Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কিনতে আরও ২২ কোটি টাকা চায় মন্ত্রণালয়

ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কিনতে আরও ২২ কোটি টাকা চায় মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-ছবি: সংগৃহীত।
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কিনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অর্থ চাওয়া হয়। চিঠিতে, বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে এ অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে তুরস্কের আঙ্কারা, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, ব্রুনাইয়ের বন্দর সেরি বেওয়ান এবং ভূটানের থিম্পুতে চ্যান্সারি ও বাসভবনের জন্য জায়গা কেনা হয়েছে। এছাড়া ইতালীর রোম এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসেও জমি কেনার প্রক্রিয়া চলামান। কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের দূতাবাস ইউরোপের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দূতাবাসটি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে।

এসব বিবেচনায় কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের স্থায়ী বাসভবন কেনার সুপারিশ করে ক্রয় কমিটি। ওই সুপারিশ অনুযায়ী কোপেনহেগেনের ২১টি ভবন সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। তারমধ্যে ৬টি ভবনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য সম্পত্তিগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থাপতি, অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত ৭-১১ আগস্ট কোপেনহেগেন সফর করে চূড়ান্ত সুপাশি জমা দেয়। সুপারিশে বাসভবনের ডিজাইন, আকার এবং অবস্থান বিবেচনা করে জেইগার্সবার্গাল্ল ৮৮ চার্ললেটটেন্লুন্ড, কোপেনহেগেনে অবস্থিত ভবনটি কেনার সুপারিশ করা হয়।  ফলে ভবন ক্রয়, রেজিস্ট্রি এবং আইনজীবী নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক খরচ ধরা হয় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যদিও এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ১৭ কোটি টাকা। ফলে জমি ক্রয় ও আনুষঙ্গি খরচ বাবদ আরও ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে ২০১৮-১৯ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় খাতে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে, যা দিয়ে প্রস্তাবিত ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে ইতালীর রাজধানী রোম, লস অ্যাঞ্জেলেসে অফিস/বাসভবন কেনার জন্য সবপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় কোপেনহেগেনের বর্তমান ভবনটি কিনতে বিদ্যমান বরাদ্দের অতিরিক্ত ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে এই বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টি দেশে বাংলাদেশের ৭২টি মিশন আছে। যার মধ্যে ৫৪টি দূতাবাস, দু’টি স্থায়ী মিশন, আটটি কনস্যুলেট জেনারেল, তিনটি ডেপুটি হাইকমিশন, দু’টি সহকারী হাইকমিশন, একটি কনস্যুলেট এবং একটি ভিসা অফিস আছে।

এরমধ্যে মাত্র ১০টি দূতাবাসের জন্য নিজস্ব জমি আছে। তবে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের বেশির ভাগই চলছে ভাড়া বাড়িতে। এ কারণে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিজস্ব চ্যান্সারি এবং রাষ্টদূতের বাসভবনের জন্য জমি বা জমিসহ ভবন কেনার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার আওতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৩২টি দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

আপনার মতামত লিখুন :

অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি

অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে চলমান অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ জানতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (২১ জুলাই) বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ কমিটি গঠন করল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিনও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৯৭ পয়েন্ট। যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রোববার সূচকের পাশাপাশি লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। আর তাতে বিনিয়োগকারীদের বাজার মূলধন অর্থাৎ পুঁজি হাওয়া হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির পরিচালক রেজাউল করিমকে। অন্য সদস্যরা হলেন- উপ পরিচালক মো. অহিদুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম ও মো.রাকিবুর রহমান। কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপ নেই

নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপ নেই
ছবি: সংগৃহীত

আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চাপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

রোববার (২১ জুলাই) বিকেলে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের সংগঠন এবিবির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শুধুমাত্র ঘোষণা দিয়ে নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। অনেকগুলো বিষয় আছে। তবে আশা করছি, ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়ন হবে। কারণ আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমতে শুরু করেছে এবং রফতানি বাড়ছে। এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে ব্যাংক। আশা করি, আগামী জুন প্রান্তিকে এ উদ্যোগের আরও কিছুটা বাস্তবায়ন এবং খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।’

‘শুধু একটি বিষয় নয়, এখানে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কীভাবে গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাও করছে ব্যাংক খাত। আমাদের দেশের খেলাপি ঋণ মার্চ প্রান্তিকে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী প্রান্তিকে কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, এ খেলাপি ঋণ জুন প্রান্তিকে অন্তত ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে,’ যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুরো ব্যাংক খাত মিলে নয়-ছয় সুদ হার বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সরকারি ব্যাংকগুলো এটা বাস্তবায়ন করলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো কেন পারছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব বেসরকারি ব্যাংকই যে ৯ শতাংশের ওপরে সুদ নিচ্ছে তা নয়। কিছু কিছু বেসরকারি ব্যাংকও এটা বাস্তবায়ন করেছে। তবে সবগুলো ব্যাংকে এ সুদ হার বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র