গরম ও স্পিন নিয়ে অপেক্ষায় এশিয়া কাপ!

দুবাইয়ে অনুশীলনে সাকিব

যে কোন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এখন সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হয় তা হল কন্ডিশন। পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন? আবহাওয়া কেমন? পারিপাশ্বিকতাই বা কেমন? উইকেটের গঠন চরিত্র কেমন? কারা এখনো বেশি সুবিধা পাবে; ইত্যকার বিষয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা বড় বিষয় থাকে।

সেই বড় বিষয়টা যেন এবার বেশি ‘বড়’ না হয় সেজন্যই বাংলাদেশ বেশ আগেভাগেই আরব আমিরাত পৌছেছে। দল নিয়ে অনুশীলনও করেছে। রাতের আলোতেও অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। দল হিসেবে আরব আমিরাতের এই কন্ডিশন বাংলাদেশ দলের জন্য একেবারে নতুন। এই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের আরব আমিরাতের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান দলটি এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে খেলতে গিয়েছে। আর অনুশীলনের প্রথমদিন থেকে যে বিষয়টা দলের খেলোয়াড়রা বাড়তি যন্ত্রণা হিসেবে পাচ্ছেন তা হল আমিরাতের গরম। তাপমাত্রা কোনদিনই ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচের নামছে না! এই যন্ত্রণা শনিবার ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের দিন আরও বাড়ছে। দুবাইয়ের আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে সেদিন তাপমাত্রা থাকবে সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস!

পারলে আইস জ্যাকেট নিয়ে খেলতে হবে ক্রিকেটারদের। দুবাইয়ের এই অসহনীয় গরমের ব্যাপারে দলের বাকিদের আগে থেকেই সাবধান করে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ইকবাল। এখানকার এই কন্ডিশনে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এই দুজনের আছে বেশ। একে তো প্রচন্ড গরম, সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা-ক্রিকেটের জন্য মোটেও উপযুক্ত বা মন ভাল করার মতো পরিবেশ এই মুহূর্তে নেই দুবাইয়ের এশিয়া কাপে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং উপযোগীই হয়ে থাকে। তবে প্রতি ম্যাচেই এখানে তিনশ’ ছাড়ানো স্কোর হবে-এমন সুবোধ চিন্তা না করাই ভাল। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে আমিরাতের উইকেটে ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনশ ছাড়ানো স্কোর খুব একটা নেই। দুবাই স্টেডিয়াম এবং আবুধাবীর শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়াম; এই দুই স্টেডিয়ামেই এবার এশিয়া কাপের সবগুলো ম্যাচের আয়োজন হবে। এই দুই স্টেডিয়ামে সাকুল্যে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে দলীয় স্কোর তিনশ ছাড়িয়েছে। আর তাই এখানকার উইকেটে রান বন্যার অপেক্ষায় থাকলে ঠকতে হবে। 

তবে আমিরাতের উইকেটে যা আছে তা দেখে স্পিনারদের চোখ চকচকে হয়ে উঠতেই পারে। প্রচন্ড গরম আবহাওয়া মোটেও পেস বোলারদের সহায়ক নয়। ৫০ ওভার বোলিং কোটা পুরো করার জন্য প্রায় সবদলই স্পিনারদেরই বেশি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। আর তাই টুর্নামেন্টের শীর্ষ চার দল ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এবারের এশিয়া কাপের দল সাজিয়েছে একগাদা স্পিনারদের নিয়ে। আফগানিস্তান টুর্নামেন্টে এসেছে স্পিন শক্তি বাড়িয়ে। আমিরাতের দুই স্টেডিয়ামের ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যান স্পিনারদের গুনগানই গাইছে। যে দুই স্টেডিয়ামে এবার এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির শীর্ষ তিনজনের মধ্যে দুজনই স্পিনার!

খেলা এর আরও খবর