মাশরাফি-সাকিবের নির্বাচনী অভিলাষ এবং ক্রিকেট ও রাজনীতির লাভ-ক্ষতি

সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা

জাতীয় নির্বাচনে সংসদীয় আসন তিনশ। কিন্তু শনিবার সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত পুরো দেশের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো নড়াইল-২ এবং মাগুরা-১! সংসদীয় এই দুই আসন নিয়ে পেছনের পাঁচবছরে এমন কিছুই ঘটেনি যে এটা আলাদা করে অনেকক্ষণ ধরে আলোচনার দাবি রাখে।

শনিবার ঘটলো। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচনের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিকাল নাগাদ মাগুরা-১ থেকে এবারের সংসদ নির্বাচনের অভিলাষ জানালেন সাকিব আল হাসান। ব্যস কিসের জোট-সংলাপ-আলাপ? সব নির্বাচনী আলোচনার ফ্লাডলাইটে তখন মাশরাফি এবং সাকিব!

দুজনেই রোববার সকালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফর্ম কিনবেন। এই দুই ক্রিকেট তারকার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার খবর প্রথমে শোনা গিয়েছিলো চলতি বছরের মে মাসে। তবে সেই সময় দুজনেই সেই খবরের প্রতিক্রিয়ায় হেসেছিলেন। স্বীকার-অস্বীকার কোনকিছুই বোঝা যায় না-এমনই ছিলো সেই রহস্যময় হাসি!

শনিবার প্রায় সব শীর্ষ অনলাইন, নিউজপোর্টাল, টিভিস্ক্রলে তাদের নাম, হাসিমুখের ছবি এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার খবর গুরুত্ব পেল। অথচ এই দুজনের কেউই রাজনীতির মানুষ নন। খাঁটি ক্রিকেটের লোক। এখনো পুরোদুস্তর পেশাদার ক্রিকেটার। নির্বাচন মানেই রাজনীতিবিদদের ছবি, ব্যস্ততা, বক্তৃতা, মঞ্চ, মাইক, জনসভা, পোস্টার, হোন্ডা মিছিল। অথচ এই দুজনের কারোরই অমন কোন আয়োজনের প্রয়োজন পড়েনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541861739890.jpg

শুধু আগ্রহে মাথা ঝাঁকালেন। ব্যস তাতেই পুরো নির্বাচনের সব আলোকচ্ছটা নড়াইল-২ ও মাগুরা-১ এ। মাশরাফি-সাকিব হাসছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের হাসিতে! ভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর। এখনো হাতে সময় আছে। ভোটের লড়াইয়ে পক্ষ ঠিক আছে। প্রতিপক্ষ স্থির হয়নি। আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে। অন্যপক্ষ অপেক্ষায়। তবে ভোটের মাঠে আগেভাগেই আওয়ামী লীগ ২-০ তে এগিয়ে গেল! গোলদাতা মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান!

দুজনেই দেশসেরা ক্রিকেটার। আর্ন্তজাতিক তারকা। ক্রিকেটের মাঠে বাংলাদেশকে অনেক সাফল্য এনে দেয়ার কারিগর। শুধু ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবই নয়, সার্বিক বিচারে দুজনেই ভালো মানুষ। এমন ভালো মানুষ দেশের রাজনীতিতে যুক্ত হলে সেটা সন্দেহতীতভাবে ভালো খবর। তাদের অর্ন্তভুক্তিতে রাজনীতি লাভবান হবে। তবে আওয়ামী লীগের হয়ে যাওয়া মাশরাফি এবং সাকিব এখন জনসমর্থনেও ভাগবাটোয়ারার ওজনদারিতে পড়বেন কিনা-সেটাই দেখার বিষয়!

যেখানে বাংলাদেশের প্রায় সবকিছুতেই বিভাজন ও বিভাজিত কেবলমাত্র রাজনীতির পরিচয়ে; সেখানে এখন মাশরাফি-সাকিব সার্বজনীন হাততালি পান কিনা-সামনের দিনে সেটাও পর্যবেক্ষনের বিষয়। তবে রাজনীতিকে লাভবান করতে এবং সেই সঙ্গে নিজেদেরকেও লাভবান হতে এই দুজনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য যে সময়টা বেছে নিলেন-সেটার টাইমিং নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দুজনেই এখনো পুরোপুরি পেশাদার ক্রিকেটার। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি আছে তাদের। ক্রিকেট বোর্ড থেকে বেতন পান তারা। ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেতনাদির সুযোগ-সুবিধা পাওয়া কোন ব্যক্তি আবার জাতীয় সংসদে আইন প্রনয়ন ও পাসের দায়িত্বে নিয়োজিত; এমনকিছুতে আইনগত কোন সমস্যা হয়তো নেই। কিন্তু নৈতিকতা পরিমাপ শুধু আইনের ফিতেয় নয়, বিবেক দিয়েও মাপতে হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/10/1541861759000.JPG

সাকিব এখন ইনজুরিতে। ক্রিকেট থেকে বিশ্রামে আছেন। হয়তো ডিসেম্বরের নির্বাচনে মিছিল, নির্বাচনী জনসভা, ভোট প্রার্থনা করার সময় তিনি পাবেন। কিন্তু মাশরাফিকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোদুস্তর ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ম্যাচের ছক-পরিকল্পনা তো তাকেই সাজাতেই হচ্ছে। খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন নাকি নির্বাচনী বৈঠকের চিন্তায় থাকবেন?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন যাই করছে, বলা হচ্ছে সামনের বছরের বিশ্বকাপকে ঘিরেই সব ফোকাস। তো মাশরাফি-সাকিবের সেই বিশ্বকাপ ফোকাসে এই নির্বাচন, ভোটের রাজনীতি কি সমস্যা তৈরি করবে না? দেশের রাজনীতিকে লাভবান করার জন্য তাদের হাতে অবশ্যই অনেক সময় আছে। তবে এখন তাদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার কথা ক্রিকেটের, দেশের ক্রিকেটের। মাশরাফি-সাকিব দুজনেই ভালোই জানেন-উইকেট যতই সহজ হোক, ব্যাটিংয়ে টাইমিং না মিললে ক্যাচ উঠবেই!

ভোটে দাড়ালে সাকিব-মাশরাফির ভোট বাক্সে কিছু ভোট তো বিপক্ষে পড়বেই। ক্রিকেট মাঠের নির্ভেজাল ও একনিষ্ঠ সমর্থন আর রাজনীতির মাঠের হাততালির শব্দে অনেক পার্থক্য।

উদাহরণ চান? ফেসবুকের মন্তব্যে একবার ঘুরে আসুন।

রাজনীতির মাঠে স্বাগত দেশের দুই ক্রিকেট গ্রেটকে!

খেলা এর আরও খবর