পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হচ্ছে ৪ কোম্পানি, অপেক্ষায় আরও ১০

ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

সর্বশেষ পাঁচ বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করাসহ নানা কারণে চারটি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে তালিকাচ্যুত করে ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, ইমাম বাটন ও সাভার রিফ্রেক্টরিজ লিমিটেড।

তালিকাচ্যুতির তালিকায় থাকা বাকি ১০ কোম্পানি হচ্ছে- আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, দুলা মিয়া কটন, সমতা লেদার, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ), বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, জুট স্পিনার্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটাওয়ার্কস লিমিটেড।

এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনজাহ মান্নান ইমন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘লিস্টিং আইন পালন না করায় মূল মার্কেট থেকে চারটি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আগামীকাল এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে কোম্পানি চারটিকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশনের ৫১(১)(এ) ধারা অনুসারে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ডিএসইর সূত্র মতে, কোম্পানিগুলো সর্বশেষ পাঁচ বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়নি। টানা পাঁচ বছর এজিএম করেনি। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, লিস্টিং ফিও দিচ্ছে না।

এছাড়াও লিস্টিং রেগুলেশন কিংবা অন্য যেকোনো সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করছে।

এর আগে গত বছরের ১৮ জুলাই রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংকে সব মার্কেট থেকেই তালিকাচ্যুত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পাঁচ বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়াসহ বেশ কিছু কারণে গত বছরের আগস্ট মাসে ১৫টি কোম্পানিকে নোটিশ দেয় ডিএসই। নোটিশে কোম্পানিগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন তালিকাচ্যুত করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলো ডিএসইর নোটিশের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পরেনি।

এরপর একাধিকবার শুনানি হয়েছে। কিন্তু শুনানিতেও কোনো সঠিক পরিকল্পনা না দেওয়ায় ডিএসইর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর