ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কিনতে আরও ২২ কোটি টাকা চায় মন্ত্রণালয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-ছবি: সংগৃহীত।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কিনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অর্থ চাওয়া হয়। চিঠিতে, বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে এ অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে তুরস্কের আঙ্কারা, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, ব্রুনাইয়ের বন্দর সেরি বেওয়ান এবং ভূটানের থিম্পুতে চ্যান্সারি ও বাসভবনের জন্য জায়গা কেনা হয়েছে। এছাড়া ইতালীর রোম এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসেও জমি কেনার প্রক্রিয়া চলামান। কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের দূতাবাস ইউরোপের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দূতাবাসটি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে।

এসব বিবেচনায় কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের স্থায়ী বাসভবন কেনার সুপারিশ করে ক্রয় কমিটি। ওই সুপারিশ অনুযায়ী কোপেনহেগেনের ২১টি ভবন সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। তারমধ্যে ৬টি ভবনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য সম্পত্তিগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থাপতি, অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত ৭-১১ আগস্ট কোপেনহেগেন সফর করে চূড়ান্ত সুপাশি জমা দেয়। সুপারিশে বাসভবনের ডিজাইন, আকার এবং অবস্থান বিবেচনা করে জেইগার্সবার্গাল্ল ৮৮ চার্ললেটটেন্লুন্ড, কোপেনহেগেনে অবস্থিত ভবনটি কেনার সুপারিশ করা হয়।  ফলে ভবন ক্রয়, রেজিস্ট্রি এবং আইনজীবী নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক খরচ ধরা হয় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যদিও এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ১৭ কোটি টাকা। ফলে জমি ক্রয় ও আনুষঙ্গি খরচ বাবদ আরও ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে ২০১৮-১৯ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় খাতে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে, যা দিয়ে প্রস্তাবিত ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে ইতালীর রাজধানী রোম, লস অ্যাঞ্জেলেসে অফিস/বাসভবন কেনার জন্য সবপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় কোপেনহেগেনের বর্তমান ভবনটি কিনতে বিদ্যমান বরাদ্দের অতিরিক্ত ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে এই বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টি দেশে বাংলাদেশের ৭২টি মিশন আছে। যার মধ্যে ৫৪টি দূতাবাস, দু’টি স্থায়ী মিশন, আটটি কনস্যুলেট জেনারেল, তিনটি ডেপুটি হাইকমিশন, দু’টি সহকারী হাইকমিশন, একটি কনস্যুলেট এবং একটি ভিসা অফিস আছে।

এরমধ্যে মাত্র ১০টি দূতাবাসের জন্য নিজস্ব জমি আছে। তবে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের বেশির ভাগই চলছে ভাড়া বাড়িতে। এ কারণে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিজস্ব চ্যান্সারি এবং রাষ্টদূতের বাসভবনের জন্য জমি বা জমিসহ ভবন কেনার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার আওতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৩২টি দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

অর্থনীতি এর আরও খবর