Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

আসামির সংশোধন সংক্রান্ত আইন প্রতিপালনের নির্দেশ

আসামির সংশোধন সংক্রান্ত আইন প্রতিপালনের নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট/ ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের ক্ষেত্রে আসামির সংশোধন সংক্রান্ত আইন দ্যা প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৬০ এর বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল . মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের নিমিত্ত কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এতে দেশের কারাগারসমূহে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াসহ দেশের একটি প্রচলিত আইনের বিধানকে সরাসরি অবজ্ঞা করা হচ্ছে।

ফলে কারাগারের পরিবেশসহ সমাজে এক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে চলেছে। ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্যা প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স' ১৯৬০ এর বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে দেখা দিয়েছে।

এখানে কর্তব্য যে, আমাদের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীকে সবক্ষেত্রেই সাজা আরোপ করা আইন সমর্থন করে না; কেননা সাজা প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য সংশোধনমূলক; প্রতিহিংসামূলক নয়।

সাজা প্রদানের উক্ত আদর্শিক বিষয় বিবেচনায় রেখে অপরাধীদের বয়স, পূর্বাপর আচার-আচরণ, দৈহিক মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত আইনের বিধানাবলীর যথাযথ প্রয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কোন অবস্থাতেই প্রচলিত আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা করা বা প্রয়োগ না করা শুধুমাত্র অনাকাঙ্খিতই নয় বরং অসদাচরণের শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্যা প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স' ১৯৬০ এর ধারার বিধান অনুযায়ী পূর্বে দণ্ডিত হয়নি এমন কোনো অপরাধী অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে, আদালত অপরাধীর বয়স, স্বভাব-চরিত্র, প্রাক-পরিচয় অথবা শারীরিক বা মানসিক অবস্থা এবং অপরাধের ধরণ অথবা অপরাধ সংঘটনে শাস্তি লাঘবকারী পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক যদি মনে করেন যে, দণ্ডপ্রদান অসমীচীন প্রবেশনের আদেশ প্রদান করা যথাযথ নয়, তাহলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে সতর্ক করতঃ অপরাধীকে অব্যাহতি দিতে পারেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে আদেশে বিবৃত সময় হতে অনধিক এক বছর সময়ের জন্য কোন অপরাধ না করার এবং সদাচরণে থাকার শর্তে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়া মুচলেকা প্রদানে বিমুক্ত হওয়ার আদেশ দিতে পারেন।

শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতির এরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত অপরাধীকে সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেবেন যে সময়কালে কোনো অপরাধ সংঘটন করলে বা সদাচরণের মধ্যে না থাকলে সে মূল অপরাধের জন্য প্রদত্ত সাজা ভোগ করবে।

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুসরণে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে বা কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট আইন প্রতিপালনে অনীহা বা গাফিলতি করলে বিষয়টি সুপ্রীম কোর্টের নজরে আনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাহালম কাণ্ড: সোনালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা জড়িত

জাহালম কাণ্ড: সোনালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা জড়িত
জাহালাম

পাটকল শ্রমিক জাহালমের বিনা অপরাধে কারাভোগের ঘটনায় ৮ কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে সোনালী ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। আর জালিয়াতি মূলে ছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুল হক।

শনিবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ দায় স্বীকার করেছে সোনালী ব্যাংক।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে গত ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত শুনানিতে সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন জানিয়েছিলেন তারা হলফনামা আকারে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলো। আগামী ২৮ আগস্ট দুপুর দুইটায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

ওইদিন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা এ প্রতিবেদন গ্রহণ করছি না। দুদকের কোন ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তাদের নামের তালিকা জমা দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনটি ৪১৬ পৃষ্ঠার। এত বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বেতন কেটে রাখা, তিরস্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে’ ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন গত ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হলে তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এর পর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ৩০ জানুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ বিনা অপরাধে জাহালমের কারাভোগের ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনের ব্যাখ্যা চান আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সাড়ে তিন বছর কারাভোগের পর মুক্ত হন জাহালম।

গত ২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কিনা, তা অনুসন্ধানে গঠিত দুদকের আভ্যন্তরীণ কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এখন এ বিষয়ে শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এমপিদের শপথের বৈধতা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল

এমপিদের শপথের বৈধতা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল
ছবি: সংগৃহীত

দশম জাতীয় সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিট খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরের অনুমতির আবেদন) করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন এ আপিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দশম জাতীয় সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিট খারিজের আদেশ দেন। একাদশ সংসদের এমপিদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।

আরও পড়ুন: একদিনে ১৫৩ মামলার আসামির জামিন বাতিল

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দলের প্রধানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে একাদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা আগে শপথ নিয়েছেন। আর সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। তাই রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল।’

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রিট আবেদনটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন। পরে রিট আবেদনটি আবার উপস্থাপন করা হলে ৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারির খারিজ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক পাঠানোর সিন্ডিকেট: তদন্ত ৩ মাসে শেষ করার নির্দেশ

লিভ টু আপিলের যুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্যদের শপথের বিধান রয়েছে। সংবিধানের এ বাধ্যবাধকতা অগ্রাহ্য করে একাদশ সংসদের জয়ী সদস্যরা গত ৩ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন। এরপর ৭ জানুয়ারি নতুন সরকারও শপথ নেয়। দশম সংসদের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই মেয়াদের অবসান না হওয়ার আগেই একাদশ সংসদের সদস্যরা শপথ নেওয়ায় দুটি সংসদ বহাল রয়েছে। যা সংবিধানের পরিপন্থী।’

একই যুক্তি রিট আবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

গত ৮ জানুয়ারি একাদশ সংসদের এমপিদের শপথ বাতিল করে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ দেন আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন নোটিশটি পাঠান। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় পরে ১৪ জানুয়ারি রিট করা হয় হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র