Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বেড়েই চলেছে তামাক চাষ

বেড়েই চলেছে তামাক চাষ
বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে তামাক চাষ, ছবি: বার্তা২৪
এস এম জামাল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেটন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে তামাকের চাষ। মাটির উর্বর শক্তি হ্রাস, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়লেও কুষ্টিয়ায় তামাক চাষ অব্যাহত রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করায় গত বছর আবাদ কিছুটা কমলেও চলতি বছর আবার বেড়েছে তামাকের চাষ।

তারপরও এ ধারা অব্যাহত থাকলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাষিরা জানান, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া প্রণোদনার কারণে তারা তামাক চাষে ঝুঁকছেন।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় তামাক উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে দৌলতপুর, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলায় উর্বর জমিতেই বেশি আবাদ হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, এ তিন উপজেলায় ধান, গম, আখ, পাট, তিল, ডাল, তেলসহ নানা জাতের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও উৎপাদিত ফসলের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্যশস্য উৎপাদনের জমির পরিমাণ হ্রাস পেয়ে বেড়েছে তামাক চাষ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে জেলায় প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547461177865.gif

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবি), ঢাকা টোব্যাকো, আবুল খায়ের, জামিল গ্রুপ, নাসির গ্রুপসহ আরও বিভিন্ন কোম্পানি তামাক শিল্প গড়ে তুলেছে। এসব শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে চাষিদের মধ্যে সার, বীজ, কীটনাশকসহ নানা উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হচ্ছে। ফলে কৃষি বিভাগ গম, মসুর, ছোলা, মটর, ভুট্টা, সরিষাসহ বিকল্প ফসল উৎপাদনে চাষিদের পরামর্শ দিলেও ফল তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। চাষিরা ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবং অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষ অব্যাহত রেখেছেন।

মিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে চলতি বছর তামাক চাষ হয়েছে সাত হাজার হেক্টরে। আগে এসব জমিতে গম, মসুর, ছোলা, মটর, ভুট্টা, সরিষার আবাদ হত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও আড়াই হাজার টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত থাকত। কিন্তু তামাক চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

এ কারণে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত ও বিকল্প লাভজনক ফসল আবাদে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তার পরও কোম্পানিগুলোর নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা দেয়ায় তার আবাদ আশানুরূপভাবে কমেনি। তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনা করে বিকল্প ফসল উৎপাদনে সরকারিভাবে সার-বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দিলে সাড়া পাওয়া যাবে। না হলে তামাক চাষ অব্যাহত থাকলে জেলায় প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মিরপুরের বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের তামাক চাষি সাহাবুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘তামাক চাষের জন্য কোম্পানিগুলো অগ্রিম ঋণে সার ও নগদ অর্থ দিয়ে থাকে এবং ক্রয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়। তাই আমরা তামাক চাষ করি।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547461209107.gif

জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সদস্য মীর আব্দুর রাজ্জাক বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'অনেক সময় নারীদের দিয়ে তামাকের কাজ করানো হয়। ফলে তাদের সন্তান ধারণ করতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় এ কাজে সম্পৃক্ত থাকলে শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে।'

ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের মজিবর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, ধান, পাট, আখসহ, নানা জাতের সবজি চাষ করেও তার ন্যায্যমূল্য আমরা পাই না। অনেক সময় ধান উৎপাদনে ব্যয়ই আমরা তুলতে পারি না। ফলে নগদ অর্থ ও পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে তামাক উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছি।

দৌলতপুর উপজেলার আমির হোসেন মালিথা বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনি চলতি বছর ১৫ বিঘায় তামাক চাষ করেছেন। ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ১৫ বিঘায় চার টন তামাক পাওয়া যাবে। প্রতি টনের গড় মূল্য ৮০ হাজার টাকা হিসেবে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর উপজেলায় তামাক আবাদ বেড়েছে। চলতি বছর আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর। গত বছর হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর। এবং তার আগের বছর তামাকের চাষ হয়েছিল ১৬ হাজার ৭৭৫ হেক্টর।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভুতিভুষন সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'তামাক উৎপাদনে সময় লাগে ছয় মাস। অথচ একই মৌসুমে সমপরিমাণ জমিতে তিন মাসের ফসল হিসেবে গম, মসুর, ছোলা, মটর, ভুট্টা, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব। তামাক চাষ বন্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আমাদের নেই। চাষিদের নিরুৎসাহিত করতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সচেতন হলে অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।'

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশনারা বেগম বার্তা২৪.কমকে জানান, তামাকের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তামাক চাষ ও সেবন কিডনি, হার্ট, ফুসফুসসহ মানবদেহের স্পর্শকাতর অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করে। জেলায় এবারও বিপদজনক মাত্রায় তামাক আবাদ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে নৌকায় সংসার পেতেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চরের মরিয়ম বেগম (৪০)। ১২ দিন আগে বন্যার পানি বিছানা পর্যন্ত ওঠায় পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেদের মাছ ধরার ছোট ডিঙ্গি নৌকায় উঠেছেন। সেই থেকে নৌকাতেই কাটছে দিন-রাত। রান্না, খাওয়া এমনকি টয়লেটের কাজও সারতে হচ্ছে নৌকাতেই।

শুধু মরিয়মের পরিবারই নয়, তার মতো প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ১২ দিন ধরে নৌকায় বাস করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিকটবর্তী সব উঁচু বাঁধ ও উঁচু জায়গা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়ির পাশেই নৌকাতে বসবাস করছে এসব পরিবার। আর বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ঘরে সঞ্চিত শুকনা খড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও হচ্ছে না ঠিক মতো। ফলে কোনও রকম একবার রান্না করে দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে।

জমিয়ে রাখা শুকনা খাবারও শেষ হয়ে গেছে। তবে কিছু পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণের আট-১০ কেজি চাল পেয়েছেন, যা অনেক পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। অন্যদিকে নৌকায় বসবাস করায় বন্ধ রয়েছে মাছ ধরা। ফলে বন্ধ আছে আয় রোজগারও। আর বিকল্প নৌকা না থাকায় বাজার থেকে শুকনো খড়ি বা শুকনা খাবার কিনতে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় বসবাস করতে হওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বরসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি নেমে না গেলে খাওয়ার সমস্যাসহ রোগব্যাধিতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

https
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মশালের চরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিকটবর্তী কোনও শুকনা জায়গা না থাকায় এই চরের লোকজন নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন। ডিঙ্গি নৌকায় সব সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যারা পাননি তারা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা এলে পাবেন।’

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ছয়শ’ পরিবার ছোট নৌকায় উঠেছে। এর মধ্যে মশালের চরেরই রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবার তাদের মাছ ধরার নৌকায় সংসার পেতেছেন। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব নৌকাতেই। আর যাদের নৌকা নেই, তারা দূরবর্তী উঁচু জায়গা বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না আসায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

টেকনাফে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নারী আটক

টেকনাফে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নারী আটক
আটক জোহরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কক্সবাজারের টেকনাফে দুই হাজার ৯৬০ পিস ইয়াবাসহ জোহরা বেগম (৩২) নামে রোহিঙ্গা এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাব। তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত পুরনো রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।

শনিবার (২০ জুলাই) রাতে টেকনাফ উপজেলার লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের বি ব্লক থেকে তাকে এ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।


আটক জোহরা লেদা ২৪ নং রোহিঙ্গা শিবিরের বি ব্লকের ১১৫ নম্বর রুমের সৈয়দ আলমের স্ত্রী।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ টেকনাফ ক্যাম্প ইনর্চাজ লেফটেন্যান্ট মো. মির্জা শাহেদ মাহতাব (এক্স) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল জোহরাদের ঘরে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের ঘরে দুই হাজার ৯৬০ পিস ইয়াবা পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

জব্দ করা ইয়াবাসহ আটক নারীকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র