ভর্তিচ্ছুকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি রাবি ছাত্রলীগের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ভর্তিচ্ছুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার একাডেমিক সনদপত্র জোরপূর্বক জিম্মি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে উদ্ধার করে।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর নাম আল আরমান হৃদয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ ইউনিট’-এর অধীনে নাট্যকলা বিভাগে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষায় তার রোল নম্বর এ১৩৬৭৯।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান রাথিক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জসীমউদ্দীন রাহুল।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ ইউনিটের’ অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় নাট্যকলা বিভাগে হৃদয় অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন। অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির অনিশ্চয়তা থাকায় তিনি অভিযুক্ত রাথিক ও রাহুলের সাথে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতের বিষয়ে চুক্তি করেন।

চুক্তি অনুযায়ী হৃদয় ৫ হাজার টাকা তাদের অগ্রিম প্রদান করেন। পরে গত ৫ ডিসেম্বর নাট্যকলা বিভাগে হৃদয়কে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে তাকে ভর্তির জন্য ডাকা হয়। হৃদয় ভর্তির জন্য শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জিয়াউর রহমান হলে অবস্থান করছিলেন।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাথিক ও রাহুল এসে তার কাছে বাকি ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ভর্তির সুযোগ পেয়ে হৃদয় চুক্তি অনুযায়ী বাকি ১৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর রাহুল ও রাথিক জোরপূর্বক তার একাডেমিক সনদপত্র নিয়ে চলে যান এবং বাকি টাকা না দিলে সনদপত্র ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।

পরে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু বিষয়টি মীমাংসা করতে হলে আসেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে বৃত্ত ও মিশু হৃদয়কে সনদপত্র ফেরত দিতে ডেকে নেন। এ সময় মতিহার থানা পুলিশ এসে ওই কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করেন।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা হৃদয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে জোরপূর্বক ওই কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এসময় হৃদয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাইলেও পরে ভয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযুক্ত শফিউর রহমান রাথিক চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কারো কাছে চাঁদা দাবি করিনি। এ ধরণের কোন ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।'

আরেক অভিযুক্ত জসীমউদ্দীন রাহুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘কোন ভর্তিচ্ছুর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।'

মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বঙ্গবন্ধু হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে যাই। জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় এলাকার পরিচিত বড় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসেছে বলে জানায়। পরে আমরা সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করি।' 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী হৃদয় এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছুক নয়। ভুক্তভোগী না চাইলে আমার কিছু করার নেই।'

 

ক্যাম্পাস এর আরও খবর

//election count down