দীর্ঘদিন পর খোশগল্পে হুদা-আব্বাস

গল্প করছেন মির্জা আব্বাস ও নাজমুল হুদা, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪.কম

দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতির মাঠের সহযোদ্ধা মির্জা আব্বাস ও নাজমুল হুদা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা দুই নেতা এখন দুই মেরুতে রাজনীতি করছেন। মির্জা আব্বাস দলের স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে এখন ভিন্ন ধারার রাজনীতি করছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এতো রাজনৈতিক বৈরিতার মাঝেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে ফাটল ধরেনি। তাইতো দীর্ঘদিন পর আজ নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাতে খোশগল্পে মেতে ওঠেন এই দুই রাজনীতিবিদ।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদনে শুনানিতে আসেন তারা। প্রথমে নজমুল হুদা কমিশনে প্রবেশ করেন। পরে কমিশনে আসেন মির্জা আব্বাস দম্পতি। ১১ তলায় আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমান নাজমুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত হয় মির্জা আব্বাসের। এ সময় তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

পরে তারা পাশাপাশি বসে নানা আলাপচারিতায় মেতে উঠেন। চলমান রাজনীতি, নির্বাচন এসব বিষয়ের পাশপাশি তারা খোশগল্পও করেন।

২০১০ সালের ২১ নভেম্বর নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে দলের সকল স্তর থেকে বহিস্কার করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। সেই বৈঠকে বিদেশে থাকায় সেদিন উপস্থিত ছিলেন না মির্জা আব্বাস। সে সময় নাজমুল হুদা ছিলেন বিএনপির ১ নম্বর ভাইস চেয়ারম্যান। তাকে বহিষ্কার করার কয়েক মাস পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার প্রতি দু:খ প্রকাশ করে আবার দলে ফেরানো হয় তাকে। এরপর ২০১২ সালের ৬ জুন তিনি নিজেই দল থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছর ২৩ মে বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানালে সে অনুরোধ না রাখায় নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন নাজমুল হুদা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544272133412.jpg

পরবর্তীতে ২০১২ তিনি ১০ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে একটি দল গঠন করেন। তবে কিছুদিনের মাথায় তাকে এ দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। ২০১৫ সালে তিনি গঠন করেন তৃণমূল বিএনপি নামের আরেকটি দল গঠন করেন সাবেক এই যোগাযোগ মন্ত্রী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যে মনোনয়নপত্র তিনি দাখিল করেন, তাতে কোনো দলের নাম কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী- কোনোটাই উল্লেখ করেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তা এ জন্য তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে নির্বাচন কমিশন তাকে শুনানির জন্য সময় দেয় ৮ ডিসেম্বর। পরে শনিবার ইসি তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।

এ দিকে মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধতা পেয়েছেন। কিন্তু সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন। আর এ আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে আব্বাসও ইসিতে আসেন। তার বিরুদ্ধে করা এই আপিলও বাতিল হয়ে যায়।

নির্বাচন ভবনের ১১তলায় আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত স্থানের বাইরে তারা দু’জন পাশপাশি প্লাস্টিকের দু’টো চেয়ারে বসেন। এ সময় আফরোজা আব্বাসকে মুগ্ধ শ্রোতা হিসেবে দেখা যায়। তাদের নিবিড় আলাপচারিতায় শুনানিতে আসা অন্যরাও উৎসাহবোধ করেন। অনেককেই বলতে শোনা যায়- এমন চিত্র দেখা যায়নি দীর্ঘদিন।

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down