তাদের ছদ্মবেশ উন্মোচিত

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.), ছবি: বার্তা২৪

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.)

তর্জন গর্জনে ঐক্যফ্রন্ট অনেক সরব হলেও বর্ষণ শেষ পর্যন্ত কতটুকু হবে তা নিয়ে শুরু থেকেই মানুষের মনে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় তেলে-জলে মিলে বোধ হয় বিরাট নতুন কিছু হয়ে গেল। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। ঐক্যফ্রন্টের নামে আজ যারা এক মঞ্চে উঠেছে এর মধ্যে বিএনপি ছাড়া অন্য কারো সংগঠন, জনসংযোগ এবং জনসমর্থন বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই। বিএনপি ব্যতিরেকে অন্য যারা এখানে আছেন মিডিয়া যদি তাদের কাভারেজ না দিত তা হলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের চিনতো না।

ভোটের বাজারে শূন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে যার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, এমন নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে বড় ভোটব্যাংক সম্পন্ন দল বিএনপি যখন ধর্না দেয় এবং সারেণ্ডার করে তখন বুঝতে হবে এর মধ্যে ভয়ানক গলদ আছে। এটা মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সে জন্যই মানুষ বলছে, এটা হচ্ছে জগাখিচুড়ির ঐক্যফ্রন্ট।

এদের আসল উদ্দেশ্য নির্বাচন এবং জয়লাভ করা নয়। এখানে যারা মিলিত হয়েছেন তাদের সকলের সাধারণ লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনা বিদ্বেষ। কারণ, শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উচ্চতায় উঠেছেন তাতে তিনি যতদিন রাজনীতিতে আছেন, ততদিন তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত শূন্য। আর রিজার্ভ ভোট ব্যাংক থাকলেও নির্বাচনে ফল নির্ধারক দলনিরপেক্ষ সাধারণ ভোটারদের কাছে বিএনপির যে জায়গা ছিল তা এতদিন হারিয়ে ফেলেছে আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলোতে ব্যর্থ হওয়ায়।

সম্প্রতি হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করে্ছে তাতে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান- দু’জনার কেউ বিএনপির নেৃতত্বে থাকতে পারবেন বলে মনে হয় না। যদিও হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বিএনপি পাবে।

আসল কথা হচ্ছে, ১৯৭৮ সাল থেকে আজ ৪০ বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সম্বলিত রাজনীতিকে ধ্বংস করার রাজনীতি করে আসছে বিএনপি। আসলে এর পরিণতিতেই বিএনপি এখন এই সময়ে এসে পুরোপুরি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে গেছে। প্রমাণিত হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না। তরুণ প্রজন্ম তা গ্রহণ করবে না।

মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের ছদ্মবেশে বিএনপি এতদিন যা করেছে, তার মুখোশ তরুণ প্রজন্মের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পেরেছে মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে যা কিছু করেছেন তা তো একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান এবং এদেশে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতের কাজ। ৪০ বছর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে সবাই বলবেন স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড এগুলো হতে পারে না।

মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাবধারী জিয়াউর রহমানের হাত ধরে উপরোক্ত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী কাজগুলো হয়েছে। বিএনপিসহ তথাকথিত নিরপেক্ষগণ বলার চেষ্টা করেছে বিএনপিও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। কিন্তু কথায় আছে, বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। বিএনপির কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে জামায়াতের কাজগুলোই ছদ্মবেশে বিএনপি করে দিয়েছে।

সুতরাং জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নিই। তো এই বিএনপির সঙ্গে এখন এক কাতারে বসার ঘোষণা দিলেন বঙ্গবীর বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী, ঐক্যফ্রন্টের ছদ্মবেশে। তাই বলা যায়, বিএনপির ছদ্মবেশী চাদরখানা আরেকটু মোটা হলো। এছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য এতে হবে না। এতদিনে বাংলাদেশের মানুষ সকলকেই চিনে ফেলেছে।

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.): কলামিস্ট এবং ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

 

যুক্তিতর্ক এর আরও খবর

রাজনীতির দুর্দিন

আমার ধারণা ছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়কে সামনে নিয়ে পরাজিত শক্তি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট তা...