নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি, অপেক্ষা ঘোষণার

বিএনপি

নির্বাচনের যাচ্ছে বিএনপি। যদিও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের যাওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পর বিএনপির মহাসচিব মি্র্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আবারও বৈঠকে বসছেন নেতারা। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশান বিএনপির রাজনৈতিক কর্‌্যালয়ে বিকেল ৫ টায় স্থায়ী কমিটি, সন্ধ্যা ৬ টায় ২০ দলীয় জোট এবং রাত ৮ টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নির্বাচনী পরিকল্পনা, দায়িত্ববণ্টন, ইশতেহারসহ নানা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তবেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিএনপি।

নির্বাচনে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও জোটগত না এককভাবে যাবে তা এখনও চুড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের এক সদস্য। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, দলে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আজকের বৈঠকের পর জানতে পারবেন। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া সম্পূর্ণ সরকারের উপর নির্ভর করছে। সরকার যদি আমাদের ন্যূনতম দাবি মেনে নেয় সেক্ষেত্রে দল বিবেচনা করবে নির্বাচনে যাবে কি না।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সাত দফা দাবি থেকে অনেকটা সরে এসেছে দলটি। সেখানে ন্যূনতম দাবি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা না দেওয়া, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়া এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানিয়েছে তারা। এসব শর্তে নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত বিএনপি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলনের কথা বলে বিএনপি দৃশ্যত নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখছে। নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। তাছাড়া নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিও নির্ভর করবে তাদের নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার উপর।

এসব দিক বিবেচনা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই যু্ক্তিযুক্ত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনমূখী দল। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি। তবে তা হতে হবে অবাধ, ‍সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ‍নির্বাচন।

সম্প্রতি ঢাকায় জনসভায় নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নির্বাচনকে আমরা আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করেছি।

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিনা চ্যালেঞ্জে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এমনকি ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে না।

এদিকে রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ভোট প্রয়োগের মাধ্যম সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

রাজনীতি এর আরও খবর