হোন্ডার সরকারি শেয়ার রাখতে সাড়ে ৮৯ কোটি টাকা ঋণ ছাড়

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সরকারের ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। ওই শেয়ার ধরে রাখতে বাজেট থেকে ৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বিএসইসি’কে ঋণ হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়। অন্যদিকে কোম্পানির বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক জাপানি হোন্ডা কোম্পানি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ফরজানা রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিএসইসি’কে ৫ শতাংশ সুদে ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডে আগামী ২০ বছরে এ ঋণ শোধ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথমে এই অর্থ ছাড় করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কোম্পানির শেয়ার বাড়ায় অতিরিক্ত অর্থ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বাজেট থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দিতে আবারও অর্থমন্ত্রী বরাবর জোরালো দাবি জানান। পরে গত ১১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ হিসেবে ওই অর্থ ছাড় করে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় ২৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনে বাংলাদেশ হোন্ডা (প্রাইভেট) লিমিটেডের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল উৎপাদনও শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের হোন্ডা কোম্পানি স্পোর্টস বাইক সিবি হরনেট-১৬০আর বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম বছর হোন্ডা কোম্পানি এক লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে, চতুর্থ বছরে উৎপাদনের পরিমাণ ২ লাখ ইউনিটে উন্নীত করা হবে। এ পর্যন্ত নতুন কারখানায় প্রায় ৩০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০ জনে।

আরো জানা গেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে বার্ষিক ১০ লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে ওই কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মোটরসাইকেল রফতানি করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, হোন্ডা মোটর জাপানের পাবলিক লিমিটেড বহুজাতিক করপোরেশন যা ১৯৫৬ সাল থেকে মোটরসাইকেল তৈরি করে আসছে। এ কোম্পানি মূলত অটোমোবাইল, বিমান, মোটরসাইকেল এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে হোন্ডা কোম্পানি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিএসইসি’র সঙ্গে নতুন ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু ১৯৮৩ সালে ভারতের হিরো মোটরসাইকেল কোম্পানির সাথে হোন্ডার চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যবসার গ্যাপ তৈরি হয়।

পরে ২০১০ সালে হোন্ডা মোটর ভারতের পার্টনারশিপ থেকে বেরিয়ে আসলে বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও ব্যবসা শুরু করে। ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজীপুরে ভাড়া জায়গায় মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে হোন্ডা। বাংলাদেশে হোন্ডার বিনিয়োগ আছে ৬১ কোটি টাকা। জাপানি হোন্ডা কোম্পানি তাদের মোট ফ্যাক্টরির ৯৫ শতাংশ ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে নিয়ে এসেছে। এতে জাপানি হোন্ডা কোম্পানি প্রতিবছর দেশগুলোতে মোটরসাইকেল বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২-১৮ মিলিয়ন ইউনিট।

অর্থনীতি এর আরও খবর