নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে চাপে অর্থ বিভাগ!

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থপনা খাতের বরাদ্দ প্রায় ফুরিয়ে যাওয়ায় চাপে আছে অর্থ বিভাগ। কারণ চলতি অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত অক্টোবর পর্যন্ত এ খাত থেকে খরচ হয়ে গেছে এক হাজার ৩৬৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। ফলে অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে নির্বাচনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

মূলত দেশে আকর্ষিক কোনো দুর্ঘটনায় অর্থের প্রয়োজন মেটাতে বাজেটে অপত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে থোক বরাদ্দ রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে অতিরিক্ত অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু এ অর্থ কিভাবে যোগান দেওয়া যায় সেটা নিয়ে অর্থ বিভাগ বেশ দুশ্চিন্তায় আছে। কারণ অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতের বরাদ্দ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনসারদের জন্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত নির্বাচনে অপ্রাত্যাশিত খাত থেকে কম টাকা লেগেছিল।  ওই নির্বাচনে মোট ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এরমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং ১৪৭টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বাকি ১৫৩টি সংসদীয় আসনে ইসিকে ভোটের আয়োজন করতে হয়নি। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা ১০ম সাধারণ নির্বাচনের দ্বিগুণেও বেশি। চলতি অর্থ বছরে নির্বাচন কমিশনের আওতায় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ধরা আছে।’

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আনসার-ভিডিপির প্লাটুন ও সহযোগী প্লাটুন কমান্ডারের দৈনিক বেতন এক হাজার ৫০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তারা দিতে ৫২৫ টাকা পায়। আসন্ন নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৯১টি ভোট কেন্দ্রে ৪ লাখ ৮২ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এতে অতিরিক্ত খরচ হবে ২৪৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি অপ্রত্যশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে ছাড় করা অর্থের হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণায়লের আওতায় কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতায় জুন ২০১৭ পর্ষন্ত অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ নিস্পত্তিতে। এসব খাতে মোট ছাড় করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

এছাড়া পুরাকীর্তি রোজ গার্ডেন কিনতে ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যুক্তরাষ্ট্রে চ্যান্সারি ভবন কিনতে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, রোমের চ্যান্সারি ভবন ও রাষ্টদূতের বাস ভবন কিনতে ১৩৫ কোটি টাকা, পাটকল শ্রমিকদের মজুরি ও বেতন-ভাতা পরিশোধে ১০০ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুই প্রকল্পে ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ৭৯ কোটি টাকা, সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ব্যয় ব্যবস্থপনায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এছাড়া অবশিষ্ট অর্থ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে চলতি অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

 

নির্বাচন এর আরও খবর