কাদের সিদ্দিকীর আপিল স্থগিত

আপিল শুনানিতে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী / ছবি: সুমন শেখ

রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছা্ইয়ে বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির শেষ দিনের শুরুতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের আপিল আবেদন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আপিল শুনানি বোর্ড।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৫৫টি আপিল শুনানি নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ২৩টি আপিল আবেদন বৈধ ও ২৬টি অবৈধ করে আদালত। তিন জন প্রার্থী শুনানির সময় অনুপস্থিত ছিলেন আর তিন জন প্রার্থীর আপিল স্থগিত করেছে কমিশন।

আপিল স্থগিতের পর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি অন্য নির্বাচনের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ ভোট দিতে চায়। জনগণ যাতে ভালোভাবে ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশনকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমার আপিল গ্রহণ হলেও ধন্যবাদ, আমার আপিল যদি না মঞ্জুর হয় এবং নির্বাচন যদি সঠিকভাবে হয়, সেজন্যও ধন্যবাদ।’

এর আগে ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন ঋণ খেলাপী হওয়ার কারণে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। শুনানির শেষ দিন হওয়ায় শনিবারই কাদের সিদ্দিকীসহ সব স্থগিত আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।

শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপ‘র ভাইস-চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

আপিল শুনানির পর তার আবেদন গ্রহণ করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে ইসি। মোরশেদ খানের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ইনি একটি কোম্পানির নমিনেটেড ডাইরেক্টর ছিলেন। সেখানে কিছু বিল বকেয়ার ব্যাপার ছিল। কিন্তু সেটা তার নিজের কোম্পানি না।’

‘এছাড়া মোরশেদ খানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যুদ্ধের সময় পুড়ে গিয়েছিল। যেটার সার্টিফাইড কপি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু বিল খেলাপির কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। পরে কমিশনে আপিল করা হলে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।’

মোরশেদ খান বলেন, ‘আমি জাপানের টোকিও ইউনির্ভাসিটেতে পড়ালেখা করেছি। যুদ্ধের সময় আমার শিক্ষাগত সনদ পুড়ে গিয়েছিল। পরে জাপান থেকে একটা কপি এনে কমিশনকে দেখানো হয়েছে। সঠিক বিচার পেয়েছি, তাই খুশি, আমার আস্থা ফিরেছে। তবে কমিশন ও সরকারের উপর নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত এই অবস্থানে থাকতে পারব কিনা।’

তিনি বলেন, ‘ধরপাকড়াও বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনটা সুন্দর করে হোক সেটা চাই। নির্বাচনের পরিবেশ যেন সুষ্ঠু থাকে এবং সারা পৃথিবীকে যেন বলতে পারি, যুদ্ধ করে শুধু জয় করিনি, একটি দেশকে কিভাবে পরিচালনা করতে হয় সেটাও জানি।’

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down