Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল
ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপনডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়।’

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল লনে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮, ঢাকা বিভাগের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের কোনো অর্থনীতি ছিল না। কিন্তু আজ বাংলাদেশ এমন অবস্থানে এসেছে যে পৃথিবীর সমস্ত দেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে কীভাবে এদেশ এত উন্নতি করেছে। আমাদের সময় এত সুযোগ ছিল না। তোমরা যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে পারনি, যারা উদ্ভিদবিদ্যায় পড়ছ, তোমাদের কোনো চিন্তার কারণ নেই। উদ্ভিদবিদ্যা একটি অভিজাত বিষয়। তোমাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।'

অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের হাতেই দেশ গড়ার দায়িত্ব। সুন্দরভাবে দেশটা গড়ে তোলার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় মনোযোগ নেই। এর কারণ স্মার্টফোন। প্রযুক্তি ভাল জিনিস। তবে আমরা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করব, প্রযুক্তি আমাদের নয়।’

শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও গবেষণা করতে উৎসাহিত করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘চিন্তা কর, চিন্তা কর এবং চিন্তা কর। তাহলে ভাল গবেষক হতে পারবে। আর এজন্য প্রচুর বই পড়তে হবে এবং তা মাথায় কল্পনা করতে হবে।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার বলেন, ‘উদ্ভিদবিজ্ঞান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সনাতন বিষয়। সারা বিশ্বব এ বিষয়ে গবেষণায় এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি।'

বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮ ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোজাদ্দেদী আলফেসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর মুমিনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ড. এম এ গফুর ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানের পর্বে অলিম্পিয়াডে ঢাকা বিভাগের চূড়ান্ত বাচাই পর্বে ২১টি কলেজের অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে দেশের মোট আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ‘বোটানি অলিম্পিয়াড' এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি ও জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর যৌথভাবে এই আয়োজন করে।

আপনার মতামত লিখুন :

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ
মেশকাত হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন নিজের পকেটে থাকা অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ হল গেটের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেশকাত হোসেনের পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘লোডেড অস্ত্র পকেটে নিয়ে ঘুরলে যা হয় আর কি! আরও খারাপ কিছু হতে পারত।’

একটি সূত্র জানায়, মেশকাত সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হল গেটে ঢোকার সময় সম্ভবত অস্ত্র আনলক করা ছিল। তাই অসাবধানে গুলি বের হলে তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে।

এ ব্যাপারে মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্র সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান সোহান জানান, হলে ঢোকার সময় মেশকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মকবুল হোসেন ঘটনাটি দেখার জন্য লোক পাঠিয়েছেন বলে জানান।

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’
‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে শিখন-পঠনের নতুন মাধ্যম স্টেম শিক্ষা। এর সহায়তায় এমন এক সুসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে যাতে তারা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, বাস্তবজ্ঞান, যেকোন কিছুকে ভেঙে তার মূল সমস্যায় পৌঁছাতে পারবে। এজন্য একুশ শতকে স্টেম শিক্ষা অতি জরুরি।

শনিবার (২০ জুলাই) ‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড কামাল উদ্দীন আহমেদ, স্টেম বাংলাদেশের আহবায়ক ড আল নাকীব চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, স্টেম শিক্ষা হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো কিছুর অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করে ক্রিটিক্যাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি হবে রিয়েল লাইফ সিচুয়েশন অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। স্টেমকে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবেও তিনি মনে করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে স্টেম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ, মানসম্মত, সংঘাতমুক্ত সমাজ ও ভারসাম্য পরিবেশে বসাবস করা। সেজন্য স্টেম শিক্ষা হবে সার্ভাইভাল টেকনিক যেটা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজতে মানুষকে সাহায্য করবে। এই সুবিধা  যাতে সবাই পায় সেজন্য আমরা লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ইত্যাদির প্রতি নজর দিচ্ছি।

অনুৃষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড জ্যাক হোলব্রুক এবং ড মুহাম্মদ আব হাদী বুনয়ামিন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র