ্য করছে।

সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে কলেজ ও ভার্সিটির ছাত্রদের দিয়ে যেনতেনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এখানে সন্তানদের পড়াতে প্রতি মাসে অভিভাবকদের এক থেকে তিন হাজার টাকা গুণতে হয়। এছাড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সাইনবোর্ডবিহীন অনেক কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন।

শহরের পেয়ারাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বাসাবাড়ির কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কার্যক্রম চলছে। সেখানে স্কুল শিক্ষক নয়ন স্যার নামে এক স্যার পাঠদান করিয়ে থাকেন। সেখানে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে ১২০জন শিক্ষার্থী কোচিং করছে। এতে তিনি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য।

সেখানকার এক অভিভাবক জানান, সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস নেওয়া হয় এখানে। প্রতিব্যাচে আবার ১২০-১৫০ জন শিক্ষার্থীদের একসাথে ক্লাস নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি নেয়া হয় ১হাজার ৬শ টাকা এবং প্রতি মাসের অভিভাবকদের গুনতে হয় এক হাজার টাকা করে। এতে করেই দিশেহারা হয়ে পড়ছে অভিভাবকরা। এছাড়াও এখানকার নয়ন স্যার শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান বলেন, ‘কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের গুণগতমানের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবুও অধিকাংশ শিক্ষার্থী আরও ভালো লেখাপড়ার আশায় কোচিং সেন্টারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এছাড়া কিছু অসাধু শিক্ষকও আছেন যারা তাদের নিকট প্রাইভেট পড়তে বা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে কৌশলগতভাবে শিক্ষার্থীদের উত্সাহী করেন। শ্রেণিতে শিক্ষকের আন্তরিকতাপূর্ণ পাঠদান এবং শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হলে প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়াই ভালো ফলাফল সম্ভব।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আজাদ জাহান জানান, কোচিং সেন্টারের নামে যদি কেউ চুরি করে কোচিং বা প্রাইভেট পরিচালনা করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জেলা এর আরও খবর