Alexa

রোবি ফ্রাইলিঙ্ক: কঠিন ম্যাচ সহজে জেতান যিনি!

রোবি ফ্রাইলিঙ্ক: কঠিন ম্যাচ সহজে জেতান যিনি!

রোবি ফ্রাইলিঙ্ককে ঘিরে আনন্দে মেতেছে চিটাগংয়ের ক্রিকেটাররা

তিন ম্যাচে দুটোতে জিতেছে চিটাগং ভাইকিংস। আর এই দুই জয়েই দলের হয়ে বড় ভুমিকা রেখেছেন রোবি ফ্রাইলিঙ্ক। কখনো ব্যাটে। কখনো বল হাতে। টি-টুয়েন্টির ঠিক পারফেক্ট ক্রিকেটার বলতে যা বোঝায় পুরোদুস্তর সেটাই এই দক্ষিণ আফ্রিকান।

প্রায় হিসেবের বাইরে থাকা ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছেন দলকে। বল হাতেও চমৎকার ফর্মে আছেন। ব্যাট হাতেও বিগ শট খেলে কম বলে বেশি রানের কঠিন টার্গেটকে সহজ বানিয়ে দিচ্ছেন।

খুলনার বিপক্ষে ম্যাচে শেষ ওভারে ব্যাটে এবং সুপার ওভারে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখান ফ্রাইলিঙ্ক।

খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে শেষ ওভারে চিটাগং ভাইকিংসের প্রয়োজন ছিলো ১৯ রান। সেই ওভারে আবার প্রথম বলে কোন রান হলো না। দ্বিতীয় বলে নাঈম হাসান ছক্কা মারলেন। তৃতীয় বলে তিনি আউট। পরের দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে নাটকীয়ভাবে চিটাগংয়ে জয়ের একদম কাছে নিয়ে গেলেন ফ্রাইলিঙ্ক। আরিফুল হকের করা পঞ্চম বলে যে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ফ্রাইলিঙ্ক, সেটা ছিলো কোমর সমান উচ্চতায় আসা ফুলটস। ফ্রাইলিঙ্ক ছক্কা হওয়ার পর সেই বলটা ‘নো’ কলের জন্য আম্পায়ারের কাছে ছুটে গিয়ে দাবি জানান। সেই বলটা নো হলেই ওতে ৭ রান আসে। তখনই ম্যাচ জিতে যায় চিটাগং ভাইকিংস। কিন্তু আম্পায়ার সেই বল ‘ নো’ কল করেননি। ওভারের শেষ বলে ফ্রাইলিঙ্ক কোন রান নিতে পারেননি। রান আউট হয়ে যান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে ১২ রানের টার্গেট ছুঁতে পারেনি খুলনা। ঠিক জায়গায় বল রেখে দলকে ১ রানের জয় এনে দেন চিটাগংয়ের এই বিদেশি ক্রিকেটার। নাটকীয় এই জয়ের পর ফ্রাইলিঙ্ক বলছিলেন-‘আমি এখনো বিশ্বাস করি শেষ ওভারের পঞ্চম ঐ বলটা ছিলো নো বল। কিন্তু আম্পায়ার ভিন্নমত পোষণ করেন। কি আর করার! পুরো ম্যাচটা দুর্দান্ত হয়েছে। দু’দলই ভালো খেলেছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো একটা দলকে হারতেই হতো!’

ব্যাটে-বলে ম্যাচ জেতানোর এমন কৃতিত্ব ফ্রাইলিঙ্কের জন্য নতুন কিছু নয়। বললেন-‘আমি সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামি। জানি ওখানে আমাকে কম বলে বেশি রান করতে হবে। কখনো কখনো শেষ ওভারে ১৫ রান নিতে হবে। আবার কখনো বল হাতে শেষ ওভারে ১০ রানও ডিফেন্ড করতে হবে। আমি এও জানি এমনসব ম্যাচে কখনো আমি পারবো। কখনো প্রতিপক্ষ পারবে। আজ এই দিনটা ছিলো আমার।’

চলতি বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস তিন ম্যাচে দুটিতে জিতেছে। এই দুই ম্যাচেই জয়ের নায়ক রোবি ফ্রানলিঙ্ক। দুটোতেও ম্যাচ সেরা তিনি। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে যে ম্যাচে হেরেছে চিটাগং, সেখানেও ফ্রাইলিঙ্কের ব্যাটে-বলে পারফরমেন্স অনবদ্য। ২৪ বলে ৪৪ রান। এবং ২৬ বলে ৩ উইকেট শিকার। যে ম্যাচে দল জিতছে সেখানে সেরা পারফরমেন্স তার। যে ম্যাচে জিততে পারেনি, সেখানেও সেরা চেষ্টাটা তারই!

ক্যারিয়ারের লম্বা সময় জুড়ে ম্যাচে এমন জমাট মূহূর্ত দেখে এসেছেন এবং সেই সময়টা জয়ও করেছেন; সেই অভিজ্ঞতাই ফ্রাইলিঙ্ককে এমনসব কঠিন সময়েও শান্ত ও ধীরস্থির থাকতে সহায়তা করেছে।

ম্যাচের চরম উত্তেজনার সময়ও এত শান্ত ভঙ্গিতে থাকার সেই রহস্য প্রসঙ্গে ফ্রাইলিঙ্ক জানালেন-‘অনুশীলন করা। ভালভাবে অনুশীলন করা এবং দক্ষতা বাড়ানো। তাহলেই এমনসব কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়া যায়, জেতা যায়।’

কঠিন ম্যাচ জেতানোর ফ্রাইলিঙ্কের সহজ ফর্মুলা তাহলে এই!

আপনার মতামত লিখুন :