Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অবাধে উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ

অবাধে উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ
উজার হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ, ছবি: বার্তা২৪
ইমরান হোসেন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সমুদ্র উপকূলের বনগুলোতে বনদস্যুদের একমাত্র লক্ষ্য সুন্দরী গাছ সংগ্রহ করা। বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন থেকেও তাই তারা অবাধে সুন্দরী গাছ কাটছেন। কেউই বাঁধা দিচ্ছেন না।

জানা গেছে, মূল্য বেশি ও চাহিদা থাকায় বনদস্যুরা শুধু সুন্দরী গাছই কাটছে। এক্ষেত্রে বড় বা ছোট গাছ বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে বনদস্যুরা বলছে, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তারা গাছ কাটছেন। আর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিগগিরই বন উজাড় বন্ধ না হলে সবাইকে চরম মূল্য দিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547445953825.jpg

বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনের গভীরে সুন্দরী গাছ কাটা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বনের প্রবেশ পথে তাদের বাঁধা দেন একজন বনরক্ষী। কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিক কৌশলে বনের ভেতর প্রবেশ করতে পারেন। বনের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়- প্রক্যাশ্যেই সুন্দরী গাছ কেটে ট্রলার বোঝাই করেছেন ৬ জন। তবে বনের যত গভীরে যাওয়া যায় গাছ কাটার নির্মমতাও তত বোঝা সম্ভব হবে। বনের ভেতর গেওয়া, পশুর, কেওড়াসহ বিভিন্ন গাছ অক্ষত অবস্থায় থাকলেও নেই সুন্দরি গাছ। আছে শুধু সদ্য কাটা গাছের গুড়ি।

কথা বলতে চাইলে বনদস্যু মো. কিবরিয়া (৪০), মো. সগির (৪৪), নাযির সোহেল (২৮), হালিম দফাদার (৫৬) জানান, তারা বন বিভাগকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই গাছ কাটছেন।

তবে বন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বনরক্ষীরা জানান, তারা শুধু পাহারার দায়িত্বে। সুতরাং কে বা কারা বনের ভেতর গাছ কাটছে এটা তাদের জানা নেই। তারা শুধু কুয়াকাটা থেকে আসা পর্যটকদের টিকিট কাটার দায়িত্ব পালন করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547446078337.jpg

এসময় তাদের নাম জানতে চাইলে তারা নাম বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে তালতলী বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

এদিকে, বন বিভাগের এমন কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেছেন বরগুনার সচেতন মহল। তাদের দাবি, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই বন বিলীন হয়ে যাবে।

বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব ফকির বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সুন্দরী গাছ বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত। আর তাদের সহযোগিতা করছে বনরক্ষীরা। তারা যুগের পর যুগ এমনটা করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547446109391.jpg

এ বিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাফিজ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘অল্প টাকার বিনিমেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরিবেশ ও দেশের বড় ক্ষতি করছে। অন্যান্য গাছের তুলনায় সুন্দরি গাছের দাম বেশি হওয়ায় দস্যুরা শুধু সুন্দরি গাছ কাটছে। অচিরেই কাটা বন্ধ না হলে হুমকির মুখে পড়বে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো কাজে যোগ দিয়েছি। তবে বিষয়টি জেনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী
সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী জামানত হারাচ্ছেন বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপসহ পাঁচজন প্রার্থী। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

এরা হলেন- বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ এবং সৈয়দ কবির আহম্মেদ।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সোমবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০। সে অনুযায়ী জামানত ফেরত পেতে প্রার্থীকে ১৬ হাজার ৭৩৩ ভোট পেতে হবে। পাঁচ জন প্রার্থীর কেউ সেই পরিমাণ ভোট পাননি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙল) নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ভোট। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্বাচন করে তিনি ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে জামানত ফেরত পেয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় শূন্য ঘোষিত আসনে উপ-নির্বাচনে তিনি আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন।

জামানত হারানো অপর চার প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম (হারিকেন) পেয়েছেন ৫৫৪ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান (ডাব) পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে তিনি (ট্রাক) পেয়েছেন ৬৩০ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২০ ভোট।

সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য প্রার্থীরা সব কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করায় স্মরণকালের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। এ কারণে কোনো প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল
বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলটি নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি, ছবি: বার্তা২৪

নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল। শহরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে তিন একর জমির ওপর সমাজসেবা অধিদফতরের মুক-বধির আবাসিক স্কুল স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের মধ্যে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে। ব্যয় হয় চার কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, দুটি আবাসিক হলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

স্কুলটিতে প্রতিবছর যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৫০ জন ছেলে ও ৫০ জন মেয়ে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।

আরও জানা গেছে, স্কুলের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই আসবাপত্র ও শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু স্কুল চালু না হওয়ায় সেগুলো সমাজসেবা অধিদফতরের মধুপুর শিশু পরিবারে রাখা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় যার অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। যার মধ্যে দুটি ল্যাপটপও রয়েছে।

স্কুলের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক, একজন হাউস প্যারেন্ট, দুই জন শিক্ষক, দুই জন কারিগরি শিক্ষক, একজন হিয়ারিং এইড টেকনিশিয়ান, একজন মেট্রন কাম নার্সসহ ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আজও কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্কুলটি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের হলেও এখানে দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এক দিনও ক্লাস হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খোরাকি বাবদ চলতি অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলেও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অফিসের একজন সহকারী পরিচালক স্কুলটি দেখভাল করছেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পড়ে আছে। চালু হলে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হতো।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলটি চালু করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র