পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন পুনঃবিবেচনার অনুরোধ

পোশাক শ্রমিক

সরকার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার ৭০০ টাকা বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এই মজুরি বর্তমান বাজার মূল্যে সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে মনে করেন শ্রমিক নেতারা। এজন্য মজুরি পুনঃবিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার ঘোষণা করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। যা বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে। বর্তমানে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হয় ৫ হাজার ৩০০ টাকা। নতুন নির্ধারণ করা ন্যূনতম মজুরিতে মূল বেতন ধরা হয়েছে ৪ হাজার একশ টাকা। এর সাথে বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬শ’ টাকা, পরিবহন ভাতা ৬৫০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ যোগ করে মোট মজুরি ধরা হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম বেতনের বিষয়ে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখেছেন। তার নির্দেশনায় নতুন এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে বাড়িভাড়ার বিবেচনায় এই মজুরি দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি পুনঃবিবেচনার অুনরোধ জানাচ্ছি।’

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে আমরা সম্মান জানাই। তবে অন্যান্যবারের মতো এবারও আমাদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। কারণ মজুরি বাড়ানোর ঘোষণার সাথে সাথে বাড়িভাড়াও বাড়িয়ে দেন বাড়ির মালিকরা। এ দিকটা বারবার মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও আজও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের অনুরোধ, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি আরো একটু বিবেচনা করা হোক।’

তবে এই সময় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য মঙ্গলকর হয়েছে বলে মনে করেন গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। তিনি বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘এখন যদি এ ধরনের নির্দেশনা না দেওয়া হতো তাহলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন। আন্দোলন শুরুর সম্ভাবনা ছিল। ফলে শ্রম পরিবেশ অশান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে আমাদের পোশাক শিল্প।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বোর্ডের চারটি সভায়ও নিম্নতম মজুরির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষ। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।’

জানা গেছে, বোর্ডের তৃতীয় বৈঠকে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব করে। কিন্তু শ্রমিকরা শুরু থেকেই ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।’

 

অর্থনীতি এর আরও খবর