Alexa

নাব্যতা সংকটে মংলায় ভিড়তে পারছে না বিদেশি বড় জাহাজ

নাব্যতা সংকটে মংলায় ভিড়তে পারছে না বিদেশি বড় জাহাজ

ছবি: বার্তা২৪

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বাগেরহাট, বার্তা২৪

মংলা বন্দরের আউটারবার এলাকায় নাব্যতা সংকটের কারণে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি তেলবাহী একটি বিদেশি জাহাজ। ফলে ওই জাহাজটি ফেয়ারওয়েতে রেখে পণ্য খালাস করায় স্বাভাবিকের তুলনায় তিনগুণ বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের।

বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবী, বন্দর চ্যানেলের প্রবেশ মুখ ও আউটারবার এলাকায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি করার। তাহলেই অধিক ড্রাফটের বড় বড় জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে বন্দর সংশ্লিষ্টরা লাভবানের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজের আগমনও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও ষ্টারপাত সি ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রাজিল থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন তেল (ভোজ্য) নিয়ে বিদেশী জাহাজ এম, টি এমআর পেগাসাস সোমবার বিকেলে মংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় ভিড়েছে। অথচ বন্দর চ্যানেলের আউটারবার এলাকায় নাব্যতা কম থাকায় ১০ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) এ জাহাজটি বন্দরের মুল চ্যানেলে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে বন্দর চ্যানেলে সাড়ে ৭ মিটার গভীরতা থাকায় ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন ওই জাহাজটিকে বাধ্য হয়েই আউটারবারের বাহিরে ফেয়ারওয়েতে রেখে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে। এতে কয়েকগুণ (৩ গুন) বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারে। জাহাজটি বন্দর চ্যানেলের আউটারবার হয়ে হাড়বাড়িয়া কিংবা চ্যানেলের অন্য কোন বয়াতে রাখা গেলে খরচ অনেক কম হতো।

ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম আরও জানান, 'জাহাজটি হতে ১১ হাজার ৭শ মে.টন তেল খালাসের পর বাকী তেল চট্ট্রগাম ও ভারতের হলদিয়া বন্দরে খালাস হবে। দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় ধরে শিপিং এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা আউটারবার এলাকায় ড্রেজিংয়ের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে বড় বড় জাহাজগুলো ফেয়ারওয়েতে রেখেই পণ্য খালাস করতে হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আউটারবারের (ফেয়ারওয়ে থেকে হিরণপয়েন্ট পর্যন্ত) ৭/৮ নটিক্যাল মাইল নৌপথ খনন করা হলে এ সমস্যা সমাধান হবে এবং বন্দরের অধিক ড্রাফটের বড় বড় জাহাজ এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় অনেকেই এ বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছেন।'

এ বিষয়ে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার মোহাম্মদ দুরুল হুদা বলেন, বর্তমানে সাড়ে ৭ মিটারের গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে। আউটারবার এলাকায় ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ড্রেজিং শেষ হলে ১০ মিটারের জাহাজ বন্দরে অনায়াসে ভিড়তে পারবে।

 

জাতীয় এর আরও খবর