চট্টগ্রামে ১৬ আসনের ৭টিতে বিএনপি’র নতুন মুখ

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ৭টিতে বিএনপি’র প্রার্থী নতুন মুখ/ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নবীন বিএনপি নেতারা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুনদের কাছে ভাগ্যদেবী দেখা দিয়েছেন প্রসন্নরূপে। তাই হয়ত কপাল খুলতে পারে কয়েকজনের। ভোটের আগের দিনগুলো দলকে গুছিয়ে মাঠে থাকতে পারলে বিএনপির নবীন নেতারা সংসদে নিজের অবস্থান করে নিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসন থেকে ১২ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে সাত জনই নতুন। এ নতুনদের মাঝেও কয়েকটিতে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এর আগে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে  কয়েকটি আসনে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েটরা। ফলে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই, এমন প্রার্থীরাই এবার প্রাধান্য পেয়েছেন বিএনপিতে।

মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি’র নবীনদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে কর্নেল (অব:) মো. আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে জসীম উদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ডা. শাহাদত হোসেন ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এনামুল হক এনাম।

এছাড়া চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম।

এর মধ্যে মোরশেদ খান চার বার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সরওয়ার জামাল নিজাম তিন বার করে ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মনোননয়ন বাতিল হওয়া বিএনপির হেভিওয়েটদের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর নাছির, চট্টগ্রাম-৪ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ গিয়াস কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-৩ এ মোস্তাফা কামাল পাশা।

চট্টগ্রামের অবশিষ্ট পাঁচ আসনের মধ্যে তিনটি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে শরিক দলকে। এগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ও চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগড়া ও সাতকানিয়া আংশিক)। শরিক দলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে আজ শনিবার। বাকি আসনটি নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

আসনটিতে কে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন তা গতকাল ঘোষণা করা হয়নি। এটি হচ্ছে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ)। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মোরশেদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করেছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান মোরশেদ খান। এ আসনে তার বিকল্প হিসেবে তালিকায় ছিলেন নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান।

এদিকে চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীর নামও গতকাল ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে আসনটিতে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশা ও বিএনপি নেতা নুরুল মোস্তফা খোকন। টিএন্ডটি বিল বকেয়া থাকায় মোস্তফা কামাল পাশা’র মনোননয়নপত্র বাতিল করেছিল রিটার্নিং অফিসার। পরে তিনি আপিল করেন। গত বৃহস্পতিবার শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। দলের চূড়ান্ত মনোনয়নেও এগিয়ে আছেন তিনি।

প্রথম বারের মতো মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি নেতা চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে কর্নেল (অব:) মো. আজিম উল্লাহ বাহার বার্তা২৪কে বলেন, ‘সাধারণ ভোটারা চান ভোটের অধিকার ফিরে পেতে। এবার অবশ্যই বিএনপির পক্ষে ভোট দেবে। তাই আমি শতভাগ আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম, তাই বিএনপি’র হাইকমান্ড মূল্যায়ন করেছে আমাকে।’

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down