Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সদা সর্বদা জিকিরের গুরুত্ব

সদা সর্বদা জিকিরের গুরুত্ব
সার্বক্ষণিক আমল হিসেবে জিকির অত্যন্ত সহজ এবং অধিক মর্যাদাপূর্ণ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি ফারহীন জান্নাত ইউসুফী
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালার দেওয়া ফরজ হুকুমগুলো প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পালন করা বাধতামূলক। কেউ তা আদায় করে ভালোবাসা থেকে, কেউ আদায় করে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে। ফরজ আমল যতো ভালোবাসা থেকে হবে- ততই নফলের প্রতি উৎসাহ বাড়বে।

ফরজের পাশাপাশি নফলের প্রতি উৎসাহ দিয়ে হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ হয়েছে, ‘ফরজ আমলের বাইরে যদি বান্দা কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার নৈকট্য অর্জন করতে চায়, তা আমার নিকট ফরজ আমল আদায়ের তুলনায় অধিক পছন্দনীয়। বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য চাইতে থাকলে সে আমার ভালোবাসা পায়। আর যখন আমি কাউকে ভালোবাসি আমি তার শ্রবণশক্তি হয়ে যাই, যা দ্বারা সে শোনে। আমি তার দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই, যা দ্বারা সে দেখে। তার হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে স্পর্শ করে। তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে হাঁটে। যদি সে আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি তাকে তা দিয়ে দেই আর কোনো কিছু থেকে আশ্রয় চাইলে আমি তাকে আশ্রয় দেই।’ –সহিহ বোখারি: ৬৫০২

ফরজ আমলের বাইরে এই নফল আদায় করতে যেয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। কখনো অধিকহারে নামাজের দিকে মন ঝুঁকে, কখনো কোরআন তেলাওয়াত, কখনোবা জিকির। কোনোটাতেই পুরো স্থির হওয়া হয় না। অথচ হাদিসের নির্দেশনা সার্বক্ষণিক আমল।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো- ওই আমল যা সব সময় করা হয়। যদিও তা অল্প হোক।’ -সহিহ বোখারি: ৬৪৬৫

কোন আমলকে স্থায়ী করবো- এ ভাবনার সময় অনেক আমল সামনে আসে। কারণ অসংখ্য হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রোজার কথা, কোথাও বলেছেন দিনের শুরুভাগে নামাজের কথা। আবার কাউকে বলেছেন- শুধু ফরজকে আঁকড়ে ধরতে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো ছিলেন রূহানি চিকিৎসক। প্রশ্নকারী ব্যক্তির অন্তরের অবস্থা বুঝে একেকজনকে একেক আমলের কথা বলেছেন।

আমরা যেহেতু নিজেদের রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নই, তাই সব নির্দেশনা সামনে রেখে নির্দিষ্ট একটিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা দুষ্কর হয়ে পড়ে। শুরু হয় মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। এক আমল করতে গেলে মনে হয়, ওই আমলের ফজিলত ছুটে গেলো। সব আমলের ফজিলত নিতে গিয়ে দেখা যায়, কোনোটাই নিয়মিত হয়ে উঠছে না৷ হাদিস অধ্যয়নে বুঝা যায়, শুধু আমরাই এমন দ্বিধান্বিত হই না, এ অবস্থায় পড়তেন সাহাবায়ে কেরামও। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ সমস্যার সমাধান দিয়েছেন বেশ সুন্দরভাবে। বলে দিয়েছেন, কোন আমলকে সার্বক্ষণিক সঙ্গী করা উচিত।

মুসনাদে আহমাদে রয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বিশর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে আবেদন জানালো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কাছে শরিয়তের হুকুমগুলো (ফরজের বাইরে) অনেক বেশি মনে হচ্ছে। আমাদেরকে এমন এক বিষয়ের কথা বলুন, যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবো।’ তিনি বললেন, ‘সব সময় তোমার জবানকে আল্লাহর জিকিরে সিক্ত রাখবে।’

এমন অর্থবোধক আরও অনেক হাদিস কিতাবাদিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। যেগুলোতে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থায়ী আমল হিসেবে জিকিরের পরামর্শ দিয়েছেন। একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে এর মর্ম বুঝতে পেরে বিস্মিত হতে হয়!

‘আল্লাহ’ শুধু এই শব্দ এক জিকির। ‘সুবহানাল্লাহ’ এক জিকির। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ জিকিরের পাশাপাশি এক দোয়া। সারাদিন অনবরত যখন তার নাম জবানে জারি থাকবে, সে জবান অনিচ্ছায়ও অন্যায় বলা থেকে বিরত থাকবে। আপনি সারাদিন যার নাম নেবেন, নিঃসন্দেহে তার ভালোবাসাও পেয়ে যাবেন। আর সমস্ত আমলের লক্ষ্য তো এটাই, আল্লাহর ভালোবাসা।

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালার কাছে অধিক পছন্দনীয় আমল হলো- জিকির। আর এই শ্রেষ্ঠ আমলকে আল্লাহতায়ালা সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছেন। এ আমল চলাফেরায়, উঠাবসায়, অজু অবস্থায় কিংবা অজুহীন অবস্থায়- সর্বদাই জিকির করা সম্ভব। আল্লাহতায়ালার রহমত ও অনুগ্রহ দেখুন। অধিক পছন্দনীয় আমল অধিক সহজ।

জিকির যতো বেশি হবে, আল্লাহতায়ালার ভালোবাসাও অন্তরে বৃদ্ধি পাবে। হজরত যূন-নূন (রহ.) বলেন, ‘যে তার জবান ও কলবকে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন রাখবে, আল্লাহ তার অন্তরে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবেন।’ তিনি কত সুন্দরই না বলেছেন, ‘দুনিয়া শান্তিময় নয় তার জিকিরবিহীন, আখেরাত শান্তিময় নয় তার ক্ষমাবিহীন আর জান্নাত শান্তিময় নয় তার দর্শনবিহীন।’

স্পষ্ট হয়ে গেলো, সার্বক্ষণিক আমল হিসেবে জিকির অত্যন্ত সহজ এবং অধিক মর্যাদাপূর্ণ আমল। একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার পাশাপাশি যদি অন্য আমল অনিয়মিত হয়, তবুও তা হবে অধিক ফলপ্রসূ।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র