Alexa

যেকোনো চিকিৎসায় 'প্যারাসিটামল দুই বেলা'

যেকোনো চিকিৎসায় 'প্যারাসিটামল দুই বেলা'

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে যেকোনো রোগের চিকিৎসা নিতে গেলে শিক্ষার্থীদের হাতে প্যারাসিটামল ধরিয়ে দেওয়া হয়। জ্বর, ঠাণ্ডা, মাথাব্যথাসহ সব রোগের ক্ষেত্রেই এ ওষুধটি ব্যবহারের পরামর্শ দেয় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। তা ছাড়া এ মেডিক্যাল সেন্টারে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি থাকলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে যন্ত্রপাতিগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিক্যাল সেন্টারে গেলেই চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল ধরিয়ে দেন। কখনো কখনো এর সঙ্গে হিস্টাসিনও দেন। আর সমস্যা গুরুতর হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী নীলয় মাহমুদ রুবেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্যারাসিটামল-হিস্টাসিনের মতো দুয়েকটা ওষুধ  ছাড়া আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। যদি ওষুধ পাওয়া না যায় আর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো না যায়—তাহলে মেডিক্যাল সেন্টার থাকারই প্রয়োজন কী?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এনালাইজার মেশিন কেনা হলেও কোনো টেকনিশিয়ান না থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের বাজেট খুবই কম, যা দিয়ে দামি ওষুধ কেনা সম্ভব নয়। তা ছাড়া মেডিক্যাল সেন্টারটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে আরো কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া জরুরি।’

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সাত হাজারেরও বেশি লোকের জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে মেডিক্যাল সেন্টারটি। রাতের বেলা দায়িত্ব পালন করেন মাত্র একজন চিকিৎসক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এসব কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা। আর অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সব ধরণের ওষুধ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা, দাবি মেডিক্যাল সেন্টার কর্তৃপক্ষের।         

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেডিক্যাল সেন্টারটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এ ব্যাপারে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করি, শীঘ্রই  সব সমস্যা সমাধান হবে।’

ক্যাম্পাস এর আরও খবর