খালেদার আপিল ইসিতে খারিজ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া / ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাঁচ সদসদ্যবিশিষ্ট কমিশনে ৪-১ ভোটে খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর হয়। 

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে একটায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আপিলের শুনানি শুরু হয়। ৩১০ নম্বর আপিল থেকে শুনানি শুরু হয়। খালেদার আপিলের শুনানি এই তালিকায় ৩৮৬ নম্বরে ফেনী-১, ৪৪১ নম্বরে বগুড়া-৬ ও ৪৭৯ নম্বরে বগুড়া-৭ আসনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও পরে একসাথে তিনটি আপিলের শুনানি হয়।

আপিল শুনানিতে কমিশনার মাহবুব তালুকদার খালেদার আপিল মঞ্জুর করলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী না মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত বুধবার (৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে খালেদার পক্ষে আপিল করেন তার আইজীবীরা। ফেনী-১ আসনে কায়সার কামাল, বগুড়া- ৬ আসনে নওশাদ জমির ও বগুড়া ৭ আসনে মাসুদ আহমেদ তালুকদার এসব আবেদন জমা দেন।

গত ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে দুই বছরের বেশি দণ্ড থাকায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান ফেনী-১ আসনে এবং বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার বিষয়টিকে মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিএনপির ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদারও এ আসনে ধানের শীষে ভোট করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে গেছে। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কমিশনে আপিল করলেও তা বাতিল হয়ে যায়।

ফেনী-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাসদের শিরীন আখতার এবারও ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদার মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলেও ফখরুলের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, এ আসনে জমা পড়া ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে তিনটি বাতিল হয়ে গেছে। ফলে বৈধ প্রার্থী থাকছেন আটজন।

অন্যদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ জানান, মিল্টন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে মিল্টন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

খালেদা ও মিল্টনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষে প্রার্থীশূন্যতা দেখা দেয়। পরে কমিশনে আপিল করলে প্রার্থিতা ফিরে পান মোরশেদ মিল্টন।

বগুড়া জেলা বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল দলীয় মনোনয়ন না পেলেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করে দেন।

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down