Alexa

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর। ছবি: বার্তা২৪.কম

পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনে তাক লাগিয়েছেন আবিতন বেগম। এক সময়ের অভাবের কষাঘাতে পৃষ্ট আবিতন এখন সব সময়ই থাকেন হাসি খুশিতে। তার হাসিতে হাসছে সবজি ক্ষেত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহারে এবার আবিতনের ক্ষেত জুড়ে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে।

কম খরচে বেশি ফলন হওয়াতে এখন গ্রামের অন্য চাষিদের নজর পড়েছে আবিতনের দিকে। কেউ কেউ তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন জৈব সার ব্যবহার পদ্ধতি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের তিস্তা নদী অববাহিকায় প্রাণনাথ চর। এই গ্রামেই আবিতন বেগমের বসবাস। যাকে এখন গ্রামের লোকজনরা সফল সবজি চাষি হিসেবে চেনেন।

কৃষি কাজের ওপর নির্ভর প্রাণনাথ চরের অধিকাংশ মানুষ। এই গ্রামে কৃষি শ্রম ব্যতীত বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় বেশির ভাগ পরিবারে চাষাবাদেই ঘুরপাক খাচ্ছে ভাগ্য। অভাব অনটনের এ গ্রামে নিজেকে স্বাবলম্বী নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে লড়াই করে যাচ্ছেন আবিতন বেগম। এ কারণে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও ঝুঁকেছেন কৃষি কাজে। গড়ে তুলেছেন সবজি ক্ষেত। সামান্য প্রচেষ্টা থেকেই আবিতন যেমন নিজেকে বদলে নিয়েছেন। তেমনি তার হাসিতে বদলে যাচ্ছে প্রাণনাথ চর।

অথচ একটা সময় আবিতনের সংসারে অভাব লেগে থাকত। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর সামান্য আয়ে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলেন তিনি। সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে আবিতন ছুটে যান আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়িত রি-কল ২০২১ প্রকল্প আয়োজিত সিবিও মিটিংয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547458613686.jpg

সেখান থেকে আবিতনের আগ্রহ বাড়ে কৃষি কাজের প্রতি। সংসারের অশান্তি ঘোচাতে সিদ্ধান্ত নেন চাষাবাদে নিজেকে মেলে ধরার। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আরডিআরএস আয়োজিত পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু হয় তার বদলে যাবার গল্প।

প্রথমে বাড়ির কাছে মাত্র ৮ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন আবিতন। তাতে বেশ লাভবান হন তিনি। পরবর্তীতে আরডিআরএস রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে বাঁধাকপি, ফুলকপির বীজ প্রদান করা হয়। এরপর চাষ বাড়িয়ে ২০ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে জৈব সার হিসেবে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহার করেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। পাশাপাশি এবার ফলনও ভালো হয়েছে।

আবিতন বেগম জানান, বিশ শতক জমিতে সেচ ও সারসহ প্রায় সাত হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার কপি বিক্রয় করেছেন। এই বাড়তি আয় দিয়ে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাচ্ছেন। এখন সংসারে অশান্তি নেই। বেশ সুখেই আছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, এ বছর কাউনিয়া উপজেলাতে বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ নারীদের সবজি চাষ সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে সবজির উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগ আবিতনের মতো চাষিদের সঙ্গে সব সময় ছিল এবং থাকবে বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :