Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেক খরচে হজ করেন নেপালিরা

বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেক খরচে হজ করেন নেপালিরা
নেপাল হজ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শোয়েব, ছবি: বার্তা২৪
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা মোকাররমা (সৌদি আরব) থেকে: বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেক খরচে হজ করেন নেপালের হাজীরা। অবিশ্বাস্য হলে এটাই সত্যি। বাংলাদেশি মুদ্রার মানে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চলতি বছর হজ করেছেন নেপালের ১২শ’ হাজী। বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন তথ্যই জানালেন নেপাল হজ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শোয়েব (৬৮)।

‘বাংলাদেশ আমার প্রিয় দেশ। দেশটি আমার সন্তানকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা’- বলছিলেন মোহাম্মদ শোয়েব।

তিনি জানান, আমাদের হাজীরা শান্তশিষ্ট। তারা সব সময় সংঘবদ্ধভাবে চলেন। তাদের চাহিদা কম। সবচেয়ে বড় কথা, তারা টিম লিডারদের কথা মেনে চলেন।

এবারো সৌদি সরকার মুসলমান জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের ১২শ’ হাজীর কোটা বেঁধে দিয়েছে। সেই কোটা পরিপূর্ণ করেই আমরা চলতি মৌসুমে হজ পালন করেছি।

আমাদের হজ প্যাকেজ দুই লাখ ১৫ হাজার নেপালি রুপি। মানের প্রশ্নে নেপালি রুপির দর বাংলাদেশের টাকার চাইতে কম। প্রতি একশ’ নেপালি রূপিতে পাওয়া যায় বাংলাদেশের ৭২ টাকা। সে হিসেবে হজে জনপ্রতি আমাদের সবকিছু মিলিয়ে খরচ পড়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৪ টাকা।

এই অর্থে হাজীদের খরচের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেপাল হজ কমিটির সমন্বয়কারী ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইসহাক (৩১) জানান, আমাদের এবার হাজীদের পরিবহনে এয়ার এরাবিয়ায় জনপ্রতি ভাড়া গুনতে হয়েছে ৮৭ হাজার ৬শ’ রুপি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৩ হাজার টাকার মতো। অথচ বাংলাদেশি হাজীদের পরিবহনে গুনতে হয় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

দিন যাচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার খরচ বাড়ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজে যেতে এবার খরচ ছিলো- ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-২ এর আওতায় এবার ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা খরচ হয়েছে। যা গত বছর ছিলো- ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা। এই হিসেবে সরকারিভাবে গতবারের থেকে এবার প্যাকেজ অনুযায়ী ১৬ হাজার ৪২১ টাকা থেকে খরচ বেড়েছে ১২ হাজার চার টাকা।

নেপালের তুলনায় বাংলাদেশের হাজীদের খরচের এই পার্থক্যে হতবাক অনেকেই। খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামর্থ্যে কুলিয়ে উঠতে পারেন না অনেকে। যে কারণে অনেকের শেষ পর্যন্ত হজে আসার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

এর কারণ কি? প্রশ্ন করেছিলাম হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিমকে।

উত্তরে তিনি বলেন, ‘মূল কারণ হচ্ছে পরিবহন ভাড়া। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স বর্তমানে হজযাত্রী বহন করছে। দিন যাচ্ছে বিমান ভাড়া বাড়িয়েই চলছে তারা। সৌদি এয়ারলাইন্সও অনুসরণ করছে বিমানকে।

বহু ফোরামে এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করে অন্যের বিরাগভাজন হয়েছি। আমি বলতে চাই, কাল যদি দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কথা ভেবে বিমান ভাড়া কমিয়ে দেয়, তবে সৌদি এয়ারলাইন্স ভাড়া কমিয়ে দেবে। দু’টি বিমান সংস্থার মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় এর মাশুল গুনছে জনগণ।

আমাকে বলা হয়েছে, বিমান এই রেটে যাত্রী পরিবহন না করলে আরো ডুববে। আমার প্রশ্ন বিমানের ব্যবস্থাপনাগত অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে লোকসানের বোঝা হাজীরা কেন টানবেন?

এজন্য এই মনোপোলি মার্কেট থেকে বেড়িয়ে আসতে আমরা বরাবরই দাবী করছি থার্ড ক্যারিয়ার হিসেবে অন্য বিমান সংস্থাকে প্রতিযোগিতায় আনতে। তখন হজের খরচ কমার পাশাপাশি দেড় মাস সৌদিতে থাকতে হবে না হাজীদের। খরচও কমবে হজপালনে।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র