Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা
মাছের মেলায় মাছের সমাহার, ছবি: বার্তা২৪
তোফায়েল আহমেদ পাপ্পু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মৌলভীবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যের ধারায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলছে মাছের মেলা।

এর আগে শনিবার (১২ জানুয়ারি) বড়লেখা উপজেলার কানুনগো বাজারে হাকালুকি মৎস্য পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলার শেরপুর বাজারে শুরু হয় এ মাছের মেলা।

ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শেরপুর-মৌলভীবাজার সড়কের পাশে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছের মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, বাউশ, কালি বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি মাছ স্থান পেয়েছে। এ বছর প্রায় ৫০ জন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন।

সরেজমিনে জেলার শেরপুরে মাছের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মাছের মেলা বেশ জমে উঠেছে। প্রায় ২০০ বছর আগে জেলার মনুমুখে শুরু হয় এই মেলা। তবে গত ৮০ বছর ধরে এটি শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীর জুড়ে বসছে। মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

মূল মেলার আগে ও পরে সময় বাড়িয়ে এটিকে তিন দিনের আয়োজনে রূপ দেয়া হয়েছে। দুদিনব্যাপী দেশি মাছের মেলায় নানা জাতের বড় বড় মাছের দুশতাধিক দোকান নিয়ে বসেছেন স্থানীয় এবং দূর দূরান্ত থেকে আগত বিক্রেতারা। শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে সেখানে। মাছের মেলা বলেই মাছের দিকে জনতার স্রোত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547457590201.gif

বিভিন্ন দোকানে নানা আকারের বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, বাঘাইড় (বাঘ মাছ) নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এখন এলাকার অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি অলিউর রহমান বার্তা২৪-কে বলেন, ‘মাছ, আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার-দাবারের আয়োজন মিলে তিনদিনের এই মেলায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার বেচাকেনা হবে।’

মাছের মেলায় আসা ক্রেতা এম.এ মতিন বলেন, ‘মেলায় বড় বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠেছে। মাছের দাম এ বছর কিছুটা কম থাকায় আমি ৪০ হাজার টাকায় দুটি বোয়াল মাছ কিনেছি।’

মাছ ক্রেতা সাইফুর রহমান ও জাহিদ হাসান জানান, হাওর ও নদী থেকে আসা তরতাজা মাছ কিনতে প্রতি বছর মাছের মেলায় আসেন তারা।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মাছ বিক্রেতা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদী থেকে ধরা বাঘাইড়, বোয়াল মাছ ও আইড় মাছ মিলে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ মেলায় নিয়ে এসেছি। মেলার প্রথম দিন রাতে ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি।’

মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এই মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো সদর উপজেলার মনু নদীর মনুমুখ এলাকায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এখন হয় শেরপুরে। মেলাস্থল শেরপুর হলো মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে। পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা, উত্তরে কুশিয়ারা নদী।

নদী পার হলেই সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা শুরু। হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার এই তিনটি জেলার মাঝখানে শেরপুর। মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা এটি। এটি যদিও মাছের মেলা নামে পরিচিত। তবে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন পসরার কয়েক হাজার দোকান বসে।

মেলায় এখন মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, নানা জাতের দেশীয় খাবারের দোকানসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দোকান স্থান পায়। এছাড়া শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষকে মাতিয়ে তোলার জন্য রয়েছে বায়োস্কোপ ও চরকি খেলা।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. মোতালিব মিয়াসহ অনেকেই মেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে এই মাছের মেলা দেখে আসছি। তবে কীভাবে মেলা শুরু হয়েছিল কেউই তার সঠিক ইতিহাস জানে না।’

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খান বলেন, 'শেরপুরের মেলায় এবার জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য চলবে না। গতবছরও জুয়া ও যাত্রার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মেলায় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

নোয়াখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নোয়াখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াাখালীর সেনবাগে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়ার পশ্চিমপাড়ার ও দিঘিরপাড়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ফয়েজ, মামুন, ফিরোজসহ পাঁচজনকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির জের ধরে ছাতারপাইয়া পশ্চিমপাড়ার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দিঘিরপাড়ার ফয়েজ নামে এক ছেলেকে মারধর করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন
ছবি: সংগৃহীত

রান্না বান্না প্রায় শেষ। বরসহ কয়েকজন বরযাত্রী উপস্থিত হয়েছেন। অতি গোপনে হলেও বিয়ে বাড়ি বলে কথা। তাই লোকজনের আনাগোনা। এর মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু। টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলেন বর।

ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী খাসমহল গ্রামের। রোববার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ফেলে পালিয়ে যায় বরপক্ষ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার বলেন, খাসমহল গ্রামের কালু মণ্ডলের মেয়ে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বিয়ে ঠিক হয় বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। রাতে কালু মণ্ডলের বাড়িতে গোপনে বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে আমরা অভিযানে গেলে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে মেয়ের বাবা-মা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। এরপরও যদি তারা বিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র