নবাবগঞ্জে অধিকাংশ সোলারের বাতি জ্বলছে না

নষ্ট হয়ে পড়েছে নবাবগঞ্জের রাস্তাঘাটের অধিকাংশ সৌরবাতি / ছবি: বার্তা২৪.কম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত অধিকাংশ সৌর বিদ্যুৎ চালিত (সোলার) বাতি জ্বলছে না। দিনের আলো ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার দূর করতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সোলার বাতিগুলো স্থাপন করা হয়।

কিন্তু প্রকল্প শুরুর কিছু দিন যেতে না যেতেই রাস্তাগুলো অন্ধকারে ডুবছে। কিছু সোলারে সামান্য আলো জ্বললেও কোনোটি আবার একেবারে বন্ধ হয়ে আছে। ফলে বাতির অভাবে সন্ধ্যার পর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কে ভয়াবহ অন্ধকার নেমে আসে।

স্থানীয়রা বার্তা২৪কে জানান, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক আলোকিত করার জন্য ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ অধিদফতর থেকে কাবিটা, টিআর প্রকল্পের অর্থায়নে এসব সৌরবাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বাতির চুক্তির মেয়াদ ধরা হয়েছিল তিন বছর। ইডকল নামের একটি প্রতিষ্ঠান নবাবগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সৌরবাতি স্থাপন করে।

বাতি না জ্বলার বিষয়টি জানানোর পর পিআইও অফিস থেকে ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নষ্ট বাতি ও ব্যাটারি  বদলে দেবে সে রকম কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। ঠিকাদারেরও কোনো হদিস নেই।

টিকরপুর এলাকার অধিবাসী কৃষক নেতা আসলাম খাঁন বার্তা২৪কে বলেন, ‘প্রতি বছর সোলার বাতির জন্য অধিকসংখ্যক চাদিহা তৈরি করে নতুন টেন্ডার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়। সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থে কেনা সৌরবাতি প্রকল্প অর্থের অপচয়।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাতি স্থাপন করার জন্য টিআর প্রকল্পের ৩৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা, কাবিখা সাধারণ প্রকল্পের আওতায় ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু অর্থ ছাড় না হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পায়নি। যে প্রতিষ্ঠান কাজ করবে, তাও ঠিক করেনি মন্ত্রণালয়।

টিআর প্রকল্পের ৪০টি ও সাধারণখাতে ৩১টি সোলার বাতি স্থাপন করা হবে। প্রতিটি স্টিক বাতি ৫৬ হাজার ৯৫৫ টাকা দরে ক্রয় করার কথা কাগজে কলমে উল্লেখ আছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, সোলার প্যানেলের কারিগরি কিছু ত্রুটির অভিযোগ এসেছে। ইতোমধ্যে সেগুলো শনাক্ত করে ঠিকাদারকে মেরামত করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকারী নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইকরামুল ইসলামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে রোববার তাকে তার কর্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, তোফাজ্জল হোসেন বার্তা২৪কে বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান কাজ করবে, তারা ওয়ার্ক অর্ডার না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারেনি।’

জাতীয় এর আরও খবর

//election count down