রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে

ছবি: বার্তা২৪

আড়াই বছর আগে ঢাকায় রাইড শেয়ারিং চালু হলেও মূলত গত এক বছরে এর ব্যবহার বহুগুণে বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই সেবা চালুর পর থেকে ভাড়া নিয়ে এক ধরণের অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। সেবার ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে যাত্রীদের অভিযোগও। কারণ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নীতিমালায় রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া আদায়ে সুম্পষ্ট কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি।

রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার অ্যাপে মোটরসাইকেলের জন্য মূল ভাড়া ৩০ টাকার সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১২ টাকা ও প্রতি মিনিটের জন্য ৫০ পয়সা, পাঠাওয়ে মূল ভাড়া ২৫ টাকার সঙ্গে যথাক্রমে ১২ টাকা ও ৫০ পয়সা এবং সহজ রাইডে মূল ভাড়া ২৪ টাকার সঙ্গে যথাক্রমে ১২ টাকা ও ৫০ পয়সা যোগ হয়ে মোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী, উবারে সবচেয়ে বেশি এবং সহজ রাইডের ভাড়া অন্য রাইড শেয়ারিং কোম্পানির চেয়ে কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে উবারের চেয়ে পাঠাওয়ের ভাড়া বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541826424214.jpg

বিআরটিএ বলছে, দেশে রাইড শেয়ারিংয়ের ধারণা নতুন হওয়ায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। তবে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ট্যাক্সি সার্ভিসের ভাড়ার চেয়ে রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া বেশি হতে পারবে না। কিন্তু মোটরসেইকেলের ভাড়ার বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

বাংলাদেশে এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন মুরাদ শুভ নামের এক ব্যক্তি। তিনি লন্ডনে উবার-এ এক সময় চাকরি করতেন। তিনি বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘নীতিমালায় ফাঁক থাকায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করার সুযোগ পাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘নীতিমালা বেশ তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। ফলে বেশ কিছু জায়গায় ফাঁক রয়ে গেছে। অন্যান্য দেশগুলোতে সাধারণত দেশীয় কোম্পানিগুলোকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু এ নীতিমালায় তেমনটি করা হয়নি।’

প্রসঙ্গত, ঢাকায় প্রথম মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং শুরু করে ‘স্যাম’। যেটি এখন প্রায় বিলুপ্ত। ওই কোম্পানির ভাড়া কম ছিল। এরপর প্রাইভেটকারে রাইড শেয়ারিংয়ের সেবা দেওয়া শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড উবার। এরপর দেশি প্রতিষ্ঠান 'পাঠাও’ চালুর পর থেকে বাড়তে থাকে ভাড়া। ফলে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541826458877.jpg

বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় পৌনে এক লাখের মতো নতুন মোটরসাইকেল নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে দিনে ঢাকায় ২৬০টি মোটরসাইকেল নামানো হয়েছে। যদিও ২০১৭ সালে এতো মোটরসাইকেল নিবন্ধন হয়নি।

তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগগুলো বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই অভিযোগে ‘পাঠাও লিমিটেড’ এর বিরুদ্ধে গত ৭ নভেম্বর উকিল নোটিস পাঠায়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম। নোটেশে পাঠাও সেবার ভাড়া কিভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং তা কোন আইনের বলে- সেটা তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

বিআরটিএ’র রাইড শেয়ারিং সেল জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনো রাইড শেয়ারিং কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে তা প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে যাত্রীরা অভিযোগ করলে তা আমলে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি অভিযোগের পর যাত্রীরা টাকা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

টেক এর আরও খবর