Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডাকসু: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত সবাই

ডাকসু: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত সবাই
ডাকসু ভবন/ ছবি: সংগৃহীত
সোহানুর রহমান
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেই লক্ষ্যে সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের জন্য উপাচার্য কর্তৃক নির্ধারিত ১০ কার্য দিবসের মধ্যেই গঠনতন্ত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলেও জানান কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্যে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনগুলো তাদের দাবি তুলে ধরে। তবে লিখিতভাবে পরামর্শ উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো আলাদা আলাদা দাবি জানালেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত পোষণ করেছেন সবাই।

ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রের ৫ নং ধারার ১ নং উপধারা অনুযায়ী, সভাপতি (উপাচার্য) যে কোনো সময় নির্বাহী কোনো সদস্যকে বরখাস্ত এমনকি নির্বাহী কমিটিও বাতিল করে দিতে পারবেন।

৮ নং ধারার ১২ নং উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত সভাপতি কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের কোনো রায় কার্যকর হবে না।

এই ধারাগুলো গণতন্ত্রের পরিপন্থী উল্লেখ করে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যের ক্ষমতার ভারসাম্য আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।

গঠনতন্ত্রে ডাকসু সভাপতির ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, 'সকলের ক্ষমতার ভারসাম্য হোক, সমান অধিকার নিয়ে রাজনীতি ও মতাদর্শ চর্চা করুক। এজন্য ডাকসুর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হোক। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির ক্ষমতা অনেকটা একক। তাই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হওয়া উচিত।'

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, 'যদি সভাপতির কাছেই একক ক্ষমতা থেকে যায়, তাহলে তো ডাকসু নির্বাচনের আর প্রয়োজন নেই। এমনটা হলে সভাপতি ও প্রশাসন যাচ্ছেতাই করতে পারবেন। এই ক্ষমতা স্বৈরাচারী। ডাকসু নির্বাচন যতটা যৌক্তিক ততোটাই অযৌক্তিক সভাপতির একক ক্ষমতা।’

এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, 'সভাপতির বর্তমান ক্ষমতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরে না। তাছাড়া, হল প্রাধ্যক্ষেরও অনেক ক্ষমতা। তাই সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির মধ্যকার ক্ষমতা এবং হল প্রাধ্যক্ষের ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা উচিত।'

ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, 'সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির ক্ষমতায় যদি ভারসাম্য না থাকে তাহলে সভাপতির কাছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থেকে যাবে। ফলে সাধারণ ছাত্রদের দাবি পূরণ হবে না। তাই আমরা চাই, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হোক।'

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'উপাচার্য সব কথা বলে না।'

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কমিটি ভালো বুঝবে। কমিটি কাজ করুক। কোথায় কী আছে ভালো করে পর্যালোচনা করুক। কোথায় কোন ক্ষমতা আছে সেটা কমিটি দেখুক। কোথায় কী প্রয়োজন সেটা কমিটি বিবেচনায় নেবে।'

ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই। ডাকসু নির্বাচন চেয়ে ২০১২ সালের ২১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করার পর ঐ বছরের ৮ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

পরবর্তীতে আইনি জটিলতা পেরিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ দেন আদালত। এ আদেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

আপনার মতামত লিখুন :

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ
মেশকাত হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন নিজের পকেটে থাকা অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ হল গেটের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেশকাত হোসেনের পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘লোডেড অস্ত্র পকেটে নিয়ে ঘুরলে যা হয় আর কি! আরও খারাপ কিছু হতে পারত।’

একটি সূত্র জানায়, মেশকাত সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হল গেটে ঢোকার সময় সম্ভবত অস্ত্র আনলক করা ছিল। তাই অসাবধানে গুলি বের হলে তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে।

এ ব্যাপারে মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্র সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান সোহান জানান, হলে ঢোকার সময় মেশকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মকবুল হোসেন ঘটনাটি দেখার জন্য লোক পাঠিয়েছেন বলে জানান।

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’
‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে শিখন-পঠনের নতুন মাধ্যম স্টেম শিক্ষা। এর সহায়তায় এমন এক সুসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে যাতে তারা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, বাস্তবজ্ঞান, যেকোন কিছুকে ভেঙে তার মূল সমস্যায় পৌঁছাতে পারবে। এজন্য একুশ শতকে স্টেম শিক্ষা অতি জরুরি।

শনিবার (২০ জুলাই) ‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড কামাল উদ্দীন আহমেদ, স্টেম বাংলাদেশের আহবায়ক ড আল নাকীব চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, স্টেম শিক্ষা হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো কিছুর অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করে ক্রিটিক্যাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি হবে রিয়েল লাইফ সিচুয়েশন অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। স্টেমকে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবেও তিনি মনে করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে স্টেম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ, মানসম্মত, সংঘাতমুক্ত সমাজ ও ভারসাম্য পরিবেশে বসাবস করা। সেজন্য স্টেম শিক্ষা হবে সার্ভাইভাল টেকনিক যেটা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজতে মানুষকে সাহায্য করবে। এই সুবিধা  যাতে সবাই পায় সেজন্য আমরা লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ইত্যাদির প্রতি নজর দিচ্ছি।

অনুৃষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড জ্যাক হোলব্রুক এবং ড মুহাম্মদ আব হাদী বুনয়ামিন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র