‘ভেনামি’তে আটকে যাচ্ছে চিংড়ি রফতানি

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি (বামে) ও ভেনামি /ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান হিমায়িত রফতানি পণ্য চিংড়ি। এদেশে উৎপাদিত চিংড়ির মতোই দেখতে ‘ভেনামি’ নামের এক ধরণের চিংড়ি, যা এখনো বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। আবার স্বাদও প্রায় এখানকার চিংড়ির মতোই কিন্তু দাম চিংড়ির চেয়ে কম। আন্তর্জাতিক মৎস বাজারে এ ‘ভেনামি’র সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমছে দেশীয় চিংড়ির। তাই হুমকির মুখে চিংড়ি রফাতানি।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম চার মাসে হিমায়িত পণ্যের রফতানি আয় গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর এ চার মাসে হিমায়িত পণ্যের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৫৭ দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার।

এই সময়ে সংশ্লিষ্ট খাতে রফতানি আয় হয়েছে ১৯৭ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৫ শতাংশ রফতানি আয় বেশি হলেও গত অর্থবছরের তুলনায় প্রথম চার মাসে হিমায়িত পণ্যের রফতানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক তিন শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মাসে হিমায়িত পণ্যের রফতানি আয় ছিলো ২২৬ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে চার মাসে হিমায়িত পণ্যের রফতানি কমেছে ২৪ কোটি টাকা।

ইপিবি জানায়, আন্তর্জাতিক মৎসবাজারে গত কয়েক বছর ধরে ‘ভেনামি’ মাছের কারণে কমেছে চিংড়ির চাহিদা। দেখতে ও স্বাদে ভেনামি ও চিংড়ি দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এক পাউন্ড চিংড়ির দাম যেখানে সাত ডলার সেখানে চার ডলারেই পাওয়া যায় এই ‘ভেনামি’ মাছ।

আর তাই আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে চিংড়ির বাজার দখল করে নিয়েছে ভেনামি মাছ। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো কর্তৃপক্ষ ভেনামি মাছের চাষের অনুমতি না দেওয়ায় হিমায়িত পণ্যের রফতানি কমছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ি, হিমায়িত পণ্যের রফতানির মধ্যে মূল আয়টাই আসে চিংড়ি ও মাছ থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই বাগদা চিংড়ির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়ায় হিমায়িত পণ্যের রফতানি আয় কমছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে হিমায়িত পণ্যের মোট রফতানি যেখানে ছিলো ১৯৭ মিলিয়ন ডলার সেখানে শুধু চিংড়ির রফতানি আয়ই হয়েছে ১৫৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের। এটিও গত অর্থ বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন বার্তা২৪কে বলেন, ‘হিমায়িত পণ্যের রফতানি যে কমছে, এটা ঠিক। আজ থেকে ১০ বছর আগে হিমায়িত পণ্যের রফতানিকারক যেখানে ছিলো ১৪০টি প্রতিষ্ঠান, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০টিতে।

‘কিন্তু এটা বুঝতে হবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে তার দায়তো নিতেই হবে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামির সাথে দামে পেরে উঠছে না আমাদের চিংড়ি। এখন আমরা যদি ভেনামি উৎপাদনে না যাই তাহলে আরো বিপাকে পড়তে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা চলছে।’

অর্থনীতি এর আরও খবর