Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা
মাছের মেলায় মাছের সমাহার, ছবি: বার্তা২৪
তোফায়েল আহমেদ পাপ্পু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মৌলভীবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যের ধারায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার কমলগঞ্জ, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলছে মাছের মেলা।

এর আগে শনিবার (১২ জানুয়ারি) বড়লেখা উপজেলার কানুনগো বাজারে হাকালুকি মৎস্য পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলার শেরপুর বাজারে শুরু হয় এ মাছের মেলা।

ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শেরপুর-মৌলভীবাজার সড়কের পাশে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছের মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, বাউশ, কালি বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি মাছ স্থান পেয়েছে। এ বছর প্রায় ৫০ জন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন।

সরেজমিনে জেলার শেরপুরে মাছের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মাছের মেলা বেশ জমে উঠেছে। প্রায় ২০০ বছর আগে জেলার মনুমুখে শুরু হয় এই মেলা। তবে গত ৮০ বছর ধরে এটি শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীর জুড়ে বসছে। মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

মূল মেলার আগে ও পরে সময় বাড়িয়ে এটিকে তিন দিনের আয়োজনে রূপ দেয়া হয়েছে। দুদিনব্যাপী দেশি মাছের মেলায় নানা জাতের বড় বড় মাছের দুশতাধিক দোকান নিয়ে বসেছেন স্থানীয় এবং দূর দূরান্ত থেকে আগত বিক্রেতারা। শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে সেখানে। মাছের মেলা বলেই মাছের দিকে জনতার স্রোত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547457590201.gif

বিভিন্ন দোকানে নানা আকারের বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, বাঘাইড় (বাঘ মাছ) নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এখন এলাকার অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি অলিউর রহমান বার্তা২৪-কে বলেন, ‘মাছ, আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার-দাবারের আয়োজন মিলে তিনদিনের এই মেলায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার বেচাকেনা হবে।’

মাছের মেলায় আসা ক্রেতা এম.এ মতিন বলেন, ‘মেলায় বড় বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠেছে। মাছের দাম এ বছর কিছুটা কম থাকায় আমি ৪০ হাজার টাকায় দুটি বোয়াল মাছ কিনেছি।’

মাছ ক্রেতা সাইফুর রহমান ও জাহিদ হাসান জানান, হাওর ও নদী থেকে আসা তরতাজা মাছ কিনতে প্রতি বছর মাছের মেলায় আসেন তারা।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মাছ বিক্রেতা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদী থেকে ধরা বাঘাইড়, বোয়াল মাছ ও আইড় মাছ মিলে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ মেলায় নিয়ে এসেছি। মেলার প্রথম দিন রাতে ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি।’

মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, এই মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো সদর উপজেলার মনু নদীর মনুমুখ এলাকায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এখন হয় শেরপুরে। মেলাস্থল শেরপুর হলো মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে। পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা, উত্তরে কুশিয়ারা নদী।

নদী পার হলেই সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা শুরু। হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার এই তিনটি জেলার মাঝখানে শেরপুর। মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা এটি। এটি যদিও মাছের মেলা নামে পরিচিত। তবে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন পসরার কয়েক হাজার দোকান বসে।

মেলায় এখন মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, নানা জাতের দেশীয় খাবারের দোকানসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দোকান স্থান পায়। এছাড়া শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষকে মাতিয়ে তোলার জন্য রয়েছে বায়োস্কোপ ও চরকি খেলা।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. মোতালিব মিয়াসহ অনেকেই মেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে এই মাছের মেলা দেখে আসছি। তবে কীভাবে মেলা শুরু হয়েছিল কেউই তার সঠিক ইতিহাস জানে না।’

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খান বলেন, 'শেরপুরের মেলায় এবার জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য চলবে না। গতবছরও জুয়া ও যাত্রার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মেলায় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী
সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী জামানত হারাচ্ছেন বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপসহ পাঁচজন প্রার্থী। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

এরা হলেন- বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ এবং সৈয়দ কবির আহম্মেদ।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সোমবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০। সে অনুযায়ী জামানত ফেরত পেতে প্রার্থীকে ১৬ হাজার ৭৩৩ ভোট পেতে হবে। পাঁচ জন প্রার্থীর কেউ সেই পরিমাণ ভোট পাননি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙল) নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ভোট। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্বাচন করে তিনি ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে জামানত ফেরত পেয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় শূন্য ঘোষিত আসনে উপ-নির্বাচনে তিনি আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন।

জামানত হারানো অপর চার প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম (হারিকেন) পেয়েছেন ৫৫৪ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান (ডাব) পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে তিনি (ট্রাক) পেয়েছেন ৬৩০ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২০ ভোট।

সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য প্রার্থীরা সব কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করায় স্মরণকালের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। এ কারণে কোনো প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল
বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলটি নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি, ছবি: বার্তা২৪

নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল। শহরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে তিন একর জমির ওপর সমাজসেবা অধিদফতরের মুক-বধির আবাসিক স্কুল স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের মধ্যে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে। ব্যয় হয় চার কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, দুটি আবাসিক হলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

স্কুলটিতে প্রতিবছর যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৫০ জন ছেলে ও ৫০ জন মেয়ে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।

আরও জানা গেছে, স্কুলের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই আসবাপত্র ও শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু স্কুল চালু না হওয়ায় সেগুলো সমাজসেবা অধিদফতরের মধুপুর শিশু পরিবারে রাখা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় যার অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। যার মধ্যে দুটি ল্যাপটপও রয়েছে।

স্কুলের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক, একজন হাউস প্যারেন্ট, দুই জন শিক্ষক, দুই জন কারিগরি শিক্ষক, একজন হিয়ারিং এইড টেকনিশিয়ান, একজন মেট্রন কাম নার্সসহ ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আজও কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্কুলটি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের হলেও এখানে দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এক দিনও ক্লাস হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খোরাকি বাবদ চলতি অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলেও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অফিসের একজন সহকারী পরিচালক স্কুলটি দেখভাল করছেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পড়ে আছে। চালু হলে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হতো।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলটি চালু করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র