কিশোরগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন!

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ব্যাচেলর ডরমেটরিতে বসবাসকারী কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের চিরকুমার ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় শনিবার (১০ নভেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রমজান মাহমুদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের অন্য সদস্যরা ছিলেন, কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবুল হোসেন মাছুম, ডা. সজীব ঘোষ, ডা. মামুনুর রশিদ ও ডা. মাইনুল হাসান।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এ সময় কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান পর্যবেক্ষক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ময়নাতদন্ত শেষে সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, 'লাশের কপাল, নাক ও মাথার ডান পাশে চারটি ছোট্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীতে নমুনা পাঠানো হচ্ছে।'

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকার অফিসার্স ডরমেটরিতে আবু তাহের সাঈদকে (৫৭) অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রশাসনিক সহকর্মীদের সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানানো হয় যে, তিনি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বলা হয় যে, তিনি ফুড পয়জনিং-আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আরেকটি মহল থেকে তার স্ট্রোক হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

কিশোরগঞ্জে মাদক, ভেজালবিরোধী ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্যে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখা দেয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাকে সারাদিন সুস্থ্য-সবল দেখার কথা জানান।

বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি তার সঙ্গে আলাপের কথাও উল্লেখ করেন। ফলে স্বল্প সময়ের ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং-এ মৃত্যুর বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। অবশেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তার মরদেহ ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, তিনি ৭ম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদ একজন সৎ, সাহসী, নির্লোভ ও নিরহংকারী মানুষ ছিলেন। তিনি চাকুরির সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলায় এবং অল্প কিছুদিন পরেই চাকুরি থেকে তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

শনিবার (১০ নভেম্বর) ময়নাতদন্তের পর দাফনের জন্য নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের বাড়িতে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতীয় এর আরও খবর